Web Desk: লকডাউনের পর বেসরকারি বাস পথে নামার কথা থাকলেও তেলের দাম বাড়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাস মালিকদের। ফলে পথে নামছে না পাবলিক বাস। রবিবার জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের তরফে জানানো হয়েছে, কাল সোমবার থেকে বাস নামাবেন না তারা।একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত অনুদানও নেবেন না তারা। ফলে অনুদান প্রকল্পে সায় না মিললেও বিকল্প পথ দেখছে রাজ্য সরকার।
আজ রবিবার, জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট সংগঠন সাংবাদিক সম্মেলন করে জানায় যে কাল সোমবার থেকে রাস্তায় নামছে না কোনো পাবলিক বাস। সংগঠনের আওতায় থাকা কলকাতা এবং জেলার বেশিরভাগ বাস রয়েছে। কলকাতায় ৬০০০ বাস প্রতিদিন চলে তার মধ্যে এই সংগঠনের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪০০০ বাস । জেলাতেও তাদেরই আধিপত্য। এমতবস্থায় এই সংগঠনের বাস না চালানোর হুমকি চিন্তারই বিষয়। তবে বাস সংগঠনের এমন হুমকি কার্যত পাত্তা দিচ্ছে না রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। তাদের যুক্তি, মানুষের সমস্যা হবে না। বিকল্প ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহণ দফতর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নামছে পরিবহণ সংস্থার বাস। সূত্রের খবর কলকাতায় সোমবার থেকে WBSTC -র ১৩০০ বাস , SBSTC-র ২০০ বাস , এছাড়াও ২০০ ভলভো তারা চালাবেন। Reporter Aniruddha Benerjee
করোনার মারে ব্যাপক ক্ষতির মুখে দেশের অর্থনীতি। ভারতের একাধিক শিল্পে মন্দা। লকডাউনের জেরে বিশেষ করে মার খেয়েছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি। এই অবস্থায় ভারতের ক্ষুদ্র শিল্পগুলির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে টেক সংস্থা গুগল। সম্প্রতি মার্কিন সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, গুগল পে (Google Pay) অ্যাপের মাধ্যমে দেশের কয়েক লক্ষ ক্ষুদ্র শিল্পের ব্যবসায়ীকে ঋণ দিতে রাজি Google। লকডাউনের জেরে ক্ষতির হাত থেকে ব্যবসায়ীদের একটু স্বস্তি দিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট।Google-এর তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেই ব্যবসায়ীদের অর্থ সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে Google Pay-এর বিজনেস অ্যাপের সূচনা হয়। তারপর থেকে ভারতের ৩০ লক্ষ ব্যবসায়ী এই বিজনেস অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করেছেন। Google জানিয়েছে, ভারতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬ কোটি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প রয়েছে। সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ১৫ কোটি গ্রাহক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতি মাসে যোগাযোগ করা হয়। ফোন বা অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।ভারতে গত ২৫ মার্চ প্রথম লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে দফায় দফায় চারবার লকডাউনের মেয়াদ বেড়েছে। এই তিন মাসে বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের শিল্প ও অর্থনীতি। এই অবস্থায় ভারতের ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে ভারতের ক্ষুদ্র শিল্পে দখল বাড়াচ্ছে Google। পাশাপাশি চলতি মাসে H-1B ও L1 ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন। যার বিরোধিতা করেছে Google, Apple, Facebook, Amazon-এর মতো সংস্থাগুলি। এই ভিসা ব্যানের জেরে সমস্যায় পড়তে চলেছেন বহু ভারতীয়।Developed Reporter Samrat Ghosh
(CoronaVirus) সংক্রমণের আতঙ্ক জারি থাকলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। রাস্তায় নেমেছে বাস-ট্যাক্সি-অ্যাপ ক্যাব। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই অ্যাপ ক্যাবে ভরসা রাখছেন। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার এক অ্যাপ ক্যাব চালকের শরীরে মিলল করোনার জীবাণু। এতে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ ক’দিনে কারা ওই আক্রান্তের ক্যাব ব্যবহার করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ওই অ্যাপ ক্যাব চালক। কিন্তু অসুস্থতাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি, উলটে উপার্জনের আশায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন শহরের রাজপথে। অবশেষে অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন তিনি। ঝুঁকি না নিয়ে তাঁর নমুনা পাঠানো হয় করোনা (COVID-19) পরীক্ষার জন্য। ২৫ জুন রিপোর্ট হাতে আসতেই জানা যায়, তিনি আক্রান্ত। তাঁর এই রিপোর্টই দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। কারণ, শেষ কয়েকদিনে বহু মানুষ তাঁর ক্যাবে চড়েছেন।প্রসঙ্গত, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই সাড়ে ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট মৃত্যু হয়েছে ৬২৯ জন করোনা আক্রান্তের। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এতদিন আশার আলো ছিল সুস্থতার হার। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও সামান্য কমেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫৪ জন। ফলে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে কোভিডজয়ীর সংখ্যা ১০, ৭৮৯ জন। সুস্থতার হার ৬৪.৫৬ শতাংশ। Developed Reporter Samrat Ghosh
বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাসুরের তাণ্ডব। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক কোটির গণ্ডি। মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লক্ষের বেশি। ভারতেও রবিবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪১০ জনের। অন্যদিকে গালওয়ান উপত্যকায় হওয়া সংঘর্ষের জেরে ভারত আর চিনের মধ্যে তৈরি হওয়া টেনশনের পারদও ক্রমশ বাড়ছে। এই সুযোগে ভারতে বড়সড় নাশকতার সুযোগ খুঁজছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। আর এই কাজে তাদের পুরো মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের সেনা ও সেদেশের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)।সম্প্রতি ভারতীয় গোয়েন্দাদের তরফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে সতর্ক করা হয়েছে, গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে চিনের সেনার সংঘর্ষ হওয়ার পর থেকেই সুযোগ খুঁজছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতির মধ্যে কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করিয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার ছক কষছে তারা। এর জন্য মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের কাশ্মীর সীমান্তের ওপারে থাকা বিভিন্ন ঘাঁটিগুলিতে জড়ো করেছে। একাধিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সীমান্তে ওপারে থাকা পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিগুলিতেও ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। জঙ্গিদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)-এর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাশ্মীর সীমান্তে কর্তব্যরত ভারতীয় জওয়ানদের উপর হামলা চালানোর জন্য।এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কাশ্মীরের গুর্জ সেক্টরের ওপারে ২৫ থেকে ৩০ জন লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে। মসকুইটো সেক্টরের ওপারে থাকা পাকিস্তানের জঙ্গি লঞ্চিং প্যাডে রয়েছে ৪০ জনের বেশি আল বদর, জইশ ও লস্কর জঙ্গি। কেরন সেক্টরের ওপার থেকে কুপওয়ারাতে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করছে টেররিস্ট রিভাইভাল ফ্রন্ট (TRF), লস্কর ও জইশের ৭০ জন সদস্য। তাংধার সেক্টরের ওপারে ৫০ জঙ্গি থাকার পাশাপাশি ভারতীয় জওয়ানদের উপর হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম। এছাড়া ১০ জঙ্গি নাউগাম সেক্টরে, উরিতে ২৫ জন, ভীমভার গালিতে ৪০ জন রয়েছে।Developed Reporter Samrat Ghosh
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্প: ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প, দিগলিপুর শহরে
পোর্ট ব্লেয়ার, ২৮ জুন: রবিবার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে একটি তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি অনুসারে ভূমিকম্পের পরিমাণ ছিল ৪.১। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির বিবরণ অনুসারে, উত্তর আন্দামান দ্বীপের ডিজলিপুর টাউনের কাছে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কারণে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
Web Desk: শনিবার রাতে কলকাতায় ফিরলো শহীদ সিআরপিএফ জওয়ান শ্যামল কুমারের মরদেহ। আজ রবিবার পৌঁছাবে মেদিনীপুরের সবংয়ের সিংপুরে শ্যামলের গ্রামের বাড়িতে। শুক্রবার জম্বু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় জঙ্গি হামলায় নিহত হন।
শুক্রবার জম্বু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় বীজবেহারায় টহলদারির সময় জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন। ওই সময় জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই-এ এক নয় বছরের কাশ্মীরি শিশুর মৃত্যু হয়। জানা গেছে মৃত শ্যামল কুমার সিআরপিএফের ৯০ ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান ছিলেন। Reporter Aniruddha Benerjee
নয়াদিল্লি: গত সপ্তাহে একটি চীনা রিফুয়েলার বিমান স্কর্দুতে নামার পরে পিওকে থাকা পাকিস্তানি বিমানবন্দরগুলি ভারতের রডারের নিচে রয়েছে। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ লাইন (এলএসি) বরাবর চীনা বিমান চলাচলও বেড়েছে।ইটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কার্ডু বিমানবন্দরে সীমাবদ্ধ তত্পরতা লক্ষ্য করা গেছে এবং কিছুদিন আগে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পরিবহণ বিমান ছাড়াও পিএলএএএফ-র একটি আইএল 78 ট্যাঙ্কার সেখানে পৌঁছার পরে এ ঘটনা ঘটে।পিএলএর আক্রমণের সময় ২০ জন ভারতীয় সেনা সদস্য শহীদ হওয়ার পর ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বহুগুণে বেড়েছে। সহিংস সংঘাতের সময়ে, পিএলএর সৈন্যরাও মারা গিয়েছিল তবে কমিউনিস্ট চীন, যা তথ্য দমন ও সেন্সর করার জন্য কুখ্যাত, জনগণের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া ভয়ে এই সংখ্যা প্রকাশ করেনি।Developed Reporter Samrat Ghosh
সামরিক বলয় বানিয়ে লালফৌজকে বেকায়দায় ফেলতে তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দ্রুত পালটাচ্ছে সমীকরণ। চিনা আগ্রাসনকে নজরে রেখে সম্পর্ক মজবুত করছে আমেরিকা ও ভারত। প্রথা ভেঙে এবার অধুনা সোভিয়েত সর্বস্ব ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে তৈরি আমেরিকা (US)।এশিয়া মহাদেশে চিনের আগ্রাসী গতিবিধি নজরে রেখে গত বৃহস্পতিবার ‘National defense authorization act 2021’ শীর্ষক একটি বিল সেনেটে পেশ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এটি আইনে পরিণত হলে, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বায়ুসেনার পাইলটদের প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মার্কিন ফৌজের ঘাঁটি গুয়ামে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মাস ছয়েক আগেই সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নং এঙ্গ হেনের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার। এর ফলে গুয়ামে ফাইটার পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য যৌথভাবে উদ্যোগী হয়েছে দুই দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনকে ঘিরে ফেলতে তৎপর হয়েছে আমেরিকা। তাই ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিশেষ সামরিক বলয় বানিয়ে লালফৌজকে বেকায়দায় ফেলতে তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটন।উল্লেখ্য, লাদাখে চিনা আগ্রাসন বাড়তেই ইউরোপ থেকে ফৌজ সরিয়ে এশিয়ায় মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইতিমধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে আমেরিকা। এছাড়া, চলতি মাসের শুরুর দিকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভারচুয়াল সামিটে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে ঐতিহাসিক Mutual Logistics Support Agreement (MLSA) চুক্তি৷ ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে দু’দেশের মধ্যে সামরিক শক্তি বিনিময়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে৷ তবে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, চুক্তি অনুসারী অস্ট্রেলিয়ার সেনাঘাঁটি ব্যবহার করে উপরোক্ত দুই মহাসাগরেই অবাধে পাড়ি দিতে পারবে ভারতীয় নৌবহর। এর ফলে চিনা নৌবাহিনীকে এক চক্রব্যূহর মধ্যে ঘিরে ফেলা যাবে। তারপর হাজার হাত পা ছুঁড়লেও মুক্তি পাবে না ‘ড্রাগন’।Developed Reporter Samrat Ghosh
রাজ্যের বহু মানুষ ভেলোরে চিকিৎসার জন্য যান।গোটা দেশ থেকে বটেই, পশ্চিমবঙ্গের বহু রোগী তামিলনাড়ুর ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ বা সিএমসিতে চিকিৎসার জন্য যান। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো থাকলেও চিকিৎসার জন্য ভেলোরে পাড়ি দেন বহু বাঙালি। এবার যাঁরা সিএমসিতে চিকিৎসার জন্য যান তাঁদের জন্য সুখবর। এবার থেকে রাজ্য সরকারের বিনামূল্যের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’র আওতায় চলে এল ভেলোরের সিএমসি। একইভাবে দিল্লির এইমসও এবার থেকে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চলে এল।লকডাউনের সময় ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রাজ্যের বহু মানুষ আটকেও পড়েছিলেন। পরে তাঁদের ফেরানোর জন্য রেলের কাছে বিশেষ ট্রেনের আরজিও জানায় রাজ্য। ভেলোর ও বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রাজ্যের বহু মানুষকে বিশেষ ট্রেনে ফেরানো হয়। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আমরা আরও দুটি হাসপাতালকে যোগ করছি। সেখানেও একইরকম সুযোগ সুবিধা পাবেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হোল্ডাররা। একটি হল ভেলোরের সিএমসি এবং অন্যটি হল দিল্লির এইমস।’প্রসঙ্গত, কোভিড মোকাবিলার জন্যও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। বেসরকারি কেন্দ্রগুলিতে যাতে করোনা পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে না হয়, তার জন্যও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন বেসরকারি কেন্দ্রগুলিতে করোনা পরীক্ষার জন্য দিতে হত সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবার থেকে নমুনা টেস্টের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ অনেকটাই কমল খরচ। সেই সঙ্গে পিপিই-সহ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার অন্যান্য সরঞ্জামের মূল্য দিনপিছু বেঁধে দেওয়া হল এক হাজার টাকা করে। এছাড়াও যাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হচ্ছেন, তাঁদের সর্বোচ্চ খরচ কী হতে পারে, সেটি মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরও তৎপর হয়ে উঠেছে সরকারি কোভিড হাসপাতালগুলি। আক্রান্ত হচ্ছেন যত মানুষ, তাঁদের প্রতি একশোজনের মধ্যে ৬৫ জনই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠছেন। উপরন্তু পশ্চিমবঙ্গে কোভিড জয়ের এই হার সর্বভারতীয় গড়ের (৫৮ শতাংশ) তুলনায় বেশি। তা সত্ত্বেও আত্মসন্তুষ্টির কোনও অবকাশ রাখতে চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং লড়াই আরও ক্ষুরধার করে মৃত্যুতে যাতে আরও লাগাম দেওয়া যায়, সে জন্য হাসপাতালগুলিকে আহ্বান জানালেন তিনি। বললেন, ‘নিরাময়ের হার ৯৯ শতাংশ করতে হবে। আমি বলব, মত্যুর হার আরও কমান। আরও মানবিক হোন।’মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোমর বেঁধেছে সরকারি কোভিড হাসপাতালগুলি। সংকটজনক কোভিড রোগীদের উন্নততর চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। একদিকে টালিগঞ্জের এমআর বাঙুর হাসপাতাল চালু করেছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া। অন্যদিকে রেমডিসিভির, ফ্লাভিপিরাভিরের মতো জীবনদায়ী ওষুধ আনতে উদ্যোগী বেলেঘাটা আইডি।এই মুহূর্তে বাঙুরে ২৩টি সিসিইউ (CCU) বেড। স্থির হয়েছে, সংখ্যাটা বাড়িয়ে একশো করা হবে। যার ৫৫টিতে থাকবে ভেন্টিলেটরের সুবিধা। পুরোদস্তুর কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরের প্রথম পর্বে এখানে রোগীদের সিসিইউয়ে রেখে চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। কোভিড এক্সপার্ট কমিটির সুপারিশ মেনে দ্রুত কোভিড রোগীদের জন্য সিসিইউ চালু করা হয়। সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ের আটতলায় খোলা হয় ২৩ শয্যার সিসিইউ, প্রতিটি ভেন্টিলেটরযুক্ত। জানা গিয়েছে, বাঙুরের ভাঁড়ারে মোট ৩৫টি ভেন্টিলেটর ছিল। অর্থাৎ, বাড়তি ছিল ১২টি। নতুন সম্প্রসারিত সিসিইউয়ের জন্য নতুন করে আরও ২২টি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে। ছ’তলা ও চারতলায় বসানো হবে বাড়তি ৭৭টি বেড। বাড়তি বেডে পরিষেবা দেওয়ার জন্য বাড়তি চিকিৎসক ও নার্সের ব্যবস্থাও হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঙুরের সুপার ডা. শিশির নস্কর। আরও জানান, ১২ জন ডাক্তার ইতিমধ্যে যুক্ত আছেন সিসিইউয়ে। আর ৩৫ জন ডাক্তার ও ১২৪ জন নার্স লাগবে। নতুন ডাক্তার-নার্সদের যথাযথ তালিম দিয়ে কাজে নামানো হবে। শেখানো হবে সিপিআর-সহ বেশ কিছু জীবনদায়ী টেকনিক।কোভিডে মৃত্যুর হারে রাশ পরানোর লক্ষ্যে বেলেঘাটা আইডিতে সম্প্রতি ৩২ শয্যার সিসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। আইসিএমআরের অনুমতি নিয়ে সেখানে শুরু হয়েছে প্লাজমা থেরাপি। ইতিমধ্যে ছ’ জন মুমূর্ষু রোগীর উপর থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাল ফল মিলেছে বলে দাবি করেছেন ডাক্তারবাবুরা। তবে আইসিএমআর(ICMR) -এর ছাড়পত্র পেয়ে ‘করোনার ওষুধ’ হয়ে ওঠা রেমডিসিভির, ফ্লাভিপিরাভির, কোভিফরের উপর আইডি এখন বেশি নজর দিচ্ছে। টোসিলিজুমাবের মতো মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, দু’ সপ্তাহের মধ্যেই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধগুলি চলে আসবে আইডিতে।কোভিড (Covid) রোগীর ক্ষেত্রে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়াটা অন্যতম উপসর্গ। যার জন্য শ্বাসকষ্ট শুরু হলেই রোগীকে সিসিইউয়ে স্থানান্তরিত করা দস্তুর। কিন্তু শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশ জুড়েই সিসিইউর বেড বাড়ন্ত। তাই প্রয়োজন হলেও বহু রোগীকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবা দেওয়া যায় না। দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে আরও একটি তথ্য। একটি সমীক্ষায় পূর্বাভাস, জুলাইয়ের শেষে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা এত বেড়ে যাবে যে, গোটা দেশেই সিসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটরের প্রবল আকাল মাথা চাড়া দেবে। এহেন পরিস্থিতিতে বাঙুরে সিসিইউ বেডের সংখ্যাবৃদ্ধিতে নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা পাচ্ছে চিকিৎসকমহল।পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন চলছে, তা দেখতে দু’টি কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোভিডে মৃত্যু হলে কী পরিস্থিতিতে তা হল, চিকিৎসায় ঘাটতি ছিল কি না, এ সব যাচাই করা হবে। কী করলে আরও ভাল হবে। এবং কো-মর্বিডিটি রোগীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে কি না, সে সব খতিয়ে দেখবেন টিমের সদস্যরা। কারও কোভিডে মৃত্যু হলে কী কী ভাবে চিকিৎসা হয়েছে, সে সবও দেখবেন তাঁরা। তা ছাড়াও সরকারি সূত্রের খবর, কোভিডের সামাজিক প্রভাব নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি কমিটি তৈরি হবে। এখানে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থাও কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। এই কমিটিতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নাট্যকর্মী বা সমাজের অন্য স্তরের কলাকুশলীরাও থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।Developed Reporter Samrat Ghosh