‘আর কখনও চিনা পণ্যের বিজ্ঞাপন করব না’, চিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন হরভজন সিং

দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে চিনা পণ্য বয়কটের আন্দোলনে শামিল ভাজ্জি।সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল বর্জন করা হোক চিনা পণ্য। স্মার্টফোন থেকে মুছে ফেলা হোক চিনা অ্যাপ। গত কয়েক দিন ধরেই চিনা সামগ্রী বয়কটের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। এবার ভারতের প্রথম তারকা হিসেবে এই আন্দোলনে শামিল হলেন হরভজন সিং। জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্ত থেকে তিনি আর কোনও চিনা প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন করবেন না।গত সোমবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লাদাখের ভারত-চিন সীমান্ত। গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে শহিদ হন একজন কর্ণেল এবং ১৯ জন ভারতীয় জওয়ান। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভারতীয়রা। কোথাও পোড়ানো হচ্ছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের ছবি-কুশপুতুল। তো কোথাও চিনা পণ্যের আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এককথায় চিনের বিরুদ্ধে দেশজুড়েই কার্যত যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহ। আর এমন পরিস্থিতিতে সুর চড়ান প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনারও।সম্প্রতি চিনা পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন ভাজ্জি। এবার তিনি বললেন, “আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার জন্য চিনকে বয়কট করার এটাই আদর্শ সময়। সবকিছুই ভারতে তৈরি করা সম্ভব। সেই ক্ষমতা ও যোগ্যতা আমাদের দেশের আছে। আমরা চাইলেই চিনা সামগ্রী ব্যবহার বন্ধ করতে পারি। ওরা যখন আমাদের জওয়ানদের আক্রমণ করছে, তখন ওদের জিনিস ব্যান করে দেওয়াই উচিত। কেন আমাদের টাকায় ওদের দেশ চালাতে দেব? যাঁরা বয়কটের ডাক দিয়েছে, আমি তাদের পাশে আছি।”একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, এরপর থেকে আর চিনা প্রোডাক্টের কোনও বিজ্ঞাপন করবেন না তিনি। তাঁর বিশ্বাস, আরও অনেক ব্র্যান্ড রযেছে। স্পনসর রয়েছে। তাই চিনা কোম্পানির প্রচার না করলেও সমস্যা হবে না ভারতের। হরভজন তো এগিয়ে এলেন। এবার দেখার তাঁর দেখানো পথে আর কোনও সেলিব্রিটি চিনা পণ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হন কি না।Developed Reporter Samrat Ghosh

খালি চোখে না, সানগ্লাস পরে বা এক্স-রে প্লেটের মধ্যে দিয়েও দেখা উচিত নয় সূর্যগ্রহণ, পরামর্শ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের

Web Desk: আগামীকাল চলতি বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে দেখা যাবে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। গ্রহণ নিয়ে মানুষের যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনই অনেক ভুল ধারণাও রয়েছে। গ্রহণ প্রত্যক্ষ করার সময় অনেকেই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন না। তাঁদের জন্যই বিশেষ পরামর্শ দিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘গ্রহণের সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকালে পাকাপাকি ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চোখ। তাই খালি চোখে একেবারেই সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়। এমনকী, সাধারণ সানগ্লাস, গগলস পরে বা এক্স-রে প্লেট দিয়েও দেখা উচিত নয়।  প্রদীপের কালি ফেলা কাচ দিয়েও গ্রহণ দেখা যাবে না। জলে তৈরি হওয়া সূর্যের প্রতিবিম্বের দিকে তাকানো যাবে না। ব্যবহার করা যেতে পারে ঝালাই করার লুকিং গ্লাস। কার্ডবোর্ডে ছোট ছিদ্র করে তার মাধ্যমে সাদা জায়গায় সূর্যের প্রতিবিম্ব তৈরি করে দেখা যেতে পারে। এছাড়াও আয়নাকে ছোট্ট ছিদ্রযূক্ত কালো কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে, এমনভাবে রাখতে হবে যাতে সূর্যের আলো সেই ছিদ্র থেকে প্রতিফলিত হয়ে সামনের দেওয়ালে পড়ে। এবং গ্রহণের প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠে। গাছের ছায়াতেও খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে। মাটিতে গাছের ছায়ার দিকে তাকালে দেখা যাবে সূর্যের একাধিক প্রতিচ্ছবি। সেক্ষেত্রে সূর্যের আলো আসার জন্য গাছের পাতার ফাঁক পিন হোল ক্যামেরার কাজ করে। সূর্যের দিকে তাকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের ফিল্টার যুক্ত গগলস। সেটা কারও কাছে থাকলে ব্যবহার করতে পারেন।’

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কী ধরনের গ্রহণ হবে, সেটা পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্বের উপর নির্ভর করে। চাঁদের কক্ষপথের আকার ডিম্বাকৃতি হওয়ায় পৃথিবীর সঙ্গে দূরত্ব সবসময়ই বদলাতে থাকে। আগামীকাল চাঁদ যে অবস্থানে থাকবে, তাতে সূর্যের চেয়ে এক শতাংশ ছোট মনে হবে। এই মহাজাগতিক ঘটনা বিরল। ফলে আগামীকালের গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পাবলিক আউটরিচ অ্যান্ড এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান অনিকেত সুলে জানিয়েছেন, ‘ভারতে যদি কালকের সূর্যগ্রহণ দেখা না যায়, তাহলে আরও ২৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ২০২২-এর ২৫ অক্টোবর ভারত থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। সেই গ্রহণ দেখা যাবে পশ্চিম ভারত থেকে। তাই কাল সতর্কতা অবলম্বন করেই গ্রহণ দেখা উচিত।’
Reporter Aniruddha Benerjee

অ্যাভিফাভিরকে হাতিয়ার করে করোনা যুদ্ধে জয়ের পথে ভারত, ওষুধ তৈরির ছাড়পত্র পেল Glenmark

dexamethasone
NewsBally webdesk

করোনা আতঙ্কে ত্রস্ত গোটা পৃথিবী। সারা পৃথিবীর ২০০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বড় আর্থসামাজিক সংকট এই বোধহয় প্রথম। গোটা পৃথিবীর ৮৪ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই করাল ভাইরাসে। মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষের। উদ্বেগ শুধু সেখানে নয়, আমাদের ভারতের মত অতি জনবহুল দেশে অতি দ্রুত বাড়ছে এই সংক্রমণ। সংক্রমিত দেশের তালিকাতে এই মুহূর্তে ভারত চতুর্থ। এ কথা কারও অজানা নয় যে এই রোগের ভ্যাকসিন আসতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। লকডাউন অনির্দিষ্টকাল চালানো অসম্ভব বলে ক্রমান্বয়ে গতি ফেরত আসছে জনজীবনে। পাল্লা দিয়ে রোজ বাড়ছে সংক্রমণের হার। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকাই মূলত দায়ী এই সংক্রমণ বিস্তারের জন্য। COVID-19-এর চিকিৎসাতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ আমাদের দেশে চলছে শুরু থেকেই। ইতিমধ্যে এই মাসের শেষে আসতে চলেছে রেমডিসেভির। যা হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসারত ব্যক্তিদের সুস্থতার হারকে ত্বরান্বিত করে বলে দাবি চিকিৎসক এবং গবেষকদের। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ আভিফ্যাভির অথবা অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে আসা স্টেরোয়েড জাতীয় ওষুধ ডেক্সামেথাজোনকে অব্যর্থ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমে আসা যাক আভিফ্যাভির প্রসঙ্গে। বস্তুত এটি হল একটু পরিবর্তিত ফ্যাভিপিরাভির ওষুধ। এটি মৌখিকভাবে অথবা ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন হিসেবে মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হয়। জাপানে এর ব্যবহার সর্বপ্রথম শুরু হয় ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধী হিসেবে। এটি আভিগান নামে জাপানে অতি সুপরিচিত। এই ওষুধটি RNA পলিমারেজ উৎসেচককে প্রতিহত করে, যা ভাইরাসের প্রতিলিপিকরণের জন্যে অতি আবশ্যক। এই ওষুধটি নির্বাচিত RNA ডিপেনডেন্ট RNA পলিমারেজ উৎসেচককে প্রতিরোধ করে। অপর একটি মতে, এই ওষুধ ভাইরাসের RNA-এর মারাত্মক ট্রান্সভার্শন মিউটেশন ঘটায়। যার ফলে অতি দুর্বল ফেনোটাইপ বিশিষ্ট ভাইরাস গঠিত হয়। ফ্যাভিপিরাভির আদপে একটি প্রো-ড্রাগ যা দেহজ বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে সক্রিয় ফ্যাভিপিরাভির-রাইবোফিউরানোসিল-৫-ট্রাইফসফেটে পরিণত হয়। মানুষের দেহে থাকা হাইপোজান্থিন গুয়ানিন ফসফোরিবোসাইলট্রান্সফারেজ (HGPRT) এই সক্রিয়করণে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি এই ওষুধ কোনওভাবেই মানুষের দেহের DNA বা RNA-কে প্রভাবিত করতে পারে না। ফলে মানুষের দেহে এর ক্ষতিকর প্রভাবের সম্ভবনা অতি সীমিত।

পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রায় ৯১% ক্ষেত্রে এই ওষুধ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় ফলপ্রসূ। COVID-19 রোগীদের ফ্যাভিপিরাভির প্রয়োগের পর CT স্ক্যান রিপোর্ট অসম্ভব ইতিবাচক। রাশিয়াতে এই ওষুধের প্রাথমিক প্রয়োগে ৩০০ জনের বেশি রোগী মাত্র ৪ দিনে প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রক অবিলম্বে এই ওষুধের প্রয়োগে ছাড়পত্র দিয়েছে। রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (RDIF) প্রধান কিরিল ডিমিট্রিভের মতে এই আভিফ্যাভিরের প্রয়োগেই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে রাশিয়ার জনজীবন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহতেই এই ওষুধের প্রায় ৬০,০০০ ডোজ পৌঁছে গেছে রাশিয়ার বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে। ভারতে গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিকাল কাজ করেছে এই ফ্যাভিপিরাভির নিয়ে। CSIR এর অধিকর্তা ড: শেখর ম্যান্ডে এই ওষুধের বিষয়ে খুবই আশাবাদী। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (DCGI) ছাড়পত্র মিলেছে। এবার গ্লেনমার্কের হাত ধরে আমাদের বাজারে আসছে এই ওষুধ। ১০টি করে ওষুধের ডোজের আনুমানিক দাম ভারতীয় মুদ্রায় হতে পারে ২,৫০০ টাকা।

কর্টিকো স্টেরোয়েড জাতীয় ওষুধ ডেক্সামেথাজোন নিয়েও সারা বিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে আলোড়ন। ইতিমধ্যে চ্যাডক্স ভ্যাকসিন নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা। তার মধ্যে আবার ডেক্সামেথাজোন নিয়ে তাদের ইতিবাচক ঘোষণা। তাদের গবেষণায় প্রকাশ যে, ভেন্টিলেশনে থাকা ১/৩ রোগীর মৃত্যু আটকাতে সক্ষম হচ্ছে এই ওষুধ। আবার অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা আছে এমন ১/৫ রোগীকে সুস্থ করে তুলছে এই ওষুধ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে সাধারণ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় এই ওষুধ কোনও ফল দিচ্ছে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমারজিং ইনফেকসাস ডিজিস ইন নাফিল্ড ডিপার্মেন্ট অফ মেডিসিন শাখার অধ্যাপক পিটার হরবির মতে, ডেক্সামেথাজোন হল COVID-19 বিরোধী প্রথম জীবনদায়ী ওষুধ। মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসায় এই ওষুধের সাফল্যে উৎসাহিত সারা বিশ্ব। যুক্তরাজ্যের মুখ্য বিজ্ঞান উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স জানিয়েছেন যে ডেক্সামেথাজোন হল প্রথম COVID-19 মৃত্যুহার হ্রাসকারী ওষুধ, এবং গবেষকরা যে দ্রুততার সাথে এর উপযোগিতা আবিষ্কার করেছেন, তাতে তিনি উচ্ছসিত। আমাদের ভারতেও অতি সুলভ এই ওষুধ, দাম যৎসামান্য।

ভেন্টিলেটরের প্লাগ খুলে কুলার চালাল পরিবার, সরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু 

আইসোলেশ ওয়ার্ডে Isolation Ward) ভীষণ গরম। তাই বাড়ি থেকে কুলার নিয়ে গিয়েছিলেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কি মুশকিল! কুলারের প্লাগ লাগানোর জায়গা কই! একটা মাত্র প্লাগপয়েন্ট, তাতেও কী যেন একটা প্লাগ-ইন করা। সেই প্লাগ খুলে কুলার চালিয়েছিলেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ওয়ার্ডে থাকা রোগীর মৃত্যু হল। কারণ, ভেন্টিলেটরের (Ventilator) প্লাগ খুলে চালানো হয়েছিল কুলার। রাজস্থানের কোটার (Kota) সরকারি হাসপাতালে এমন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷জানা গিয়েছে গত ১৩ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে চল্লিশ বছরের ওই ব্যক্তিকে মহারাও ভীম সিং হাসপাতালে ভরতি করা হয়। তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর করোনা (Covid-19) পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর ওই ওয়ার্ডে গত ১৫ তারিখ অন্য একজন করোনা সংক্রমিত হন। ফলে ওই রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।নতুন ওয়ার্ডে খুব গরম থাকায় রোগীর পরিজনরাই একটি কুলার নিয়ে আসেন  অভিযোগ, কুলার চালানোর জন্য কোনও বৈদ্যুতিন পয়েন্ট বা সকেট না পেয়ে রোগীর আত্মীয়রা ভেন্টিলেটরের প্লাগটিই খুলে নেন। এবং সেখানে কুলারের প্লাগ লাগিয়ে দেন। এর আধ ঘণ্টার মধ্যেই ভেন্টিলেটর কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের জানানো হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু রোগীর পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা করছেন না। তাঁদের প্রশ্ন করলেও জবাব মিলছে না। অভিযোগ, অনুমতি না নিয়েই তাঁরা হাসপাতালে কুলার আনেন। এদিকে রোগীর মৃত্যুর পর তাঁরাই চিকিৎসক এবং হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও খবর। Developed Reporter Samrat Ghosh

অদ্ধো গলাকাটা যুবকের জীবন ফিরিয়ে দিল পুলিশ

Web Desk: বসিহাট মহাকুমার বাদুড়িয়ার কানুপুর এলাকার ঘটনা।বাদুড়িয়া হাজরাতলার ফাঁকা মাঠ এর মধ্যে থেকে প্রায় শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় অর্ধমৃত যুবকের দেহ উদ্ধার হল। গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটে নাগাত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এক যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা দেখে এক যুবক ছটফট করছে তাই দেখে ভয় পায় কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি, কেউ আবার মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিল।তার পর পুলিশকে খবর দিলে বাদুড়িয়া থানার ওসি অনিল সাউ এর উদ্যোগে একদল পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ গাড়ি করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পাঠিয়েছে,ওই যুবকের চিকিৎসা চলছে। স্থানীয়রা ওই যুবককে শনাক্ত করে বছর ৩২ এর যুবকের নাম হাফিজুল বৈদ্য, ওই যুবকের বাড়ি বাদুড়িয়া থানার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে । কি কারণে ওহ যুবকের এই পরিনতি।তার শরীরের একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।ওই যুবক দুপুর বেলা ফাঁকা মাঠে কি করতে এসেছিল, তাহলে কি কেউ তাকে বাড়ি থেকে ডেকে ফাকা মাঠের মধ্যে এনে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে? না নিজে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ছিল?সবটাই তদন্তে নেমেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। ।ঘটনাস্থল থেকে যখন ওই যুবকের  উদ্ধার করে তখনো দেহে প্রাণ রয়েছে। তবে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা দাগ দেখতে পেয়েছে স্থানীয়রা। ঠিক কি কারণে ওই যুবকের রক্তাক্ত অবস্থায় কে এখানে পাওয়া গেল তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশ ও গ্রামবাসীরা। পুলিশ ওই যুবকের পরিচয় জানার পর পরিবার কে খবর পাঠিয়ে ডেকে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
Reporter Aniruddha Benerjee

আগামীকাল সূর্যগ্রহণ, কলকাতায় শুরু সকাল ১০.৪৬ মিনিটে, তুঙ্গ মুহূর্ত বেলা ১২.৩৫

Web Desk: আগামীকাল সূর্যের বলয়গ্রাস গ্রহণ। ঢাকা পড়বে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সেজন্যই একে অভিহিত করছেন গভীরতম গ্রহণ বলে। সূর্যের আলোকোজ্জ্বল গোলাকার অংশের সামান্যই দৃশ্যমান হবে এই গ্রহণে। উত্তরের দিকে উঠলে, ততটাই নাকি বেশি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে বলা হচ্ছে। কলকাতায় ৬৫ শতাংশ, দার্জিলিংয়ে ৭০ শতাংশ। কলকাতায় গ্রহণ শুরু হবে সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে। গ্রহণের তুঙ্গ মুহূর্ত বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে। শেষ দুপুর ২টো ১৭ মিনিটে।

রাজস্থানের ঘরসানা থেকে শুরু হবে বলয়গ্রাস, শেষ হবে দেহরাদুন পেরিয়ে উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠে। আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে গুজরাতের ভুজ থেকে। আংশিক গ্রহণ শেষ হবে অসমের ডিব্রুগড়ে। ভুজে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে। ডিব্রুগড়ে গ্রহণ শেষ হবে দুপুর ২টো ২৯ মিনিটে।

দীর্ঘতম দিন ২১ জুন। কাল ১৩ ঘণ্টা ৩১ মিনিটের দিন। দীর্ঘতম দিনে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বিরল ঘটনা। এই গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরও একটি কারণ এই যে, পরবর্তী সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে ২ বছর ৪ মাস পর। ২০২২-এর ২৫ অক্টোবর পরবর্তী গ্রহণ। এর পর সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ২০৩৪ সালে। ভারত ছাড়াও আগামীকালের বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে আফ্রিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপের কিছু অংশ ও অস্ট্রেলিয়ায়। কোনও এক জায়গায় গ্রহণ দেখা যাবে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা। ‘রিং অফ ফায়ার’ দেখা যাবে কঙ্গোয়। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সকাল ১০.২৬ মিনিটে কঙ্গোয় দেখা যাবে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা।

সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের আগে নানারকম কুসংস্কার, গুজবের কথা শোনা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। অনেকে বলতে শুরু করে দিয়েছেন, গ্রহণের ফলে করোনা ভাইরাস দূর হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এই গুজব। এমনও অনেকে বলছেন, অন্ত:সত্ত্বা মহিলাদের গ্রহণ দেখা উচিত নয়। এছাড়া গ্রহণের সময় তাঁদের সবজি কাটা চলবে না, কাপড় কাটা উচিত নয়, কাপড় সেলাই করা উচিত নয়, শুয়ে থাকা উচিত নয় এবং বাড়ির বাইরে যাওয়া উচিত নয় বলেও অনেকে মতপ্রকাশ করেছেন। আরও বলা হচ্ছে, গ্রহণ চলাকালীন ছুরি, কাঁচি, সূচের মতো ধারালো দ্রব্য স্পর্শ করা উচিত নয়।
Reporter Aniruddha Benerjee

এমন দিন আসবে যখন বাংলা এই সভাগুলিতে কে অংশ নেবে তা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। ” : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: সিওভিড -১৯ পরিস্থিতি যেখানে বাংলায় কথা বলতে দেওয়া হয়নি সে বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও কনফারেন্সকে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বলেছেন: "রাজ্য" এতটা দুর্বল নয় যে একক বৈঠক করতে পারে তার ভাগ্য সিদ্ধান্ত।

ভারতে আর ‘ফর্সা হওয়ার ক্রিম’ বিক্রি করা হবে না, জানাল জনসন অ্যান্ড জনসন

Web Desk: লন্ডন: ভারতে আর বিক্রি করা হবে না গায়ের চামড়ার রং সাদা করার ক্রিম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের অত্যাচারে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আমাদের কিছু পণ্যের নাম ও দাবি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে। আমাদের কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে দাবি করা হয়, আপনাদের ত্বকের স্বাভাবিক রং থাকার বদলে আমাদের ক্রিম ব্যবহার করে ত্বক উজ্জ্বল করা বা সাদা করা ভাল। তবে এটা বলা কোনওদিনই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। স্বাস্থ্যবান ত্বকই সুন্দর ত্বক। ভারতে আর পাঠানো হবে এই ধরনের ক্রিম। তবে ইতিমধ্যে যেগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি বিক্রি হবে।’

শুধু জনসন অ্যান্ড জনসনই না, ইউনিলিভার, প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল, ল’রিয়ের মতো সংস্থাগুলিও ভারতে তথাকথিত ফর্সা হওয়ার ক্রিম বিক্রি করে। এই ক্রিমগুলি মূলত মহিলাদের জন্যই। সংস্থাগুলি যে দাবি করে, সেটা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অনেকেই এই ধরনের ক্রিম বিক্রি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষই বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নিল জনসন অ্যান্ড জনসন। এ বিষয়ে অন্য সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ত্বক উজ্জ্বল ও সাদা করে বলে দাবি করা হয়, এমন ক্রিম প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৬,২৭৭ টন বিক্রি হয়। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না, কালো দাগ দূর হয়, ত্বকের যে কোনও খুঁত ঢেকে দেয়, এমন নানা দাবি করে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম বিক্রি হয়। তবে এবার আন্দোলনের চাপে হয়তো এই ধরনের ক্রিম বিক্রি বন্ধ হবে।
Reporter Aniruddha Benerjee

আগামীকাল ভারত সহ ৬টি দেশে সাইবার হামলা চালাতে পারে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা, সতর্কবার্তা সিঙ্গাপুরের সংস্থার

Web Desk: ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা। আগামীকাল করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রচারের আড়ালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ভারত সহ ৬টি দেশে সাইবার হামলা চালাতে পারে। এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সাইফার্মা।

সিঙ্গাপুরের এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই তারা বহু মানুষকে ই-মেল করে একটি ওয়েবসাইটে যেতে বলবে। এরপর নানা প্রলোভন দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য দিতে বলা হবে। এই হ্যাকাররা লাজারাস গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। তারা ভারত, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ব্রিটেনের ৫০ লক্ষেরও বেশি ব্যবসায়ী ও অন্য পেশার লোকজনের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হ্যাকাররা ইতিমধ্যেই জাপানে ১১ লক্ষ ব্যক্তির, ভারতে ২০ লক্ষ ব্যক্তির এবং ব্রিটেনে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ১,৮০,০০ ব্যক্তির ই-মেল আইডি-র তথ্য পেয়ে গিয়েছে। তারা সিঙ্গাপুরের ৮,০০০ সংস্থায় সাইবার হামলা চালাতে পারে।’

সাইফার্মার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কুমার রীতেশ জানিয়েছেন, ‘আমরা এই হ্যাকারদের বিষয়ে সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছি। ৬টি সংস্থাই আমাদের এই সতর্কবার্তা পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে। গত ৬ মাস ধরেই আমরা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত ভুয়ো ই-মেল, সাইবার হামলা, হ্যাকিংয়ের উপর নজর রাখছি। তার ভিত্তিতেই ৬টি দেশকে সতর্ক করে দিয়েছি।’

লাজারাস গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণ করে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। ২০১৪ সালে সোনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টে সাইবার হামলা এবং ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে সাইবার হামলা চালানোর পিছনে এই গোষ্ঠীই ছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের এটিএমগুলি থেকে তথ্য হাতানোর পিছনেও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররাই ছিল বলে জানা গিয়েছে।
Reporter Aniruddha Benerjee