আমফানের দাপটে কলকাতাসহ রাজ্যের ছটি জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাজ্য সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারাও এগিয়ে আসছে। সাগরদ্বীপে এই মুহূর্তে পূণর্গঠনের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসেছে দুস্থদের পাশে।
স্থানীয় বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান,১৯৪৯ সালের বন্যার পর সুন্দরবনের মানুষ সুনামি, আয়লা, বুলবুল, ফনির সামনে পড়েছে। কিন্তু আম্ফান সুন্দরবনের মানুষকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সুদীপ্ত মণ্ডল বলেন, করোনা মহামারী এখনো চলে যায়নি। আপনাদের সজাগ থাকতে হবে, নিজেদের সতর্ক রাখতে হবে, পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে সবাইকে।
লকডাউন অমান্য করে বিক্ষোভ কর্মসূচি করার জন্য লঙ্ঘিত হয়েছে হয়েছে সামাজিক দূরত্ব; এই অভিযোগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের আটক করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সোমবার সকালে, জেলাশাসকের গেটের সামনে বিভিন্ন দাবিতে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে আসেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের মাসে ১০ কেজি চাল প্রদান, ১০০ দিনের কাজ ২০০ দিন করে পরিযায়ী শ্রমিকদের দিতে হবে, প্রচেষ্টা প্রকল্পের আওতায় সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে প্রভৃতি দাবি নিয়ে মেদিনীপুর শহরে জেলাশাসকের দপ্তরের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ আসে। জেলাশাসকের গেটের সামনে থেকে আটক করা হয় জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সৌমেন খান, সহ সভাপতি শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, কুনাল ব্যানার্জি ,পার্থ ভট্টাচার্য প্রমুখদের। আটক করার প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতা সৌমেন খান বলেন, “রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে! মানুষ তার প্রয়োজনীয় দাবি উত্থাপন করলে তার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। জনবিরোধী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের লাগাতার আন্দোলন চলবে।” কংগ্রেস নেতা শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এইভাবে আটক করে কংগ্রেসকে দমানো যাবেনা, সাধারণ মানুষের দাবি দাওয়া নিয়ে কংগ্রেস সবসময় সরব হবে।”
আনলক ওয়ান: প্রথম দিনেই এয়ারপোর্টের কাছে যশোর রোডে ব্যাপক যানজট। রাস্তায় বেসরকারি বাসের দেখা মেলেনি। সরকারি বাসের সংখ্যাও হাতে গোনা। মোটরবাইক ও গাড়ির ভিড়েই তৈরি হয়েছে যানজট। সকালে এয়ারপোর্ট এক নম্বর গেটে অফিস যাত্রীদের ভিড়। তবে পর্যাপ্ত বাস নেই।এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীরা।
Pic courtesy ANI(Developed by Reporter Samrat Ghosh)
দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ শুরুর দিকে। কেন্দ্রীয় সরকার কার্যালয়ে দ্বিতীয় বছরে প্রবেশের পর এটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ছিল।
রাজ্য সরকারের সতর্কতা নিয়ম অনুযায়ী চালু হলো অটো সার্ভিস। পিছনে দুই জন ।লকডাউনের দিনে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অটো চালকেরা আজ নির্দিষ্ট দুরত্ব মেনে চালু করলেন বেহালাসহ বিভিন্ন রুটের অটো। বেহালার ম্যান্টন মোড়ের কাছে দেখা গেল ফাইবারের সিট দিয়ে অটোর মধ্যে করোনার প্রতিরোধক দেওয়াল তৈরী করা হচ্ছে। চালক এবং যাত্রীদের মধ্যে সতর্কতা মেনে চলার জন্য।
Pic courtesy ANI(Developed by Reporter Samrat Ghosh)
কলম্বো: শ্রীলঙ্কায় আটকা পড়ে থাকা ভারতীয়রা আইএনএস জলাশায় চড়ে কলম্বো বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজটি প্রায় 700 ভারতীয় নাগরিক হিসাবে যাত্রা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একজন যাত্রী বলেন, "আমি বাড়ি যাওয়ায় খুব আনন্দিত বোধ করি। আমি ভারতীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।"
Pic courtesy ANI(Developed by Reporter Samrat Ghosh)
মহারাষ্ট্র: আজ শুরুর দিকে মুম্বইয়ের বেশ কয়েকটি অংশে বৃষ্টি হয়েছিল। মেরিন ড্রাইভের কাছ থেকে ভিজ্যুয়াল। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) দিনের হালকা বৃষ্টিপাতের সাথে মেঘলা আকাশের পূর্বাভাস দিয়েছে। (ডেটা উত্স: আইএমডি)
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনের ইনস্টিটিউটে চলছে করোনা ভ্যকসিনের ফেজ টু ও থ্রি-র কাজ। ChAdOx1 কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এখন মানবশরীরে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ চলছে। সেখানেই রাত-দিন এক করে কাজ করে চলেছেন কলকাতার মেয়ে চন্দ্রাবলী দত্ত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগের তিনি অন্যতম সেনানি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এমন এক মানবিক প্রয়াসের সঙ্গী হতে পেরে আমি গর্বিত, জানালেন ৩৪ বছরের বঙ্গতনয়া। সেখানে কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ম্যানেজার পদে কর্মরত তিনি। তাঁর সম্মতি পেলেই পরীক্ষার স্তরে থাকা করোনার এই ভ্যাকসিন মানবশরীরে প্রয়োগ হবে। ‘আশা নিয়ে আছি, এই ভ্যাকসিনগুলি পরবর্তী স্তরে কাজ করবে, সারা পৃথিবী এর সাফল্যের প্রতীক্ষায় আছে’, বললেন কলকাতার মেয়ে চন্দ্রাবলী। ‘আমরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়তি পরিশ্রম করছি সাফল্যের জন্য। যাতে মানুষ এই ভাইরাসের গ্রাস থেকে বাঁচতে পারে। দিন-রাত সকলে পরিশ্রম করছেন। এই গবেষণার সঙ্গী হতে পেরে আমি গর্বিত।’ কলকাতা থেকে সুদূর অক্সফোর্ডে গবেষণা করতে যাওয়া চন্দ্রাবলী চান, বায়োসায়েন্সের গবেষণায় মেয়েরা আরও এগিয়ে আসুন। এই ক্ষেত্র এখনও পুরুষরাই বেশি কাজ করেন। ‘যদিও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টাকার অঙ্কটা মারকাটারি কিছু নয়। কিন্তু আপনার উৎসাহ যদি থাকে, যদি স্ট্রাগল করতে তৈরি থাকেন, এগিয়ে আসুন। এই বিষয়ে পড়াশুনো করুন। সবথেকে বড় কথা, এই কাজের মাধ্যমে, আপনি মানুষের উপকার করছেন।’, বললেন তিনি। ছোট থেকেই জীববিদ্যা আর অঙ্কে ব্যাপক উৎসাহ ছিল চন্দ্রাবলী। তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি পড়েছেন কলকাতাতেই। কম্পিউটার সায়েন্সে নিয়ে পড়াশুনো করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের লোভনীয় চাকরিও করছিলেন। কিন্তু মন পড়েছিল তাঁর বায়োটেকেই। তাই ইউনিভার্সিটি অফ লিডস থেকে বায়ো টেকনোলজিতে স্নাতোকত্তর পড়াশুনো করলেন। তারপর চলে এলেন লন্ডনে। মায়ের মন চায়নি, একমাত্র সন্তান দেশ ছাড়ুক। বাবার সম্মতি ছিল বরাবরই। বলছিলেন কলকাতার কন্যা। প্রথম প্রথম বিদেশে থাকা খাওয়ার খরচা জোগাতে সুপারমার্কেট, পিৎজার দোকানেও কাজ করেছেন চন্দ্রাবলী। মনে পড়ে, ল্যাবের কাজ দ্রুত সেরে ‘টেসকো’-য় দৌড়লাম সন্ধে সাড়ে ৬টা থেকে ১২ টা অবধি কাজ করার জন্য। তারপর যখন বাড়ি ফিরতাম খাওয়ার সময়টুকুও পেতাম না। ঘুমিয়ে পড়তাম। দিনের পর দিন রাতে ৩ ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। পড়া শেষ করে চাকরি খোঁজাটাও বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল, বললেন তিনি। অনেকেই সেই সময় আশা ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরে গেছিল, আমি হাল ছাড়িনি। অবশেষে ‘গ্ল্যাক্সোস্মিদলাইন’-এ কাজে যোগ দেওয়া। তারপর আস্তে আস্তে অক্সফোর্ডের দিকে এগোন। এখন করোনার লড়াইয়ে সামনে থেকে লড়ছেন চন্দ্রাবলী। লকডাউনের মধ্যেই চলছিল কাজ। এদিকে কলকাতায় বাবা-মা ছিলেন ভয়ানক চিন্তায়। সে কথাও জানালেন চন্দ্রাবলী। রোজ বাড়িতে ভিডিও কল করে মা-বাবাকে বুঝিয়েছেন তিনি। কবে আসবেন কলকাতায়? সেটাই এখন লক্ষ টাকার প্রশ্ন। তবু আশা রাখছেন, বছর শেষে ক্রিসমাসের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারবেন।