দিনে লক্ষাধিক নমুনা পরীক্ষা করতে সুইডেন থেকে ৮টি বিশেষ যন্ত্র আনছে রাজ্য

যেমন কথা তেমন কাজ। কথাকে কাজে পরিণত করতে অত্যাধুনিক বিদেশি যন্ত্র এখন সাগরপথে কলকাতামুখী। যার উপস্থিতি ও সক্রিয়তা বাংলার করোনা লড়াইয়ে নতুন শক্তি জুগিয়ে দেশে নজির স্থাপন করবে বলে সরকারি মহল মনে করছে।আইসিএমআরের সঙ্গে আলোচনায় দিনে এক লক্ষ করোনা পরীক্ষার প্রস্তাব উঠেছিল। ঠিক এক মাসের মাথায় সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যে জন্য জাহাজে করে কলকাতায় আনা হচ্ছে কোভিড নমুনা একলপ্তে পরীক্ষা করার ক্ষমতাধারী স্বয়ংক্রিয় কোবাস কিট যন্ত্র।কোভিডের থাবা রাজ্যে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। তাই জুলাই মাসেই এই যন্ত্র দিয়ে যাতে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়, সে জন্য সব বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছে রাজ্য প্রশাসন। নাইসেড ও স্বাস্থ্য দপ্তর একযোগে কাজটা করবে। নবান্নের দাবি, দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য, যে কিনা কোবাস যন্ত্রকে হাতিয়ার করে এভাবে করোনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে। আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ থাকায় একরকম বাধ্য হয়ে সুইডেন থেকে এই যন্ত্র সমুদ্রপথে আনার বরাতও দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রথম দফায় আটটি এমন যন্ত্র আনা হবে। এক-একটি কোবাস পাঁচ থেকে ছঘণ্টায় গড়ে বারো হাজার ব্যক্তির লালারস আরটিপিসিআর (RTPCR) পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ে সক্ষম। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম দফায় কলকাতা ও উত্তরবঙ্গে কোবাস কাজে লাগানো হবে, মূলত বাছাই করা সরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরিতে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার বাড়ানো হবে।রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তীর কথায়, “এই মাসেই আটটি কোবাস যন্ত্র আনা হবে। শুরু হবে আরও বেশি পরীক্ষা। রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি নিরাময়ের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” রাজ্য নিজের খরচে এই যন্ত্র আনছে বলে জানিয়েছেন অধিকর্তা।স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য বলছে, আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে দিনে দশ হাজার মানুষের লালারস পরীক্ষার জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে গড়ে আড়াই কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। সেখানে কোবাস ব্যবহার হলে লাভ বই ক্ষতি নেই। এক-একটা কোবাস যন্ত্রের দাম গড়ে দেড় লক্ষ টাকা। আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য খরচ মিটিয়েও দুলক্ষ টাকার মধ্যে। দ্বিতীয়ত, আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে ভাইরাসের জিন সংশ্লেষ করে পরীক্ষা হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে কাজ হবে। স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষার ফল নিয়ে সংশয় অনেকটা কমবে।রাজ্যে যে দৈনিক এক লক্ষ করোনা টেস্ট হতে চলেছে, গত ৯ জুন সংবাদ প্রতিদিনে সে খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আইসিএমআরের সহযোগিতায় করোনা ভাইরাসকে উৎখাত করতে দিনে এক লক্ষ টেস্ট করার ব্যবস্থা করতে চলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য অধিকর্তার পর্যবেক্ষণ, রোজ পরীক্ষার পিছনে যে খরচ হয়, একবারে সেই খরচ করলে দৈনন্দিন ব্যয় অনেকটাই কমবে। উপরন্তু নাইসেড ও স্বাস্থ্য দপ্তরে কোবাস কিট দিয়ে পরীক্ষা করার মতো দক্ষ কর্মীও রয়েছেন। কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধিকর্তা ডা প্রতীপ কুণ্ডু জানিয়েছেন, “কোবাসের প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্রে বোঝা যায়, অতিমারি কতটা বিস্তার লাভ করেছে।”ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ সেফটি সংস্থার অনুমোদন পাওয়া কোবাস (Cobas) কিট যন্ত্র দিয়ে সারি বা করোনা পরীক্ষার অনুমোদন অনেক আগেই দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের বক্তব্য, কোবাস যন্ত্রের মাধ্যমে আরটিপিসিআর পরীক্ষার জন্য দেশের ৫২টি সরকারি ল্যাবরেটরি বরাত দিলেও প্রযুক্তিটি প্রথম আনছে পশ্চিমবঙ্গ।

গত ১০০ বছরের সবথেকে বড় অর্থনৈতিক সংকট কোভিড, মন্তব্য রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নরের

করোনা আতঙ্কে ত্রস্ত গোটা বিশ্ব। বাদ যায়নি ভারতও। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। দীর্ঘদিন লকডাউন থাকাকালীন শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকায় মার খেয়েছে অর্থনীতি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গুলিকে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর মনে হচ্ছে, করোনা দুর্ভোগে হয়তো গোটা বছরই চলবে। শনিবার রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) গভর্নর শক্তিকান্ত দাস (Shaktikanta Das) সাংবাদিক সম্মেলনে সেই আশঙ্কার কথাই ইঙ্গিত করেছেন। এদিন তিনি বলেছেন , COVID-19 গত ১০০ বছরের সবথেকে বড় স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট। অর্থনীতি তো বটেই, কর্মসংস্থান, মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সবকিছুতেই থাবা বসিয়েছে এই মারণ ভাইরাস।এদিন দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) সপ্তম ব্যাংকিং এন্ড ইকোনমিক কনক্লেভের ভারচুয়াল অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তিনি এদিন এসবিআইয়ের চেয়ারম্যান রজনীশ কুমারকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে এই মারণ জীবাণু। এই মহামারী আবহে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিই সবথেকে বেশি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতাকেও নজর দিতে হবে। এই আর্থিক সংকটের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে লড়াই করছে তা প্রশংসনীয়। তারাই এই আর্থিক সংকটের ফ্রন্টালাইনে রয়েছে।’ এদিন তিনি আরও বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাংক বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ করেছে এই আর্থিক সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য।গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত আরবিআই তাদের কোষাগার থেকে ৯.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা যা দেশের জিডিপির ৪.৭ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দিয়েছে। এর পাশাপাশি শক্তিকান্ত দাস আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাংক ২৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছে।

অধরা মহাকাশের স্বপ্ন, ৬টি স্যাটেলাইট নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল চিনা রকেট

ফের মহাকাশে পাড়ি দিতে গিয়ে জোর ধাক্কা খেল চিন। শুক্রবার উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে Kuaizhou-11 (KZ-11) রকেট। এর ফলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় রকেটটিতে সওয়ার ছ’টি স্যাটেলাইট। Kuaizhou-11 রকেটের প্রথম উড়ানেই এহেন বিপর্যয়ের ফলে চিনের মহাকাশে জাল বিস্তারের স্বপ্ন জোর ধাক্কা খেয়েছে।চিনা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জুলাইয়ের ১০ তারিখ অর্থাৎ শক্রবার, উত্তর-পশ্চিম চিনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশে পাড়ি দেয় রকেটটি। এখনও অবধি চিনের পাঠানো রকেটগুলির মধ্যে পরিধির দিক থেকে বেশ বড় ছিল এই রকেটটি। প্রায় ৭০.৮ টন নিয়ে পাড়ি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল যানটিকে। কিন্তু উৎক্ষেপণের মিনিট খানেক পরেই ভেঙে পড়ে রকেটটি। নির্ধারিত সময়ে তিন বছর পর রকেটটি তৈরি হলেও সেটি নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন চিনা বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সমস্ত আশায় জল ঢেলে উড়ানের পর মুহূর্তেই রকেটটিতে দেখা দেয় যান্ত্রিক গোলযোগ। চোখের নিমেষেই ভেঙ্গে পড়ে যানটি। সেই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যায় ৬টি স্যাটেলাইটও।চিনের এই রকেটটি তৈরি করেছে ‘ExPace Technology Corporation’। এটি চিনের সরকারি মহাকাশ সংস্থা ‘China Aerospace Science and Industry Corporation’-এর (CASIC) অধীনে কাজ করে। জানা গিয়েছে, চিনের ‘DongFang-21’ মিসাইলের আদলেই তৈরি করা হয়েছিল Kuaizhou-11 রকেটটিকে। কম সময়ে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে এটিতে কঠিন জ্বালানি ভরা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে ‘লং মার্চ ফাইভ’ চিনের ভারী রকেটের উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে হলেও, এই নিয়ে তিন বার ব্যর্থ হল চিন। একে করোনা, তার উপর জমি বিবাদ, আর এখন রকেট লঞ্চে অসফলতা। সব দিক থেকেই বর্তমানে ব্যর্থতা গ্রাস করছে চিনকে। সবকিছু বিচার করে দেখা যায়, চিন সরকারের এখন শিরে সংক্রান্তি অবস্থা।

মসজিদে বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক হেগিয়া সোফিয়া, ফের ইসলামিকরণের পথে তুরস্ক

করোনা আবহে তুরস্কে বড়সড় পট পরিবর্তন। তুরস্কের আদালতের নির্দেশে ইস্তানবুলের ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত স্থাপত্য হেগিয়া সোফিয়া (Hagia Sophia) মিউজিয়ামকে মসজিদে পরিবর্তিত করছে তুরস্ক সরকার। আদালতের নির্দেশে আর এই সাবেক কনস্ট্যান্টিনোপলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের মিউজিয়ামের মর্যাদা থাকছে না। বরং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগানের (Recep Tayyip Erdogan) নির্দেশে একে মসজিদে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশ্বের খ্রিস্টান সমাজ। কারণ, ইউনেস্কো স্বীকৃত এই হেরিটেজ স্থাপত্য একসময় বাজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধীনে একটি ক্যাথিড্রাল ছিল। পরে অটোমান তুর্কিরা কনস্ট্যান্টিনোপল দখল করার পর সম্রাট মেহমেদের নির্দেশে পঞ্চদশ শতকে এই স্থাপত্যকে মসজিদে পরিণত করা হয়।১৯৩৪ সালে বিপ্লবের পর আধুনিক তুরস্কের রূপকার সেক্যুলার নেতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের জমানায় এই হেগিয়া সোফিয়াকে মিউজিয়াম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তারপর থেকে এটি তুরস্কের গর্বের সঙ্গে যুক্ত একটি স্থাপত্য। ইস্তানবুলের অন্যতম পর্যটনস্থল হিসাবে হেগিয়া সোফিয়া পরিচয় পায়। প্রতি বছর ৩৭ লক্ষ মানুষ, মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এই মিউজিয়াম পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু সরকারের নির্দেশে, বর্তমানে হেগিয়া সোফিয়া মুসলিমদের প্রার্থনাস্থলে পরিণত হতে চলেছে। প্রায় ৯০ বছর পর এখানে ফের নমাজ পড়বেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা।নয়া আদেশনামায় স্বাক্ষর করার টুইটারে সেটি শেয়ার করে এরদোগান লেখেন, ‘হায়ির্লি ওলসুন’ যার অর্থ অভিনন্দন। তবে কি দেশের মুসলিম সমাজকে খুশি করতেই এই পদক্ষেপ? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে, সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউনেস্কো। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের নিদর্শন এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে মসজিদে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। বিবিসি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের সিদ্ধান্তের পর হেগিয়া সোফিয়ায় প্রথম নমাজ পাঠের জন্য বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়েছে। এমনকী স্থাপত্যের বাইরে বহু মানুষ জড়ো হয়ে আল্লা-হু-আকবর ধ্বনি তোলেন বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।

দেশে প্রথমবার! করোনা নেগেটিভ মায়ের গর্ভ থেকে ভাইরাস নিয়েই জন্মাল শিশু 

৬০ বছরের উর্ধ্বেই করোনার প্রকোপ বেশি। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যানে এই বিষয়টিই উঠে এসেছে একাধিকবার। কিন্তু এবার যা ঘটল, তাতে বেশ অবাক চিকিৎসক মহলও। কারণ এবার নোভেল করোনা ভাইরাস (Coronavirus) নিয়েই জন্ম নিল এক শিশু। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালেই এই বিরল ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের মতে, দেশ প্রথমবার এমন ঘটনার সাক্ষী হল।গত মাসে ওই হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন নাংলোইয়ের বাসিন্দা বছর পঁচিশের অন্তঃসত্ত্বা। গত ১১ জুন জানা যায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত। সংক্রমণ ছড়ায় তাঁর স্বামীর শরীরেও। ২৫ জুন যুবতীর দ্বিতীয়বারের রিপোর্টও পজিটিভ আসে। তবে গত ৭ জুলাই টেস্টের পর বোঝা যায়, তিনি করোনামুক্ত। ঠিক তার পরের দিনই সন্তানের জন্ম দেন যুবতী। কিন্তু ছ’ঘণ্টা পরই জানা যায় শিশুর শরীরে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস।হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, গর্ভস্ত অবস্থাতেও মায়ের শরীর থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ডাঃ রাহুল চৌধুরি জানান, প্রসবের সময় করোনামুক্তই হয়ে উঠেছিলেন ওই যুবতী। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘণ্টা ছয়েক পর দু’জনেরই নমুনা টেস্ট করা হয়। তখনই সদ্যোজাতর COVID-19 রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আপাতত চিকিৎসা চলতে তার। প্রসবের সময় মা নেগেটিভ। অথচ জন্মানোর পর শিশু পটিজিভ। এমন ঘটনা দেশে আগে ঘটেনি বলেই দাবি ওই চিকিৎসকের।চিনের গবেষণা থেকে জানা গিয়েছিল, কোনও গর্ভস্ত অবস্থায় আম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে Sars-Cov-2 সংক্রমিত হতে পারে। যা থেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা অস্বাভাবিক নয়। যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে দিল্লির হাসপাতালের এই বিরল ঘটনা নিঃসন্দেহে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলল চিকিৎসা জগতে।

মন্ত্রীকে খুন করে বুক ফুলিয়ে ঘুরছিল ‘গুড্ডা’, শেষপর্যন্ত মহারাষ্ট্র পুলিশের জালে বিকাশের সাগরেদ

আটজন পুলিশ কর্মীকে ঝাঁজরা করে আস্তানা ছেড়ে পালিয়েছিল সে। ‘গুরু’ খতম হয়েছে, ‘ভাবিজি’ও জেলবন্দী। তাই সে আর কোনও ঝুঁকি নিয়ে চায়নি। পা বাড়িয়েছিল মহারাষ্ট্রের পথে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। থানের কোলসেট রোড থেকে বিকাশের আরও এক সাগরেদ অরবিন্দ রামবিলাস তিওয়ারিকে গ্রেপ্তার করল মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাকা বা এটিএস। অরবিন্দ অপরাধ জগতে ‘গুড্ডা’ নামেই বেশি পরিচিত।বিকাশ দুবের খাস সাগরেদ হিসেবে পরিচিত ছিল গুড্ডা। ২০০১ সালে কানপুরের পুলিশ স্টেশনে ঢুকে মন্ত্রী সন্তোষ তিওয়ারিকে খুন করেছিল বিকাশ এন্ড কোং। সেই দলে ছিল গুড্ডাও। বিকাশের বিরুদ্ধে যে ৬০টি মামলা রয়েছে তার অধিকাংশরই সঙ্গী ছিল গুড্ডা। এমনকী, আটজন পুলিশ কর্মীকে হত্যার ঘটনায়ও জড়িয়েছিল সে। তাকেও হন্যে হয়ে খুঁজছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশও। কিন্তু তার টিকিও ছুঁতে পারেনি তারা।এদিকে বিকাশের গ্রেপ্তারির খবর পেতেই সে আর দেরি করেনি। গাড়ির চালককে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্র্রেকর উদ্দেশ্যে। কিন্তু ওই কথায় কথায় আছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। গুড্ডার গতিবিধির খবর পেয়েছিল মহারাষ্ট্র পুলিশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দয়া নায়েক। তিনিই কোলসেট রোড থেকে চালক সহ গুড্ডাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে, মহারাষ্ট্র এটিএস জানায়, ২০০১ সালে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সন্তোষ নায়েককে খুনে অভিযুক্ত ছিল অরবিন্দ রামবিলাস তিওয়ারি। তার গ্রেপ্তারির উপরও পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

‘আচ্ছা চলতা হুঁ…’, মৃত্যুর আগে কিশোরের গাওয়া গান শুনে চোখের জলে ভাসছে নেটদুনিয়া

‘আচ্ছা চলতা হুঁ, দুয়াও মে ইয়াদ রাখ না…’। শেষ দিনগুলোয় এই গানই বেজে উঠত কিশোর ঋষভ দত্তর গিটারের তারে। বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে রোগশয্যায় বসেই কি তবে সে বুঝেছিল, বিদায়বেলা আসন্ন? নাহলে কেনই বা বারবার চলে যাওয়ার গান ধরত ? জটিল রোগের বিরুদ্ধে অনেকটা লড়াইয়ের পর এই গানের সুর ছড়িয়েই চলে গেল বছর সতেরোর কিশোর। তাঁর মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গাওয়া গান শুনে চোখের কোণায় একফোঁটা অশ্রু জমছে না, এমন নেটিজেন খুব কমই আছেন। ঋষভের এই গানই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।অসমের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা ১৭ বছরের ঋষভ দত্ত। বছর দুই আগে তাঁর রক্তে জটিল এক রোগ ধরা পড়ে। পরিস্থিতি এতটা সংকটজনক হয়ে ওঠে যে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (Bone Marrow Transplant) ছাড়া ঋষভকে সুস্থ করে তোলা মুশকিল। ডাক্তারদের এই কথা শুনে অসম থেকে বেঙ্গালুরুতে ঋষভকে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য। বেঙ্গালুরুর খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা শুরু হয়। পরে অবশ্য তাঁকে স্থানান্তরিত হয় বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি চলছিল।হাসপাতালের বিছানায় ঋষভের একমাত্র সঙ্গী ছিল গিটার। অসুস্থ শরীরে মাঝেমধ্যেই সে গিটারে সুর তুলত। বেজে উঠত চিরস্মরণীয় গান – ‘আচ্ছা চলতা হুঁ, দুয়াও মে ইয়াদ রাখ না…’। মুগ্ধ হয়ে কিশোরের গান শুনতেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য রোগীরা। আর তারিফ করতেন।ঋষভের গান ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাঁর অনুরাগী মহল তৈরি হয়ে যায় খুব কম দিনের মধ্যে। এমনকী ঋষভের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁরা অর্থ সংগ্রহও শুরু করেছিলেন। অসম সরকারও তাঁর চিকিৎসার জন্য অনুদান পাঠিয়েছিল। কিন্তু সব ব্যর্থ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে ঋষভ। কিন্তু ঋষভ আছে, ঋষভ থেকে যাবে – তাঁর গানের মধ্যে দিয়ে।

ধেয়ে আসছে ধূমকেতু নিওওয়াস! মিস করলেই‌ আর কখনও দেখতে পারবেন না

Web Desk: বিষ্ময়কর বছর ২০২০। বিষে বিষ কাটছে অনেকই আক্ষেপ করে বলেছেন। তবে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই কখনো চন্দ্র গ্রহন, কখনও সূর্য গ্রহন থেকে শুরু করে একাধিক মহাজাগতিক বিষয় সামনে এসেছে এই কুড়ি সালেই। এবার এই বছরেই দেখা মিলবে ধূমকেতুর। আর যদি না দেখতে পান তাহলে হয়তো আর কখনও দেখতে পাবেন না। কারন পরবর্তী ৬,৮০০ বছর পর ফের দেখা যাবে।

 আগামী বুধবার থেকে দেখা মিলবে ধূমকেতুর। C/2020 F3 বা নিওওয়াস নামে এই ধূমকেতুটি।  মার্চ মাসে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা  আবিষ্কার করেছেন। ইতিমধ্যে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে ফের যাত্রা শুরু করেছে তার পথে।   বর্তমানে সূর্যের সঙ্গে দিগন্তরেখা বরাবর প্রায় সরলরেখায় অবস্থান করছে ধূমকেতুটি। ফলে কোনও অবস্থাতেই সেটিকে দেখা সম্ভব নয়। ১৫ জুলাইয়ের পর ধূমকেতুটি ধীরে ধীরে সরবে পশ্চিম আকাশে ফলে সূর্যাস্তের পর উত্তর-পশ্চিম আকাশে খালি চোখে বা বায়নোকোলার দিয়ে দেখা যাবে একে। 
Reporter Aniruddha Benerjee

চলতি মাসেই ফলাফল উচ্চ মাধ্যমিকের, ফল প্রকাশের দিনেই মার্কশিট ও সার্টিফিকেট

Web Desk: চলতি মাসেই প্রকাশিত হবে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল। আর সেদিনই পড়ুয়ারা তাদের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট পাবেন তাদের স্কুল থেকে। এমনটাই জানিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সন মহুয়া দাস। তবে কবে ফল প্রকাশ করা হবে তার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

মহুয়া দেবী জানিয়েছেন, ফলপ্রকাশের দিনেই ক্যাম্প অফিস থেকে মার্কশিট ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবেন স্কুলের প্রতিনিধি। তার পর স্কুলে যাবতীয় বিধি মেনে তা পড়ুয়াদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা হবে। অর্থাৎ ফলপ্রকাশের দিনই মার্কশিট ও শংসাপত্র হাতে পাবেন পড়ুয়ারা। এই পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। আর ফল প্রকাশের পরই দেশে বিদেশে নানা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আবেদন করতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। সেকথা মাথায় রেখেই এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল।
Reporter Aniruddha Benerjee

করোনা মোকাবিলায় WHO-এর মুখে ভারতের গুনগান, মডেল মুম্বাই!

Web Desk: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা WHO-এর গলায় ভারতের গুনগান। গোটা বিশ্বকে করোনা মোকাবিলায় পথ দেখাবে মুম্বাইয়ে ধারাভি বস্তি। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।  তা সত্ত্বেও COVID-19 এর সংক্রমণ এখনও রোধ করা সম্ভব বলে জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

 সংস্থার ডিরেক্টর জেনেরাল টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসস জানিয়েছেন, “গত ছয় সপ্তাহে বিশ্বে কোরোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে ৷ কিন্তু ইট্যালি, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মধ্যে  সবথেকে বড় বস্তি মুম্বাইয়ে ধারভি মহামারী নিয়ন্ত্রণের পথ দেখিয়েছে। এইসব জায়গা ঘন জনবসতিপূর্ণ৷ তা সত্ত্বেও এখানে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক সময়ে সংক্রমিতদের খুঁজে বের করা ও তাঁদের আইসোলেশনে পাঠানোর ফলে এটা সম্ভব হয়েছে ৷ কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে রুখে দেওয়া সম্ভব৷ গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত 5 লাখ 55 হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷  এছাড়া 1 কোটি 23 লাখ মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
Reporter Aniruddha Benerjee