ধর্মীয়স্থান খোলার অনুমতি পেলেও দর্শনার্থীদের জন্য এখনই খুলছে না তারাপীঠ মন্দির। আগে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সর্তকতামূলক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, তারপর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মন্দিরের দরজা। এমনই সিন্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে। তবে কখন বা কবে মন্দির খোলা হবে এবিষয়ে কোনো সিন্ধান্ত গ্রহণ হয়নি বলেও জানা গেছে কমিটির তরফ থেকে।
প্রসঙ্গত,গতকাল সাংবাদিক সম্মেলন করে, আগামী ১লা জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বার, গির্জা সহ সমস্ত ধর্মস্থানগুলি খোলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ধর্মীয়স্থানে ১০ জনের বেশি প্রবেশ করা যাবে না বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে অনুমতি মিললেও এখনই খুলবে না তারাপীঠ মন্দির। সতর্কতামূলক বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরই সকলের জন্য খুলে দেওয়া হবে মন্দির, বলে জানান মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, “তারাপীঠ মন্দির খোলার কোনও তারিখ আমরা এখনই বলব না । যদি সেইজন্য কয়েকদিন দেরিও যদি হয় তাতেও আমাদের কোনও তাড়াহুড়ো নেই ।”
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখার্জি জানান, মন্দির খোলার আগে দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে বিশেষ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনিয়ে আগামীকাল একটি মিটিং ডাকা হয়েছে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে। সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে, প্রাথমিকভাবে মন্দিরের ঢোকার ৩ টি গেটে স্যানিটাইজ়ার টানেল বসানোর চিন্তাভাবনা করা হয়েছে । তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে এই চিন্তাভাবনার কথা ইতিমধ্যেই চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে তারাপীঠ মন্দির কমিটি । স্যানিটাইজ়ার টানেল বসানো সহ প্রত্যেকটি দর্শনার্থীকে একটি প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে, এমন ভাবনাচিন্তার কথাও ভাবছে মন্দির কমিটি ।
রাজ্যে এসেই গোয়েন্দাদের জালে জেএমবি জঙ্গি। মুর্শিদাবাদের সুতি থেকে আব্দুল করিম নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের অন্যতম চক্রী এই জঙ্গি। ১২ জুন পর্যন্ত তার পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ব্যাঙ্কশাল আদালত।
হুগলির মাহেশে এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে রথযাত্রা হবে না। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা এবছর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট কমিটি। আজ হুগলির জেলাশাসক, শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্দির ট্রাস্ট কমিটি সূত্রে খবর, ঠিক হয়েছে, এবার রথে তোলা হবে না জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। তার বদলে পুজোর আচার হিসেবে নারায়ণ শিলাকে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। রথের সময় মন্দিরের পিছনে অস্থায়ী মাসির বাড়ি গড়ে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। আগামী ৫ জুন স্নান যাত্রা হবে মন্দিরের বারান্দায়। ২৩ জুন রথযাত্রা উপলক্ষে জনসমাগম এড়াতেই এই ব্যবস্থা।
সোমবার থেকে চালু হবে ফেরি সার্ভিস৷ আপাতত ৪০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ফেরি চলবে৷ সোমবার পরিস্থিতি দেখার পর ৬০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ফেরি চলবে৷ গত ২৩ মার্চ বিকাল পাঁচটায় হুগলি নদীতে শেষ ফেরি চলেছিল, তারপর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে কী কী সুরক্ষাবিধি মানা হবে ফেরিতে? প্রথমে ৪০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হবে সুরক্ষাবিধি মেনে কতটা ফেরি চলাচল নিরাপদ, তা দেখবেন জল পরিবহন নিগমের আধিকারিকরা তারপর পরিস্থিতি বুঝে আরও ৬০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে শুরু হবে ফেরি চলাচল পুলিসি নজরদারি থাকবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে প্রত্যেক যাত্রীর মুখে মাস্ক ও হাতে গালভস আবশ্যক তবে দফতরের কর্মীদের যাতায়াত ও কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়ে একটা অনিশ্চয়তা আছে লকডাউনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছাড় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৮ জন থেকে খুলে যাচ্ছে রাজ্যের সব সরকারি, বেসরকারি অফিস। খুলে যাবে জুটমিল, চায়ের দোকানও। অর্থাত্ কর্মস্থলে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আমজনতা কর্মস্থলে পৌঁছবেন কীভাবে, তা নিয়েই ধন্দ। কারণ লোকাল ট্রেন এখনই চালাতে নারাজ রাজ্য, সেক্ষেত্রে ভরসা একমাত্র বাসই। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ সুরক্ষা বজায় রাখতে বাসে গাদাগাদি করা যাবে না। বাসে যত সিট, ঠিক ততজনই যাত্রী উঠবেন। দাঁড়ানো যাবে না। সেই মোতাবেক খুবই অল্প যাত্রী উঠবেন বাসে। কিন্তু তাতে কি আদৌ জ্বালানির খরচ তুলতে পারবেন বাস মালিকরা। লোকসানের ভয়ে তাঁরা এখনই বাস চালাতে নারাজ। তার উপর রয়েছে একাধিক সুরক্ষাবিধি। বাস স্যাটিটাইজ করতে হবে, একজন যাত্রী উঠে যাওয়ার পর কনডাকটরকে সেই সিট স্যানিটাইজ করতে হবে, কোনও যাত্রীর কাছে পৌঁছতে পারবেন না কনডাকটর… শহরের রাস্তায় চলন্ত বাসে এত নিয়ম আদৌ কি মানতে পারবেন কেউ? তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে বাস মালিকদের মধ্যেও। এপ্রসঙ্গে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এ ভাবে বাস চালানো সম্ভব নয়। বাস ভাড়া না বাড়ালে বাস চালানো দুষ্কর হয়ে পড়বে। বাস শিল্পের সঙ্গে চালক, কন্ডাক্টর, মেন্টেনেন্স স্টাফ সবাই যুক্ত। যে যাত্রী সংখ্যা নিয়ে বাস চালানোর কথা বলা হচ্ছে তাতে চলা সম্ভব নয়। তারপর মেন্টেনেন্স, ডিজেলের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে ভাড়া না বাড়ালে বাস চালানো সম্ভব নয়।”
গোটা বিশ্ব জুড়েই অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা করোনা থেকে ইতিমধ্যে সেরে উঠছেন। তাঁদের মধ্যই আছেন একশো বছর বা তার বেশি বয়সের অনেকে। তবে এবার যে বৃদ্ধার কাণ্ড সামনে এল তা মনে হয় আগে শোনা যায়নি। করোনা মুক্ত হয়ে নার্সিংহোমের বেডে শুয়েই সশব্দে খুলে ফেললেন বিয়ারের বোতল। ম্যাসাচুসেটসের জেনি স্টেনা নামের ১০৩ বছরের এক মহিলা অসুস্থ হয়ে নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা যখন জানান তার করোনা পজিটিভের কথা, জেনি কোভিড-১৯ কি সেটা বুঝতে পারেননি। তারপর শুরু হয় তার চিকিৎসা। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে তিন সপ্তাহেই সুস্থ হয়ে ওঠেন জেনি। জেনি যে নার্সিংহোমে ছিলেন সেখানে আরও ৩৩ জন ভর্তি হন করোনা নিয়ে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। জেনিই প্রথম, যিনি এই নার্সিংহোম থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাও আবার ১০৩ বছর বয়সে। জেনে রাখা ভালো এক সময় জেনির অবস্থার অবনতি হতে শুরু করেছিল। তখন তাঁর পরিবারের সদস্যদের নার্সিংহোমে ডেকে পাঠানো হয়। এমনকি, শেষ বার জেনির সঙ্গে দেখা করার কথাও বলা হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকদের অবাক করে সুস্থ হয়ে ওঠেন জেনি। ১৩ মে নার্সিংহোমের তরফে ঘোষণা করা হয় জেনি করোনামুক্ত। জেনির সুস্থ হয়ে ওঠার আনন্দ উদযাপন করেন নার্সিংহোমের কর্মীরা। সুস্থ হয়ে ওঠার পর জেনি কি খেতে চান জানতে চাওয়া হলে নার্সিংহোম কর্মীদের তিনি বলেন, তার প্রিয় বিয়ার এনে দিতে। জেনির কথা মতো তাকে এক বোতল ঠান্ডা বিয়ার এনে দেওয়া হয়। নিজেই সশব্দে সেই বোতল খুলে চুমুক দেন। সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দিও হয়। এরপর জেনি ঠান্ডা বিয়ারের বোতলে চুমুক দেয়া ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হয় ও সাথেসাথে ভাইরাল হয়।
আরব সাগরে নতুন করে দুটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএমডি। এর মধ্যে একটি ইতিমধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী একদিনের মধ্যে এটি গবীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। দ্বিতীয় ঝড়টি রবিবার নাগাদ পরিণত হতে পারে নিম্নচাপে। এটি ভারতের উপকূলের কাছাকাচি এসে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম উপকূলের দক্ষিণভাবে এটি আসতে পারে। তবে প্রথম ঝড়টি ভারতের দিকে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এটি চলে যাবে ওমান ও ইয়েমেনের দিকে।যে আটটি ধাপে সাইক্লোনকে ভাগ করে ভারতের আইএমডি তার মধ্যে প্রথমটি হল এমন নিম্নচাপ। এটির উপরে নির্ভর করেই সাইক্লোন তৈরি হয়। দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি নিয়ে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এটি ৩১ মে–এর পর শক্তিশালী হতে পারে। তারপর জুন মাসের ৩ তারিখে এটি অতিগভীর নিম্নচাপ হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকের উপকূলে। আরব সাগরে নতুন করে দুটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএমডি। এর মধ্যে একটি ইতিমধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী একদিনের মধ্যে এটি গবীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। দ্বিতীয় ঝড়টি রবিবার নাগাদ পরিণত হতে পারে নিম্নচাপে।
লকডাউনের জেরে বিপর্যস্ত সরকারি-বেসরকারি বহু পরিষেবা। এই আবহে চতুর্থ দফার মেয়াদ ফুরোনোর আগেই শুক্রবার নবান্নে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী পরবর্তী পরিকল্পনা জানিয়েছেন। জানিয়েছেন, রাজ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে আগামী ১ জুন থেকে শর্তসাপেক্ষ প্রবেশ করা যাবে। বাসে আসন সংখ্যা অনুযায়ী যাত্রী তোলার ছাড়ও দিয়েছেন। আগামী ৮ জুন থেকে সরকারী-বেসরকারি অফিস খোলার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। রাজ্যে একদিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৭৭ জন। এই অবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন করছেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলি খোলার কথা ভাবছেন? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধিগুলুকে না ভঙ্গ করেই অর্থনীতির চাকা সচল করা ও পরিষেবাগুলিকে ফিরিয়ে আনাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের। কাজেই মধ্যপন্থা অনুসরণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন রাতে ট্যুইটারে লেখেন, একাধিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে রাজ্যকে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মদ্যোগকে ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। ধাপে ধাপে কাজ শুরু করাই এখন আমাদের অগ্রাধিকার। সরকারি কাজ শুরু হলে একে একে গণপরিষেবাগুলিকেও সচল করা যাবে।কিন্তু কর্মক্ষেত্রগুলিকে খোলার পথে প্রধান অন্তরায় পরিবহণের অভাব। সরকারি বেসরকারি সব অফিস খুললে কী ভাবে কাজে যাবেন কর্মচারীরা? রয়েছে সংক্রমণ ছড়ানোরও ভয়। পরিস্থিতি মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, বেসরকারি সংস্থাগুলি যতটা সম্ভব বাড়ি থেকেই কাজ করাক কর্মীদের। অফিস চালিয়ে নিয়ে যেতে কতটা লোকবল চাই তা সংস্থার কর্তৃপক্ষকেই স্থির করতে পরামর্শ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।