২৯ টি গরু ও ২২ কেজি গাঁজা সহ বিএসএফের জালে দুই পাচারকারী!

Web Desk: ফের সীমান্তে বিএসএফের জালে দুই পাচারকারী। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের তৎপরতায় বড়সড় পাচার রুখে দিল। গতকাল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীর ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের খাসমহল ও চর ভদ্রা এবং বহরমপুর সেক্টরের চর মেঘনায় বিএসএফের ১৪১ নং ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা  পৃথক তিনটি অভিযানে ২৯ টি গবাদিপশু এবং ২২ কেজি গাঁজা সহ দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিএসএফ জানিয়েছেন, সাফিরুল শেখ নামের জলঙ্গী চরকাকমারীর এক পাচারকারী খাসমহল দিয়ে ও নাহারুল শেখ নামের অপরজন চর ভদ্রা দিয়ে গবাদি পশুগুলি বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে ঘন পাটক্ষেতের আড়াল দিয়ে যাচ্ছিলো। সে সময় বিএসএফের কর্তব্যরত জওয়ানরা তাড়া করে ধরে ফেলে তাদের। অন্যদিকে বহরমপুর সেক্টরের চর মেঘনা সীমান্ত দিয়ে একদল পাচারকারী গাঁজার প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছিলো। বিএসএফ শূন্যে গুলি চালাতেই গুলির শব্দে তারা গাঁজা ভর্তি প্যাকেট গুলি ফেলে পালিয়ে যায়৷ এরপরেই বিএসএফের জওয়ানেরা ওই গাঁজা‌ গুলো উদ্ধার করে। 
Reporter Aniruddha Benerjee

করোনায় মারা গেলেন চ্যাটার্জিহাট থানার সাব ইনস্পেক্টর, হাওড়া জেলায় প্রথম মৃত্যু পুলিশের

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হল হাওড়ায়। এ পর্যন্ত হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের  বহু পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। মৃত গৌতম পট্টনায়ক (৪৭) চ্যাটার্জিহাট থানার সাব ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। আজ সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি।গোটা হাওড়া জেলাতেই এই প্রথম কোনও পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হল। গত পাঁচদিন আগে জ্বর নিয়ে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গৌতমবাবুকে। সেখানে কোভিড ১৯ টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর তিনি একরকম জোর করেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে আসেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাকিন্তু জ্বর না কমায় তাঁর বাড়ির লোকজন তমলুকের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে। কিন্তু সেখানেও থাকতে চাননি গৌতমবাবু। ফের বাড়ি চলে আসেন। এরপর আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনদিন ধরে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এই হাসপাতালে ফের তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা হলে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। জানা যায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।গৌতমবাবুর পৈত্রিক বাড়ি পাঁশকুড়ায়। সেখানে তাঁর বাবা-মা ও এক দাদা রয়েছেন। চাকরির জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে হাওড়ায় বেলেপোল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন গৌতমবাবু। তাঁর ছেলে এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। মেয়ে পড়াশোনা করেন বেঙ্গালুরুতে। গৌতমবাবুর ছোটভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার পুলিশমহলে শোকের ছায়া নেমেছে।জানা গেছে, চ্যাটার্জিহাট থানার আরও একজন সাব ইনস্পেক্টর করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কমিশনারেট এলাকায় এখন পর্যন্ত ১০৭ জন পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গোটা হাওড়াতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে।  আর সামনের সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে বলে পুলিশকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই সাঁতরাগাছি, শিবপুর, জগৎবল্লভপুর, দাসনগর, ও বেলুড় থানার পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ডোমজুর ও ব্যাটরা থানার পুলিশও। সংক্রমিত হয়েছেন পুলিশ লাইনে থাকা কয়েকজন পুলিশ কর্মীও। তবে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন তাঁরা। শুধু বাড়ি ফেরা হল ‌না চ্যাটার্জিহাট থানার সাব ইনস্পেক্টর গৌতমবাবুর।

উত্তরপ্রদেশে টাকার বিনিময়ে মিলছে করোনা নেগেটিভের সার্টিফিকেট, অভিযুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল

দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এর মাঝেই উত্তরপ্রদেশের একটি হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে করোনা নেগেটিভের রিপোর্ট দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মীরাট (Meerut) -এর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই ওই হাসপাতালের মালিকের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। পাশাপাশি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সেটিকে বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এলে রোগীর পরিবারকে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তাই মীরাটের ওই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করোনা নেগেটিভের সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছিল। এরপরই হাসপাতালের ম্যানেজারের বক্তব্য-সহ টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, করোনা (Corona) পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট নিলে হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ আড়াই হাজার টাকার মধ্যে মিটে যাবে বলে মন্তব্য করছে ম্যানেজার। রোগীর আত্মীয়রা ২ হাজার দিয়ে বলছে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে বাকি টাকা দিয়ে দেবে।এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই ওই হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মীরাট জেলা প্রশাসন। এপ্রসঙ্গে জেলাশাসক অনিল ধিংড়া বলেন, মালিকের নামে মামলা দায়ের করার পাশাপাশি ওই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সেটিকে বন্ধ করা হয়েছে। এই ধরনের কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতে ঢোকার অনুমতি দেয়নি সরকার, স্ত্রীকে পাকিস্তানে রেখেই দেশে ফিরতে হল যুবককে

লকডাউন মানুষকে অনেক কিছু দেখিয়েছে। অনেকের সম্পর্কই চাপানউতোরের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। লকডাউনের কারণে স্বামী ও স্ত্রী দেশের দুই প্রান্তে আটকে পড়েছে, এমন খবরও সামনে এসেছে। কিন্তু তাই বলে দু’টি আলাদা দেশে? এমনই ঘটনা ঘটেছে লীলারাম নামে এক যুবকের সঙ্গে। লকডাউনের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়েছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। কিন্তু লকডাউন খোলার পর স্ত্রীকে রেখে দেশে ফিরে আসতে হল তাঁকে।ব্যাপারটা কী? ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রীকে নিয়ে লীলারাম পাকিস্তানের মিরপুরে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। অসুস্থ শাশুড়িকে দেখতে গিয়েছিলে তাঁরা। তখন কি আর তিনি জানতেন স্ত্রীকে পাকিস্তানেই রেখে আসতে হবে? এমনিতেই লকডাউনের কারণে মাস খানেক পাকিস্তানে আটকে ছিলেন তাঁরা। আর যখন দেশে ফেরার সময় হল, লীলারামকে একাই ফেরত আসতে হল। কারণ তাঁর স্ত্রীর ভারতীয় পাসপোর্ট নেই। ভারতের নাগরিক নন তিনি। তাই ভারত সরকার লীলারাম এবং তাঁর তিন সন্তানকে ফিরে আসতে অনুমতি দেয়। কিন্তু তাঁর স্ত্রী জনতা (৩৩) ভারতে আসার অনুমতি পাননি। গত সপ্তাহে স্ত্রীকে ছাড়াই দেশে ফিরেছেন লীলারাম।তিনি জানিয়েছেন, “আমরা ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাস-সহ সব জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু জনতাকে ফিরে আসার অনুমতি মেলেনি। স্ত্রীকে রেখে সন্তানদের নিয়ে আমি একাই ভারতে ফিরে আসি।” ১৯৮৬ সালে ভারতে আসেন লীলারাম। নাগরিকত্বও পান। ১২ বছর আগে জনতাকে বিয়ে করেন তিনি। লং টার্ম ভিসায় ভারতে ছিলেন জনতা। তাঁর নাগরিকত্ব নেই। কয়েক মাস আগে ‘নো অবজেকশন টু রিটার্ন টু ইন্ডিয়া’ ভিসা নিয়ে ৬০ দিনের জন্য পাকিস্তানে যান তিনি। ফ্যামিলি ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় দূতাবাস লীলারাম ও তাঁর তিন সন্তানকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন। কিন্তু জনতা অনুমতি পাননি। লীলারামের বক্তব্য, বহুদিন ধরেই জনতার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও নাগরিকত্ব পাননি জনতা। আর তার ফলে এখন তাঁকে পাকিস্তানে থাকতে হচ্ছে।সীমন্ত লোক সংস্থার সভাপতি হিন্দু সিং সোধা বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। ভারত সরকারের কাছে জনতার ভিসা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছি।” তিনি আরও বলেন, এলটিভিতে ভারতে অবস্থানরত একজন পাকিস্তানি নাগরিক তিন মাসের জন্য রিটার্ন ভিসা পেতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে যদি সে না ফিরে আসে, তবে তাকে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সোধা বলেন, যে সমস্ত ব্যক্তিকে মানবিক কারণে ভারতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। নিজেদের দোষে তাঁরা পাকিস্থানে নেই। লকডাউনের কারণে আটকে পড়েছেন। সেটি বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছেন সোধা।

ভারতের পথেই হাঁটছে আমেরিকা, নিষিদ্ধ হচ্ছে টিকটক-সহ একাধিক চিনা অ্যাপ

টিকটক-সহ একাধিক চিনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতের দেখানো পথেই হাঁটছে আমেরিকা। সোমবারই ফের করোনা ভাইরাসের ফলে আমেরিকা ও বিশ্বজুড়ে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার জন্য চিনকে দায়ী করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার কিছুক্ষণ পরেই আমেরিকার স্বরাষ্ট্রসচিব মাইক পম্পেও জানিয়ে দিলেন, টিকটক (TikTok)-সহ চিনের একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ মার্কিন মুলুকে নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস।সোমবার আমেরিকার একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মাইক পম্পেও (Mike Pompeo) বলেন, ‘আমি এখনই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও আলোচনা করছি না। কিন্তু, পুরো বিষয়টাই আমাদের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।’কিছুদিন ধরেই মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যরা দেশে বসবাস টিকটক ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরির মাধ্যমে চিন জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করবে বলে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। তাঁরা দাবি ছিল, ‘চিনের আইন অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি কোম্পানিকে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কথা মেনে চলতে হবে। দেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে সাহায্য করতে হবে। তাই চিনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্যবহারকারী মার্কিন নাগরিকদের তথ্য বেজিংয়ের কাছে পৌঁছলে তা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক’। ইতিমধ্যেই মার্কিন আধিকারিকরা যাতে টিকটক অ্যাপ না ব্যবহার করে তার জন্য দুটি বিল কংগ্রেসের বিচারধীন। তবে লাদাখের ঘটনার পর ভারত যখন টিকটক-সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে তখন এই বিল পাশের আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। আর ট্রাম্প প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে সোমবার মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিবের কথায় তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।এদিকে ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পরেই টিকটক জানায় কিছুদিনের মধ্যেই তারা হংকংয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। চিনের সরকার তাদের কাছে হংকংয়ে বসবাসকারী নাগরিকদের তথ্য চেয়েছিল বলে খবর। সেই কারণেই তারা সেখানে ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হাওড়া-শিয়ালদহ শাখার সব স্টেশনে নাও থামতে পারে লোকাল ট্রেন! বড় সিদ্ধান্ত রেলের

(Howrah), শিয়ালদহ (Sealdah), খড়গপুর শাখার বেশ কিছু স্টেশনে আর নাও দাঁড়াতে পারে লোকাল ট্রেন। আর্থিক সংকট কাটাতে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। রেলবোর্ড ঠিক করেছে যে, অলাভজনক স্টেশনগুলিতে আর ট্রেন দাঁড়াবে না। এমনকী রাজনৈতিক চাপে যে স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ায় তা-ও তুলে নেওয়া হবে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত আগে কখনও নেওয়া হয়নি। তাই নতুন টাইম টেবিলকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।জানা গিয়েছে, নতুন এই টাইম টেবিল প্রকাশের আগে প্যাসেঞ্জার ডাটা নেওয়া হয়েছে। দেখা হচ্ছে, কোন ট্রেনে কতজন যাত্রী উঠছেন বা নামছেন। যাত্রার সময়ই বা কত। সংগৃহীত তথ্য খতিয়ে দেখে ট্রেন চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। যাত্রী সংখ্যা তেমন না থাকলে স্টেশন থেকে তুলে নেওয়া হবে ট্রেন। রাজনৈতিক চাপে দেওয়া স্টপেজও তুলে নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মানা হবে না কোনওরকম সুপারিশ। পূর্ব রেলের অপারেশন বিভাগের এক কর্তার কথায়, “নির্দেশে সব যাত্রীবাহী ট্রেনের কথা বলা হয়েছে। ফলে তার মধ্যে এসে পড়ছে লোকাল ট্রেনও। যদিও শহরতলির ট্রেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নির্ধারিতভাবে বলা হয়নি।”মনে করা হচ্ছে রেলের এই সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কমানো যাবে। ট্রেনের গতি বাড়বে, সময়ও সাশ্রয় হবে। হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়গপুর শাখায় বেশ কিছু স্টেশন রয়েছে যেখানে যাত্রী খুব কম। একটি লোকাল ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আবার চলতে শুরু করলে যে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয় তা সাড়ে তিনশো টাকার বেশি। মেল এক্সপ্রেসে আরও বেশি। ফলে খরচ কমাতে নতুন সিদ্ধান্ত বেশ কার্যকর হবে বলে মনে করেছেন কর্তাদের অনেকেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার সময় খতিয়ে দেখা হবে সাপ্তাহিক ও দ্বি-সাপ্তাহিক ট্রেনগুলির বাস্তব চিত্র। তাতেই সিদ্ধান্ত হবে ট্রেনগুলি থাকবে, না বাতিল হয়ে যাবে। সাপ্তাহিক ট্রেনের চাহিদা থাকলে তা আবার দৈনিকও করা হাতে পারে, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিকল্পনা অনেক আগের বলে জানা গিয়েছে। নতুন এই টাইম টেবিলে ১০৯টি রুটে যে ১৫১ টি বেসরকারি ট্রেন চলার কথা ঘোষণা করেছে রেল, সেই ট্রেনের সময়সূচিও ঢোকানো হবে বলে জানা গিয়েছে। রেলের এই সিদ্ধান্তে দ্বিমত দেখা দিয়েছে আধিকারিকদের মধ্যে।

প্রথম দিনেই বাজিমাত! মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রেকর্ড গড়ল সুশান্তের ‘দিল বেচারা’ ছবির ট্রেলার

মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব রেকর্ড ভেঙে দিল ‘দিল বেচারা’ সিনেমার ট্রেলার। অ্যাভেঞ্জার্সদের পিছনে ফেলে গড়ল নয়া রেকর্ড! সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) শেষ ছবি। প্রিয় অভিনেতা আর ইহজগতে নেই। অতঃপর অনুরাগীদের আবেগ-উন্মাদনার অন্তও নেই! সোমবারই বিকেল ৪টে নাগাদ ‘দিল বেচারা’র ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। আর তার একদিন কাটতে না কাটতেই যাবতীয় রেকর্ড ভাঙল এই ছবির প্রথম ঝলক। সুশান্তের প্রাণোচ্ছ্বল, হাসিখুশি মুখ দেখে অজান্তেই ভিজেছে ভক্তদের চোখের কোণ। “কেন এত তাড়াতাড়ি চলে গেলে, তোমার তো আরও অনেক ছবি উপহার দেওয়ার ছিল সুশান্ত?” ট্রেলার দেখে ভগ্নহৃদয়ে এই প্রশ্নও উঁকি মেরেছে বইকী!৬ জুলাই ফক্স স্টার হিন্দির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে ‘দিল বেচারা’ ছবির ট্রেলার। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হলিউডের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (Avengers: Infinity War) এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (Avengers: Endgame)-এর ট্রেলারের দর্শক সংখ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েছে সুশান্তের ‘দিল বেচারা’। লাইক-কমেন্টের সংখ্যাও নেহাত কম নয়! ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর ট্রেলার মুক্তির প্রথমদিনে ৩৬ লক্ষ লাইকের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া সিনেমার ট্রেলারের খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছে সুশান্তের ‘দিল বেচারা’ (Dil Bechara)।অন্যদিকে, সুশান্তের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ না খুললেও বলিউডের প্রথম সারির তারকারা কিন্তু অভিনেতার শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’র ট্রেলার শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোমবারই পরিচালক মুকেশ ছাবরা ট্রেলার মুক্তির পোস্ট শেয়ার করে আবেগঘন এক পোস্ট করেছেন বন্ধু সুশান্তের জন্য। লিখেছেন, “গত ২ বছরে অনেক ওঠা-পড়া, অনেক আনন্দ-দুঃখের পথ অতিক্রম করে অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছে সুশান্তের স্বপ্নের ছবি ‘দিল বেচারা’। আমার শেষ নিঃশ্বাস অবধি তুমি আমার মধ্যে বেঁচে থাকবে সুশান্ত।” ট্রেলার দেখে আবেগঘন পোস্ট করেছেন সুশান্তের প্রাক্তন প্রেমিকা কৃতি শ্যানন, শ্রদ্ধা কাপুর, কার্তিক আরিয়ান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, অনুষ্কা শর্মা, মনোজ বাজপেয়ী, সুস্মিতা সেন-সহ আরও অনেকেই। সুশান্তের উপস্থিতি যে তাঁদের মনে আজীবন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোই থাকবে, সেকথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

সংক্রমণ রুখতে কড়া লকডাউনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের, জেনে নিন ছাড় মিলবে কোন কোন ক্ষেত্রে

আনলক ১-এর (Unlock1) শুরু থেকেই উর্ধ্বমুখী করোনা (Corona Virus) গ্রাফ। দ্বিতীয় পর্যায়ের আনলকে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়েছে হু হু করে। সেই কারণেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ফের কড়া লকডাউন জারির ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল প্রশাসন। মঙ্গলবার সেই সিদ্ধান্তেই শিলমোহর পড়ল। নবান্নের তরফে জানানো হল, উত্তর ২৪ পরগনায় ফের জারি হচ্ছে কড়া লকডাউন। এখন বৈঠক চলছে কলকাতা-সহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা নিয়ে।জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে লকডাউন সম্পর্কিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে জেলাশাসকের দপ্তরে। যেখানে বলা হয়েছে যে, কোন কোন বিষয়গুলি লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, বন্ধ থাকবে বাজার, তবে অত্যাবশ্যকিয় পণ্যের একক দোকান যেমন মুদি, সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ফল, ওষুধ- এগুলির ক্ষেত্রে মিলবে ছাড়। সেক্ষেত্রেও বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়। হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে চা-সহ রাস্তার ধারের সমস্ত খাবারের দোকান। আনলক ২-এ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল জনজীবন। রাস্তায় নেমেছিল বাস-অটো। পুনরায় লকডাউনে উত্তর ২৪ পরগনার জন্য সম্ভবত ফের বন্ধ করে দেওয়া হবে গণপরিবহণ। শুধু জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে বাস বা অটোয় চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে। অফিস চালু রাখার ক্ষেত্রে কর্মী সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২০ শতাংশ। ছাড়ের আওতায় ব্যাংক, এটিএম, পোস্টাল, ফায়ার ও সিভিল সার্ভিস। দমদম বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচলে ক্ষেত্রেও ফের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।পাশাপাশি, ধর্মস্থানগুলিও সম্ভবত বন্ধ রাখা হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্মাণকাজ চলতে পারে, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। সেইসঙ্গে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব পালন আবশ্যিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দু’দিন সময় দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে ফের কড়া লকডাউনের নিয়ম লাঘু হবে উত্তর ২৪ পরগনায়। জারি থাকবে ১৪ দিন। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

টাকা নেই, জুনিয়র ডাক্তারদের বেতন বন্ধের নোটিস কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে

করোনা পরিস্থিতিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে (Calcutta Medical College) কোভিড হাসপাতাল হিসাবে ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, কোভিডের সঙ্গে অন্য রোগীদেরও পরিষেবা দিতে হবে। তা খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছিল স্বাস্থ্যভবন। কিন্তু তার মধ্যেই বিতর্ক বাড়াল, মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন ও পিজিটিদের বেতন বন্ধের নোটিস। বেতন দেওয়া হবে না তাঁদের জানিয়ে নোটিস টাঙিয়েছে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। যা ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা। কিন্তু কেন বেতন দেওয়া হবে না? তার কারণ হিসাবে মেডিক্যাল কলেজ জানিয়েছে, তাদের কাছে টাকা নেই। টাকা এলে বেতন দেওয়া হবে। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষের যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা।বিক্ষুব্ধ জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, আন্দোলন বন্ধ করার জন্যই এই নোটিস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। উল্লেখ্য, কোভিডের সঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অন্য রোগীদেরও পরিষেবা দেওয়া হোক। এই দাবিতে গত ১ জুলাই আন্দোলন শুরু করেন। জুনিয়র ডাক্তাররা। হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডের সামনে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ। রেসিডেন্টস ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অর্চিষ্মান ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘স্বাস্থ্যভবন থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল আমাদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এমনকি ডা. প্লাবন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি আট কমিটির সদস্য তৈরি করে আমাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়েও জানানো হয়েছিল। কিন্ত কেউ আসেননি। কেউ দেখা করেননি।’ জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সমস্যার সমাধান করতে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে যান স্বাস্থ্যদপ্তরের ২ অধিকর্তা। কিন্তু কথা বলতে গিয়ে মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের ঘরে ঘেরাও হয়ে যান তাঁরা।বেতন বন্ধের সিদ্ধান্তে জুনিয়র ডাক্তাররা ভীষণ ক্ষীপ্ত। এই অবস্থা চলতে থাকলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, ‘এই আন্দোলন সম্পূর্ণ রূপে জুনিয়র ডাক্তারদের। আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ এদিকে, সূত্রের খবর, কোনওভাবেই জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মানতে নারাজ স্বাস্থ্যভবন। কোভিড হাসপাতাল হিসেবে চিহ্নিত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অন্য কোনও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

ড্রেনে পড়ে থাকা নবজাতক শিশুকে রাতভর পাহারায় পথ কুকুর!

Web Desk: ড্রেনে পড়ে থাকা এক ফুটফুটে নবজাতক শিশুকে রাতভর পাহারা দিলেন পথ কুকুর। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঘটনা। কুকুরের চিৎকারে একটি রাত প্রহরী শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাইটগার্ড একটি  সদ্যজাত শিশুকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ইওসি ইউনিটের পাশের ড্রেনে পড়ে ছিল নবজাতকটি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা সুইপার মিনতি নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনির আহমদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিল্ডিংয়ের পাশে পড়ে থাকা শিশুটিকে নাইটগার্ড ও সুইপার মিনতি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে শিশুটিকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে সকালে পুলিশের সহায়তায় উন্নত ‘চি’কিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই নাইটগার্ড বলেন “শিশুটির ওখানে একটি পথ কুকুর বারবার ড্রেনের দিকে তাকাচ্ছে আর ডাকছে। এবং অন্য কুকুরদের তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এরপরেই আমি কাছে যেতেই দেখতে পাই একটি শিশু ড্রেনের মধ্যে পড় রয়েছে। এরপরে আমি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।”

হালুয়াঘাট থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশুটি রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন ছিল। পরে সকালে শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাচ্চাটি সুস্থ্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশুটি মোটামোটি সুস্থ আছে, আরও চিকিৎ’সার প্রযোজনে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।  ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Reporter Aniruddha Benerjee