
Web Desk: হাওড়ার বাগনানে কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়ে গেলেন মা। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাগনানের গোপালপুরে। শ্লীলতাহিন ও খুনের ঘটনায় শাসকদলের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার সাফ খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। অন্যদিকে, এক অভিযুক্ত কুশ বেরাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে বাগনান থানার পুলিস।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ফোনে গেম খেলছিলেন নির্যাতিত কলেজ পড়ুয়া। অভিযোগ, সেইসময় ছাদে লুকিয়ে থাকা দুই দুষ্কৃতী ওই কলেজ পড়ুয়ার উপর চড়াও হয়। মুখ, পা চেপে ধরে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। সেইসময় শৌচালয়ে যাচ্ছিলেন ওই কলেজ পড়ুয়ার মা। মেয়ের গোঙানির আওয়াজ শুনে বাঁচাতে ছুটে আসেন তিনি। অভিযোগ, মেয়ের চিৎকার শুনে ছুটে আসা মাত্রই তখন মায়ের উপরও হামলা করে দুষ্কৃতীরা। ধাক্কা মেরে মাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
মাথায় গুরুতর চোট পান ওই কলেজ পড়ুয়ার মা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে এলে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। নির্যাতিতা কলেজ পড়ুয়ার দাবি, অভিযুক্তদের একজন এলাকায় তৃণমূলের নেতা ও একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। দুজনের মধ্যে একজনের স্ত্রী পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য। ঘটনার সময়ই এক অভিযুক্ত কুশ বেরাকে চিনতে পেরে যান নির্যাতিতা পড়ুয়া।
এই ঘটনা সামনে আসতেই তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। অবরোধে সামিল হন সৌমিত্র খাঁ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়। বাগনান থানাতেও যান তাঁরা। অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অরুণাভ সেনও ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “যারা দোষী, তারা যে দলেরই হোক, আমার দলেরই হোক বা অন্য দলেরই হোক, তাদের কঠিনতম শাস্তি হওয়া উচিত। প্রশাসন আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা নিক।”
যদিও দোষী তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে সাফ জানিয়েছেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়। তিনি বলেন, “দোষ করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আজকের ঘটনায় দোষীকে গ্রেফতার করা হবে। তবে বিজেপি ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে। অভিযুক্ত তৃণমূলের কেউ নয়। মেয়েটির সঙ্গে অভিযুক্তের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তাদের বাড়িতে সে গিয়েছিল। তখন মেয়েটির মাকে ধাক্কা মারে। হাসপাতালে তিনি মারা যান।”
Reporter Aniruddha Benerjee
You must be logged in to post a comment.