সোশ্যাল মিডিয়ার যোগসূত্রে থ্যালাসেমিয়া রোগীর জন্য রক্তদিলেন গৃহবধূ

Web Desk: সংকট কালে রক্তদিতে এগিয়ে এলেন গৃহবধূ। রক্তদান আন্দোলন বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ ব্লাডমেটস্ এর মধ্যস্থতায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দশম শ্রেণীর ছাত্র বছর পনেরর কিশোর অনীশ মন্ডলকে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদিলেন গড়িয়ার বাসিন্দা ইন্ডিয়া কার্বন লিমিটেডের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্য সঞ্জীব জানার স্ত্রী অনিমা জানা। বুধবার রাতে রক্তের প্রয়োজনে ব্লাডমেটস্ গ্রুপের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় সঞ্জীব জানাবাবুদের সাথে। পরিকল্পনা মতো বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুর কমান্ড হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান করেন অনিমা জানা। রক্ত গৃহীতা অনীশের পক্ষ থেকে অনিমা জানাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। আর নিজের স্ত্রীর এই কাজে সবচেয়ে বড় উৎসাহ দাতা এবং ৩৩ বার রক্তদান করা অনিমার জানার স্বামী সঞ্জীব জানা স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য এটাই ছিল অনিমা জানার প্রথম রক্তদান। অনিমা জানা জানান, রক্তদিতে পেরে তিনি খুশি এবং এরপর তিনি নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্ত দেওয়ার চেষ্টা করবেন। Reporter Aniruddha Benerjee

প্রথমবার একই ফ্রেমে দুই সাংসদ নুসরত-মিমি, প্রকাশ্যে ছবির ফার্স্ট লুক

Web Desk: এই প্রথম একই ফ্রেমে টলিউডের দুই অভিনেত্রী সাংসদ  নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তী। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে লকডাউন কাটিয়ে আগেই অনুমতি দিয়েছে সিরিয়ালের শ্যুটিং-এ। এবার শুরু হল সিনেমার শ্যুটিং। পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষের SOS Kolkata ছবিতে প্রথমবার একসঙ্গে যশ-মিমি-নুসরত। বুধবার থেকেই শ্যুটিং শুরু হল। সাংসদ হওয়ার পর এই প্রথম একসঙ্গে শ্যুটিং ফ্লোরে নুসরত-মিমি।

ওয়ান ছবির পর এই ছবিতে ফের একসঙ্গে যশ-নুসরত। অন্যদিকে গ্যাংস্টার,টোটাল দাদাগিরি,মন জানে না’র পর আবারও মিমির সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে যশ দাশগুপ্তকে। গত সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হয় ছবির শুভ মহরত। সেখানে যশ-নুসরত হাজির থাকলেও বিশেষ কারণে উপস্থিত ছিলেন না মিমি চক্রবর্তী।  কলকাতায় সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এই ছবির চিত্রনাট্য। নাম ও ছবির ফার্স্ট লুক পোস্টারও সেই কথাই বলছে। করোনা সংক্রান্ত সব সুরক্ষা বিধির কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে চিত্রনাট্য। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এই অ্যাকশন ফিল্ম ‘গান ফাইট’এর উপরেই জোর দেওয়া হল।
Reporter Aniruddha Benerjee

ফের বন্ধ হল পাহাড়ের দরজা,৩১ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি!

Web Desk: নিয়ম মেনে খুললেও বেশিদিন স্থায়ীত্ব হল না। ফের দরজা বন্ধ হল পাহাড়ের। আনলক পর্বে পর্যটকদের জন্যে দরজা খুলে গিয়েছিল। কিন্তু গোটা রাজ্যের কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতে আবারও যখন শুরু হচ্ছে লকডাউন, তখন ফের পর্যটক যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল জিটিএ। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত পাহাড়ে যেতে পারবেন না কোনও পর্যটক।

বুধবার জিটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
মার্চ মাসে লকডাউন ঘোষণার আগে থেকেই পাহাড় পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে। তারপর লকডাউনের ধাক্কা সামলে জুন মাসের শেষে ফের পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তৈরি হয়েছিল পাহাড়। খুব অল্প সংখ্যায় হলেও পাহাড়ে যাচ্ছিলেন কেউ-কেউ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরাল হচ্ছে দেখে আবার পর্যটন বাতিলের ঘোষণা করা হল। এর জেরে পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে।
Reporter Aniruddha Benerjee

বলিউডে নেপোটিজম নিয়ে মুখ খুললেন রবিনা ট্যান্ডন! সই করা ফ্লিম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফিরিয়ে‌ দিতে হয় টাকা

Web Desk: বলিউডের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আকষ্মিক আত্মহত্যায় টালমাটাল সিনে জগত। একের পর এক রাঘব বোয়ালে চিত্র তুলে ধরছেন বলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রীরাই। এবার বলিউডে নেটোটিজম নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন। বলিউডের একপেশে মানসিকতা এবং পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অকপটে জানালেন নিজের অভিজ্ঞতা।

 সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ট্যান্ডন জানিয়েছেন, হিরোর বান্ধবীর তাঁকে( রবিনা ট্যান্ডনকে) পছন্দ না হওয়ায় সই হয়ে যাওয়ার পরও সব টাকা ফেরত দিয়ে সিনেমা ছাড়তে হয়েছিল! তিনি বলেন পুরো বলিউডই রাজনীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে বলেন সব ইন্ডাস্ট্রিতেই ভালো, মন্দ এই দুরকমের মানুষই রয়েছেন। সম্প্রতি একটি ট্যুইটে লেখেন, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা সবসময় পরিকল্পনা করেন কীভাবে আপনাকে ব্যর্থ করা যায়। কীভাবে আরও নীচে নামানো যায় সবসময় সেই পরিকল্পনা চলতেই থাকে। বলিউড হল ক্লাসরুমে চলা রাজনীতির মতো। সারাক্ষণ নোংরা খেলায় মত্ত।
Reporter Aniruddha Benerjee

একাধিক মহিলার সঙ্গে পরকীয়া বিজেপির শিক্ষক নেতার, কুকীর্তি ধরে ফেলতেই খুনের চেষ্টা স্ত্রীকে

Web Desk: স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলেন আরএসএস শিক্ষক সেলের এক নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে। ধৃতের নাম চিরঞ্জিৎ ধীবর। এই ঘটনায় বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “চিরঞ্জিৎ বিজেপি কর্মী। কিন্তু সে যদি কোনও অন্যায় করে থাকে, তাহলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অভিযোগ, বিজেপি প্রাথমিক শিক্ষক সেলের নেতা চিরঞ্জিত ধীবর পরকীয়ায় আসক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মহিলার সঙ্গে তাঁর সেই কথোপকথন ও আপত্তিকর ছবি ধরা পড়ে যায় স্ত্রী সন্ধ্যা সাহার কাছে। স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান চিরঞ্জিৎ ধীবর। ধরা পড়ার পর প্রতিবারই ক্ষমা চেয়ে নেন। পরকীয়ার ছবি, কথোপকথনের প্রমাণ লোপাট করে দেন। কিন্তু, তারপর আবারও অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁর স্বামী। এবারও এরকমই এক মহিলার সঙ্গে স্বামীর কথোপকথন, ছবি চালাচালি ধরা ফেলেন স্ত্রী সন্ধ্যা।
স্বামীর কুকীর্তি ধরার পর, ফোনটি কেড়ে নেন তিনি। তারপর সেই ছবি, কথোপকথন সব সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন সন্ধ্যা। অভিযোগ, এরপরই তাঁকে প্রথমে খুনের চেষ্টা করেন শ্বশুর তপন ধীবর। ছেলের মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের জন্য পুত্রবধূ সন্ধ্যাকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করেন তপন। সেইসময় চিৎকার শুনে ছুটে এসে সন্ধ্যাদেবীকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সন্ধ্যাদেবী। এরপরই গতকাল রাতে বেনাচিতির নতুনপল্লির বাড়িতে চড়াও হন চিরঞ্জিৎ ধীবর।
অভিযোগ, ফোন কেড়ে নেওয়ার পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখেননি চিরঞ্জিৎ। কাঁকসার ব্রাহ্মণগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চিরঞ্জিৎ বাবা, মা, ভাইয়ের সঙ্গে শিবাজি রোডের বাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে, স্ত্রী সন্ধ্যা ছিলেন বেনাচিতির নতুনপল্লির বাড়িতে। গতকাল রাতে কড়া নাড়ার আওয়াজ পেয়ে, দরজা খুলতে যান সন্ধ্যাদেবী। অভিযোগ, দরজা খোলা মাত্রই তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত চিরঞ্জিৎ। সন্ধ্যাদেবীর চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই তাঁকে উদ্ধার করেন।
খবর দেওয়া হয় পুলিসে। ফরিদপুর ফাঁড়ির পুলিস ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত চিরঞ্জীত ধীবরকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছেন গৃহবধূ সন্ধ্যা। আজ ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
Reporter Aniruddha Benerjee

দাবানলের দাউ দাউ করে জ্বলছে ইউক্রেন, নিহত ৬

Web Desk: দাবানলের শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে ইউক্রেন। আগুন নেভাতে কয়েকশ অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও উদ্ধার কর্মী পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই আগুনের গ্রাসে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।   মঙ্গলবার ইউক্রেনূর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্সেন আভাকভ এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্সেন জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের

লুগানক্সের জঙ্গলের দাবানলের আগুন নেভানোর জন্য আকাশপথে জলভর্তি বিমান পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্থলপথে চলছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও দমকলের যৌথ লড়াই। 

বিমানবাহিনীর মূখ্য আধিকারিক জানিয়েছেন , প্রাথমিকভাবে আগুনের লেলিহান শিখা দমাতে পেরেছিলেন, তবে তীব্র বাতাস ও তাপমাত্রা বৃদ্ধিও কারণে দাবানল পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইতোমধ্যে ৮০ হেক্টর (২০০ একর) বনভূমি পুড়ে গেছে। তবে স্থলপথে আগুন নিয়ন্ত্রণের নিয়ে আসতে বেশ কিছুটা ডেগ পেতে হচ্ছে। কারন ওই এলাকার কিছু অঞ্চল আংশিকভাবে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ও রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াইয়ের ফ্রন্টলাইনে ২ শ’রও বেশী ঘরবাড়ি ভষ্মীভূত হয়। আঞ্চলিক গভর্নর সারহিব হাইদাই রেডিও এনভি কে বলেন, সোমবার এই দাবানল শুরু হয়, উদ্ধারকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকদের সরিয়ে আনার চেষ্টা করে তবে কিছু প্রবীণ অধিবাসী এই আহবান প্রত্যাখান করেছেন।
Reporter Aniruddha Benerjee

লকডাউনে প্রয়োজন ছাড়া বেরোলেই তুলে নিয়ে যাবে কমান্ডো বাহিনী!

Web Desk: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে একমাত্র ভরসা সামাজিক দূরত্ব। আর সেই সামাজিক দূরত্ব শিকেয় তুলে খুল্লাম খুল্লা ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষেরা। এর জেরে বেড়েই চলেছে ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা। ফলে ফের লকডাউন জারি করেছে সরকার। 

এবার লকডাউন চলাকালীন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলেই তুলে নিয়ে‌ যাবে‌ কমান্ডো বাহিনী। করোনা রোধ করতে কেরলে পথে নামলেন কমান্ডো বাহিনী। এটাই দেশে প্রথম ভাইরাস কবলিত এলাকা মানুষের জনজীবন রক্ষার্থে পথে ব্ল্যাক বাহিনী। কেরলের তিরুবন্তপুরমের একটি উপকূলীয় গ্রামে হু হু করে ছড়াচ্ছিল করোনা। সেখানেই জোর কদমে চলছে করোনা পরীক্ষা, পাশাপাশি গোটা অঞ্চল ঘিরে ফেলেছেন প্রায় ২৫ জন কমান্ডো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুন্থুরা গ্রামে  প্রচার করা হচ্ছে যদি কেউ অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাড়ির বাইরে বেরন তাহলে কমান্ডোরা তাঁদের ধরে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যাবে।
Reporter Aniruddha Benerjee

প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করলেন টলিউডের অভিনেত্রী!

Web Desk: টলিউডের অভিনেত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করলেন তাঁর প্রেমিক। যাদবপুর থানায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন ২৬ বছর বয়সী ওই অভিনেত্রী। এর জেরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে টলিপাড়ায়। ইতিমধ্যেই পুলিশ নির্যাতিতা অভিনেত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ জুলাইয়। ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকায় ওই অভিনেত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ,চলে শারীরিক নির্যাতন। এরপরেই মোবাইল ফোনে অভিনেত্রীর অশ্লীল ভিডিয়ো রেকর্ডও করেন তিনি। কাউকে কিছু জানালে সেই ভিডিয়ো ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। গোটা ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, আত্মহত্যা করবার কথাও ভাবেন তিনি। যদিও এক বন্ধুর সূত্রে খবর পেয়ে এক মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা উদ্ধার করে তাঁকে। এরপর বুধবার রাতে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
Reporter Aniruddha Benerjee

ধর্ষণের পর অ্যাসিডে পুড়ানো মুখ, ক্লাসরুম থেকে উদ্ধার শিক্ষিকার অর্ধনগ্ন মৃতদেহ!

Web Desk: সকালে প্রাতঃভ্রমনে বেড়িয়ে নিখোঁজ হন শিক্ষিকা। দু’দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ক্লাসরুম থেকে উদ্ধার হল মুখ পোড়া অর্ধনগ্ন মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার অসমের উদালগুড়িতে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে।

জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই সোমবার ভোরে প্রাতঃ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন অসমের উদালগুড়ির বালিয়াপাড়া হাইস্কুলের ৫২ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা। এরপরেই নিখোঁজ হয়ে যান।‌ চারদিকে খোঁজ নিতে শুরু করলেও, কোনও তথ্য মেলেনি। ওই দিন বিকেলে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় পরিবারের তরফে। নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দুই পর স্থানীয় এক স্কুলের ক্লাসরুমের ভিতর থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাঁর মুখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছিল। পরনের পোশাক ছিড়ে ফেলে । অর্ধনগ্ন শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, শিক্ষিকাকে খুনের আগে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। তার পরে মুখ বিকৃত করে দেওয়া হয় অ্যাসিডে। শিক্ষিকাকে এমন নির্মম খুনের এই ঘটনা সামনে আসতেই শিউরে উঠেছেন সকলে।

  মঙ্গলবার রাতে উদালগুড়ির ইউএন ব্রহ্ম অ্যাকাডেমি স্কুল থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে। এরপরেই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে স্কুলের একটি ঘর থেকে শিক্ষিকার মৃতদেহ উদ্ধার করে। শিক্ষিকার বাড়ি থেকে ওই স্কুলের দূরত্ব বেশি নয়। আবার ওই স্কুল থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে কলাইগাঁও এক নম্বর সেনা শিবির। এর মধ্যে কী করে এমন খুন ঘটল, প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। অনুমান, মৃতদেহের পরিচয় গোপন করতেই তাঁকে ধর্ষণ করার পর তাঁর মুখ অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা অন্যান্য চিহ্ন দেখে শনাক্ত করেছেন ওই শিক্ষিকাকে। নিছকই কোনও অপরাধ, নাকি পুরনো শত্রুতার জেরে এমনটা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক বিভাগ।  অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনয়ালের নির্দেশে সিআইডি এবং ফরেনসিকের একটি দল উদালগুড়ি থানার পুলিশকে তদন্তে সহায়তা করার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। চলছে তদন্ত।
Reporter Aniruddha Benerjee

গোপনাঙ্গে লঙ্কাবাটা লাগানোর পরেও বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী!

Web Desk: সময়টা ১৯১৮ সালের মাঝামাঝি। কলকাতা গোয়েন্দা দপ্তরের অফিসে সেদিন দুপুরবেলা তুলকালাম কাণ্ড! স্পেশাল অফিসার গোল্ডি সাহেবের গালে সপাটে চড় কষিয়েছেন বছর ত্রিশের এক বন্দিনী। দ্বিতীয় চড়টি মারার আগেই অবশ্য তাঁর হাত চেপে ধরেছেন অফিসের অন্য কর্মীরা। সেই অবস্থাতেও ক্রুদ্ধা বাঘিনীর মত গর্জাচ্ছেন তিনি। “এত বড় স্পর্ধা তোমাদের? আমাদের দেশের মানুষ পরাধীন বলে কি কোন মান-সম্মান নেই? চিঠিটা যদি ছিঁড়েই ফেলবে তবে লিখতে বলেছিলে কেন?” তেজ দেখে তো সবাই একেবারে থ! জেলে তাঁর ওপর লাগাতার পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে অনশন করে আছেন তা প্রায় একুশ দিন হল। অথচ কোনও দুর্বলতা নেই, মনোবলও অটুট। এমনই দৃঢ়চেতা এই বাঙালি ঘরের বিধবা। ননীবালা দেবী, বাংলার প্রথম মহিলা স্টেট প্রিজনার।

১৯১৬ সালের প্রথম দিকে অনেক খানা তল্লাশির পর রিষড়ার এই মহিলা বিপ্লবীকে পেশোয়ার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে রাখা হয়েছিল কাশীর এক পুরনো জেলে। তাঁর ওপরে নানাভাবে অত্যাচার করেও বিপ্লবীদের বিষয়ে একটি কথাও বের করতে পারেননি কাশীর দুঁদে জেল সুপার জিতেন ব্যানার্জী। এমনকি জমাদারনীদের দিয়ে শরীরের গোপনাঙ্গে লঙ্কাবাটাও লাগানো হয়েছিল। কিন্তু টুঁ শব্দটিও বের করা যায়নি তাঁর মুখ থেকে। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁকে স্যাঁতসেঁতে আলো-বাতাস হীন এক আন্ডারগ্রাউন্ড সেলে একা আটকে রাখা হয় দিনের পর দিন। তবুও তাঁর মুখ থেকে একটি কথাও বের করা যায়নি। এর সঙ্গেই চালিয়ে গেলেন অনশন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় এরপর তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে।

জেল থেকে রোজকারের মত সেদিনও তাঁকে জেরা করার জন্য গোয়েন্দা অফিসে আনা হয়েছিল। সাহেব তাঁকে বারবার অনশন তুলে নেবার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি বলে বসলেন,“অনশন তুলে নিতে পারি একটি শর্তে। আমাকে বাগবাজারে শ্রীসারদা মা’র কাছে রেখে আসতে হবে।” শুনে সাহেব বললেন তা চিঠিতে লিখে দিতে। তিনি চিঠি লিখলেন। এরপর মুচকি হেসে সাহেব চিঠিটি নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিলেন বাজে কাগজের ঝুড়িতে। আর যায় কোথায়? তখনই ওঁর গালে পড়ল সপাটে এক চড়! এক সাধারণ কালো চামড়ার মেয়ের কি স্পর্ধা!

১৮১৮ সালে তিন নম্বর রেগুলেশনের ধারা প্রয়োগ হল তাঁর বিরুদ্ধে, রাজবন্দি হিসাবে প্রেসিডেন্সি জেলে চালান হলেন তিনি। বাংলার প্রথম রাজবন্দি তিনি। হাওড়া জেলার বালির এক সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। সেই সময়ের সামাজিক রীতি মেনে মাত্র এগারো বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯০৪ সালে স্বামী মারা গেলেন। বয়স তখন মাত্র ১৬। সেকালের আর পাঁচটা বাঙালি বিধবার মতো বাকি জীবনটা পুজো বা উপবাসে কাটিয়ে দেবার পাত্রী তিনি ছিলেন না। সামান্য লেখাপড়াও জানতেন, তাই ঠাঁই হলোনা শ্বশুর বাড়িতে। বাপের বাড়ীতে ভাইপো অমরেন্দ্র চ্যাটার্জি ছিলেন নামকরা বিপ্লবী, চরমপন্থী যুগান্তর পার্টির নেতা। তিনিই তাঁকে বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা দিলেন। শুরু হল ননীবালার জীবনের এক নতুন অধ্যায়।

কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন বিপ্লবী গুপ্ত সমিতির একজন নির্ভরযোগ্য সক্রিয় সহযোগী। দেশকে ভালোবেসে বিপ্লবীদের হয়ে তিনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতেন। নিপুণ দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্নও করতেন। অনেক কাছের মানুষও টের পেত না যে তিনি বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য। এক জায়গার নেতাদের নির্দেশ ও নানা দরকারী খবর অন্য জায়গায় বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন তিনি। এমনকি সংগৃহীত অস্ত্রশস্ত্র ও গোপনে বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। সেসময় থাকতেন রিষড়ায় এক ভাড়াবাড়িতে। সেখানে অনেকদিন লুকিয়ে রেখেছিলেন ভাইপো অমরেন্দ্র চ্যাটার্জিকে। ফেরারী অন্য বিপ্লবীদেরও আশ্রয় দিতেন সেই বাড়িতে। সারাদিন তকলিতে সুতো কেটে পৌঁছে দিতেন যারা পৈতে বানাতেন তাদের কাছে। বাল্যবিধবাদের সেটাই ছিল তখন একমাত্র জীবিকা। ঘুর্ণাক্ষরেও কেউ সন্দেহ করেনি তাঁকে।

ইতিমধ্যেই ১৯১৮ সালে ঘটে গেছে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভারত-জার্মান অস্ত্র ষড়যন্ত্রের ঘটনা। চারদিকে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। যুগান্তর দলের প্রধান বিপ্লবী বাঘা যতীন কাপ্তিপদায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা গেছেন। কলকাতাতে পুলিশি ধরপাকড়ের সময় অমরেন্দ্র চ্যাটার্জি পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে যান রামচন্দ্র মজুমদার। তাঁর হাতে একটি মাউজার পিস্তল এসেছিল কিন্তু তিনি সেটি কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন তা কেউ জানতো না। বিপ্লবীরা পড়লেন সমস্যায়, কীভাবে সেটার খোঁজ পাওয়া যাবে? জেলে ঢুকে রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে পিস্তলের খোঁজ আনতে চললেন দুঃসাহসী সেই মহিলা। সেদিনের সমাজে যা কেউ কল্পনাও করতে পারত না তাই করলেন তিনি। হিন্দু ঘরের বিধবা মহিলা শাঁখা সিঁদুর পড়ে একগলা ঘোমটা দিয়ে রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে স্বামীর সঙ্গে দেখা চললেন জেলে। সবার চোখে ধুলো দিয়ে পিস্তলের সন্ধান জেনে তা জানিয়ে দিলেন বিপ্লবীদের। এই খবর যথাসময়ে উঠলো পুলিশের কানে, গোয়েন্দারা উঠে পড়ে লাগল তার সন্ধানে। দু-চারবার আস্তানা বদলে একদম উধাও হয়ে গেলেন তিনি। বিস্তর খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তাঁর খোঁজ মিলল পেশোয়ারে। গ্রেপ্তার হবার সময় তিনি কলেরায় আক্রান্ত ছিলেন। সেই অবস্থায় তাঁকে তোলা হলো কাশীর জেলখানায়। অভিযোগ বেআইনি অস্ত্র রাখা, বিপ্লবীদের আশ্রয় দেওয়া এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ১৯১৬ সালে ধরা পড়ার চার বছরের মাথায় ১৯১৯ সালে মুক্তি পেলেন। অসুস্থ ভগ্নস্বাস্থ্য মহিলার তখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। এক পূর্বপরিচিতের অনুগ্রহে একটি কুঁড়ে ভাড়া পেলেন হুগলিতে। সুতো কেটে রান্নার কাজ করে কোনমতে আধপেটা খেয়ে তাঁর দিন কাটতে থাকে। সে সময় কেউ তাঁর খবর নেওয়ার প্রয়োজনটুকুও মনে করেনি। অবশেষে ১৯৬৭ সালে মৃত্যু এসে তাঁকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়। আজ আর কারও মনে নেই তাঁর আত্মত্যাগের কথা। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী।
Reporter Aniruddha Benerjee