Web Desk: অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী কাল বুধবার প্রকাশিত হতে চলেছে ২০২০ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল। আজ মঙ্গলবার এমনই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার প্রকাশিত হতে পারে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রকাশিত হবে মেধাতালিকা। তবে মার্ক শিট ও সার্টিফিকেট নিতে স্কুলে যেতে হবে অভিভাবকদের। যে সমস্ত স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে, সেখানে মার্ক শিট সংগ্রহের বিকল্প ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে হবে মার্ক শিট দেওয়ার প্রক্রিয়া। মার্ক শিট বিলির পর থেকেই শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী, ফল প্রকাশের আগে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । বুধবার বেলা ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে মাধ্যমিকের ফল। বেলা ১০.৩০ মিনিট থেকে এই ওয়েবসাইটে http://wbbse.org/ জানা যাবে ফল। বুধবারই হাতে মার্ক শিট পাবেন না পড়ুয়ারা। আগামী ২২ অথবা ২৩ জুলাই অভিভাবকদের পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে স্কুলে গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে মার্ক শিট ও সার্টিফিকেট. Reporter Aniruddha Benerjee
ভারতে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে গুগল (Google)। সোমবার টুইট করে সে কথা জানিয়েছেন খোদ গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai)। ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। চিনের সঙ্গে উত্তেজনা ও লকডউনের আবহে পিচাইয়ের এই ঘোষণা ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানও। করোনা সংক্রমণ আর লকডাউন, দুইয়ের জেরে ভারতের অর্থনীতি মার খাচ্ছিল। উপরন্তু চিনের সঙ্গে উত্তেজনার ধাক্কা লেগেছিল শেয়ার বাজারেও। গুগলের (Google) এই ঘোষণায় শেয়ার বাজার যে চাঙ্গা হবে তা বলাই বাহুল্য। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রংশসা করে এই বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন সুন্দর পিচাই। ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ-ছয় বছরে মোট ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে গুগল (Google)। এদিন গুগল ফর ইন্ডিয়ায় (GoogleForIndia) সুন্দর পিচাই জানান, আগামী পাঁচ-ছয় বছরে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। যা মূলত পরিকাঠামো তৈরি, যৌথ উদ্যোগ, ইক্যুয়িটির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হবে। তিনি আরও জানান মোট চারটি ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ হবে। কী কী?পিচাই জানিয়েছেন, সকল দেশবাসীর কাছে তাঁদের নিজস্ব ভাষায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি, দেশবাসীর চাহিদার মতো বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে জোর দেবে গুগল (Google)। এছাড়াও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরিতে সাহায্য করা হবে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, গত কয়েক বছরে ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় একাধিক ডিজিটাল স্টার্ট আপ শুরু হয়েছে। যেখানে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে একাধিক চিনা সংস্থা। আবার কিছু সংস্থা মূলধনের অভাবে ভুগছে। এবার গুগলের (Google) এই ঘোষণার ফলে সেই চিনা মূলধন ছাড়াও এগোতে পারবে সংস্থাগুলি। পাশাপাশি, ঘুরে দাঁড়াবে ভারতীয় অর্থনীতিও।
সামনে যে কঠিনতর সময় আসছে, তা বেশ টের পেয়েছিল নবীন প্রজন্ম। আর প্রতিকূল সময়কে সাক্ষী করে নতুন সংগ্রাম শুরু করেছিল বামপন্থী ছাত্র, যুব সংগঠন। লড়াইটা ছিল ভুখা পেট ভরানোর। সমাজের বঞ্চিত, নিরন্ন নাগরিকদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে লকডাউনের মাঝে যাদবপুরে চালু হয়েছিল ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’। মূল মন্ত্র ছিল – ‘কেউ খাবে, কেউ খাবে না/ তা হবে না, তা হবে না।’ এই লক্ষ্য নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে সেঞ্চুরি পেরিয়ে গেল জনতার রান্নাঘর। রবিবার শততম দিনে খাবারের মেনুও ছিল একটু বিশেষ। এতগুলো দিন ধরে যাদবপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের আমজনতার সাড়া পেয়ে দিন বদলের আশায় বুক বাঁধছেন কমরেডরা।তারুণ্যের উদ্যমে কোন অসাধ্যই না সাধন হয়েছে? ইতিহাস তার সাক্ষী, যুগে যুগে, কালে কালে। করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) বিরুদ্ধে লড়াই যদি এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে লকডাউনের দিনগুলোয় রোজগারহীন অবস্থায় দিন কাটানোর সংগ্রামও খুব কম কঠিন ছিল না। এ সময়ে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাল, ডাল, হাতা, খুন্তি নিয়ে রান্নায় নেমেছিলেন বামপন্থী ছাত্র, যুবরা। আড়ালে থেকে তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছে সিপিএম। যাদবপুরের নবনগরের ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ থেকে ধোঁয়া ওঠা ভাতের গন্ধে কেমন একটা মায়ের ছোঁয়া পেয়েছেন ভুখা মানুষগুলো। সকাল-সন্ধে লাইন দেন সেখানে। মাত্র ২০ টাকায় ভরপেট খাবার মিলছে। রান্নার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্যাকেজিং করে, তবেই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এই রান্নাঘরে ঘুরে গিয়েছেন বাম নেতারা। সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম – তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। সত্তরোর্ধ্ব বিমান বসুকে পর্যন্ত ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’-এ রাঁধুনির ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল।রোজ এভাবে জনসেবা করতে করতেই যে কবে ১০০ দিন পার করে ফেলেছে এঁরা, হিসেব রাখেনি নিজেরাও। তবে হিসেব রেখেছে সময়। তাই তো রবিবার ইনিংসের শততম দিনে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয় ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’-এ। রোজ ডাল,ভাত,ডিম খাওয়া মানুষগুলোর হাতে তুলে দেওয়া খাবারের প্যাকেটে এদিন ছিল বাসন্তী পোলাও, চিলি চিকেন। রান্নাঘর সূত্রে খবর, এদিন নাকি সারাদিনে প্রায় ৫০ হাজার প্যাকেট বিলি করা হয়েছে। পেটপুরে ভালমন্দ খেতে পেরেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।আসলে যাদবপুর (Jadavpur) মানেই লাল নিশান। দীর্ঘদিন ধরে এই গড় বামপন্থীদের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ফাটল ধরলেও, ফের পুরনো জমি আর নতুন যোদ্ধাদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় রয়েছে সিপিএম। লকডাউনের কঠিন সময়ে ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ যেন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের হাতিয়ার। রবিবার যাদবপুরের নবনগরে উপস্থিত হয়ে মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্ররা সেই বার্তাই দিয়েছেন বারবার। বলতে চেয়েছেন, সিপিএম শোষিতের জন্য, শোষিতের পাশে বরাবর ছিল, আজও আছে, থাকবে ভবিষ্যতেও।
আদালতের নির্দেশে ইস্তানবুলের ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত স্থাপত্য হেগিয়া সোফিয়া (Hagia Sophia) মিউজিয়ামকে মসজিদে পরিবর্তিত করছে তুরস্ক সরকার। এরদোগান প্রশাসনের এহেন পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে বয়ে গিয়েছে নিন্দার ঝড়। এবার এই সিদ্ধান্তে দুঃখপ্রকাশ করলেন পোপ ফ্রান্সিস।রবিবার প্রার্থনার পর খ্রিস্টান বিশ্বের সবথেকে বড় ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেন, “সাগরের ঢেউগুলির সঙ্গে আমার চিন্তা পাড়ি দিচ্ছে সুদূর ইস্তানবুলে। যতবার হেগিয়া সোফিয়ার কথা মনে পড়ছে ততবার প্রচণ্ড মন খারাপ হচ্ছে আমার।” এদিকে, তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে প্রবল জানিয়েছে ফ্রান্স ও গ্রিস। মিউজিয়ামটিকে মসজিদে পরিবর্তিত করে রাজনৈতি উদ্দেশ্যপূরণে দেশের ইসলামিকরণ করছেন প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোগান বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে। বিবিসি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের সিদ্ধান্তের পর হেগিয়া সোফিয়ায় প্রথম নমাজ পাঠের জন্য বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়েছে। এমনকী স্থাপত্যের বাইরে বহু মানুষ জড়ো হয়ে আল্লা-হু-আকবর ধ্বনি তোলেন বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।ষষ্ট শতাব্দীতে (৫৩২-৫৩৭) তৎকালীন বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথমের নির্দেশে কনস্ট্যান্টিনোপল বা আজকের ইস্তানবুলে নির্মিত হয় হেগিয়া সোফিয়া গির্জা। প্রায় ৯০০ বছর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার এই ঐতিহাসিক কেন্দ্রটিকে ১৪৫৩ সালে ইস্তানবুল দখলের পর মসজিদে পরিণত করে অটোমান সাম্রাজ্য।১৯৩৪ সালে বিপ্লবের পর আধুনিক তুরস্কের রূপকার সেক্যুলার নেতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের জমানায় এই হেগিয়া সোফিয়াকে মিউজিয়াম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তারপর থেকে এটি তুরস্কের গর্বের সঙ্গে যুক্ত একটি স্থাপত্য। ইস্তানবুলের অন্যতম পর্যটনস্থল হিসাবে হেগিয়া সোফিয়া পরিচয় পায়। প্রতি বছর ৩৭ লক্ষ মানুষ, মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এই মিউজিয়াম পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু সরকারের নির্দেশে, বর্তমানে হেগিয়া সোফিয়া মুসলিমদের প্রার্থনাস্থলে পরিণত হতে চলেছে। প্রায় ৯০ বছর পর এখানে ফের নমাজ পড়বেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা।
লাদাখে চিনা আগ্রাসন মাথায় রেখে সমরসজ্জা বড়াচ্ছে ভারত। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এবার আমেরিকাকে অতিরিক্ত ৭২ হাজার সিগ-৭১৬ (Sig Sauer assault rifles) রাইফেলের বরাত দিচ্ছে সেনাবাহিনী।জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকা থেকে ৭২ হাজার সিগ-৭১৬ রাইফেল কিনেছে ভারত (India)। এবার একই পরিমাণের ওই অ্যাসল্ট রাইফেল কিনতে আমেরিকাকে ফের বরাত দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গিদমন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী অত্যাধুনিক সিগ-৭১৬ রাইফেল ব্যবহার করে। সেনাবাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত এই অস্ত্র চলে এলে শত্রুদের মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে। সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সেনার ইনফ্যান্টরি ডিভিশনের জন্য ৮ লক্ষ অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেলের প্রয়োজন। সেই চাহিদা মেটাতে ৭২ হাজার মার্কিন রাইফেলের বরাত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে 5.56mm INSAS (Indian Small Arms System) রাইফল ব্যবহার করছেন সৈনিকরা। তবে লড়াইয়ের মাঝে এই অস্ত্রগুলিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ার ঘটনা বহুবার ঘটেছে। ফলে প্রায় দু’দশক আগে সেনার হাতে আসা INSAS রাইফলের বিকল্প খুঁজছে ফৌজ।উল্লেখ্য, কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চললেও চিনের (China) সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্র সরকার। তাই গত জুন মাসে সেনার তিন বাহিনীকেই ৫০০ কোটি টাকা প্রতি প্রকল্পে অস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দিয়েছে মোদি সরকার। ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতিতে, সহজ কথায় লালফিতের জট এড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রতি প্রকল্পে হাতিয়ার কেনার জন্য সেনার তিন বাহিনীর সহ-প্রধানদের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর ফলে এবার প্রয়োজন বুঝলে প্রতিরক্ষামন্ত্রক বা একাধিক সংসদীয় কমিটির অনুমোদনের বেড়াজালে বা টেন্ডার প্রক্রিয়াকে পাশে সরিয়ে যুদ্ধের হাতিয়ার কিনতে পারবে ফৌজ। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি ও পরিস্থিতি মোতাবেক অস্ত্র আমদানি সম্ভব হবে।
লকডাউনের মারে বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, তখন একের পর এক সম্পত্তি বৃদ্ধির নজির গড়ে চলেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) । এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির তকমা আগেই পেয়েছিলেন। এবার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এলেন তিনি। পিছনে ফেললেন অ্যালফাবেটের অন্যতম কর্ণধার ল্যারি পেজকে।Bloomberg Billionair-এর সূচক অনুযায়ী এই মুহূর্তে বিশ্বের ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি ৬৩ বছর বয়সী এই ধনকুবের। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৭২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটির সমান। স্রেফ সোমবারই রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ। শেয়ারের এই দাম বৃদ্ধির ফলে একদিনেই আম্বানির সম্পত্তি বেড়েছে ২.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২২ দিনে যে হারে আম্বানির সম্পত্তি বেড়েছে তা এককথায় অবিশ্বাস্য। স্রেফ শেষ তিন সপ্তাহে আম্বানির সম্পত্তি বেড়েছে প্রায় ৭.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর এ সবই সম্ভব হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাধার দৌলতে।গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ফেসবুক। ফেসবুকের সঙ্গে রিলায়েন্স জিও’র রেকর্ড অর্থের চুক্তির পরই এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির তকমা পান মুকেশ আম্বানি। রেকর্ড ৪৩,৫৭৪ কোটি টাকার বিনিময়ে ফেসবুক (Facebook) রিলায়েন্স জিও’র (Reliance Jio) ৯.৯ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। উল্লেখ্য, জুন মাসের মাঝামাঝিই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি বেনজিরভাবে নিজেদের ঋণমুক্ত বলে ঘোষণা করে। আম্বানি নিজেই ঘোষণা করেন তাঁর সংস্থার সোনালি অধ্যায় চলছে। Bloomberg Billionair-এর সূচকও সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁরা বলছে, এই গতিতে সম্পত্তি বাড়তে থাকলে খুব শীঘ্রই বিশ্বের সেরা পাঁচ ধনী ব্যক্তির তালিকায় ঢুকে পড়বেন আম্বানি।
পাকিস্তানের নাগরিকদের মুখে ‘বন্দেমাতরম’ শোনার ইচ্ছা! আর সোনার পাথরবাটিতে খাবার খাওয়া নাকি একই বিষয়। দুটোই বাস্তবে সম্ভব হতে পারে না বলেই মনে করেন অনেকে। কিন্তু, করোনার আক্রমণ আর লাদাখে চিনের আগ্রাসন সেই অসম্ভব ঘটনাকেই সম্ভব করে তুলল। চিনের বিরোধিতা করে ভারতের সমর্থনে লন্ডনের রাস্তায় বন্দেমাতরম গাইতে শোনা গেল প্রবাসী পাকিস্তানিদের। বিরল এই ঘটনার কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন ভারতীয় নেটিজেনরা।লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সেনা জওয়ানদের সঙ্গে চিনের সেনার সংঘর্ষের পর থেকেই দুদেশের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। এর মাঝেই চিনের আগ্রাসী মানসিকতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়রা। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত চিনের দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গাও ভারতীয়দের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে সামিল হচ্ছেন চিনের অত্যাচারে দেশছাড়া তিব্বতিরাও। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি কিংবা কানাডা থেকে ব্রিটেন সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে একই ছবি। এবার লন্ডনের চিনা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভরত প্রবাসী ভারতীয়দের পাশে দাঁড়িয়ে চিনের মুণ্ডুপাত করতে দেখা গেল কয়েকজন প্রবাসী পাকিস্তানিকেও। ভারতীয়দের হাতে হাত মিলিয়ে গলা ছেড়ে বন্দেমাতরমও গাইলেন তাঁরা। যে দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না ভারতীয় নেটিজেনরা।এপ্রসঙ্গে ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের এক মানবাধিকার কর্মী আরিফ আজাকিয়া বলেন, ‘আজ জীবনে প্রথমবার আমি বন্দেমাতরম গাইলাম। শুধু তাই নয়, চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করলাম। ভারতীয়দের হাতে হাত মিলিয়ে চিনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলাম। বেজিং যা করছে তাতে এছাড়া তো কোনও উপায় নেই।’
স্বাস্থ্যই সম্পদ, সকল সুখের মূল। অনেক পুরনো নীতিকথা। সেই নীতি কথাতেই আস্থা দেখাচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেররা। জীবনই যদি না থাকে সম্পদে কী কাজ? সাম্প্রতিক করোন অতিমারী (CoronaVirus) এটাই ভাবাচ্ছে তাদের। তাঁরা এখন বুঝছেন, নিজেকে এবং সৃষ্টিকে রক্ষা করতে হলে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা পরিকাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন।‘কর ফাঁকি’, ‘কর ছাড়ের সুবিধা’, সেই সঙ্গে কর কমানোর প্রত্যাশা ধনকুবেররা চিরদিনই করে থাকেন। কিন্তু এ যেন উলট পুরাণ। বিশ্বের ৮০ জন ধনকুবের করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য তাঁদের কাছ থেকে উচ্চহারে কর আদায়ের আরজি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। এই ধনকুবেরদের বেশিরভাগই আমেরিকা ও ব্রিটেনের বাসিন্দা। সরকারের উদ্দেশ্য যৌথভাবে লেখা খোলা চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, ‘না, আমরা কেউ আইসিইউ বিভাগে অসুস্থদের সেবা করি না। তাঁদের হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুল্যান্স চালাই না। মুদির দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সাজাই না বা বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিই না। কিন্তু আমাদের কাছে যা আছে, তা হল অনেক অনেক অর্থ। এই সময় এবং সংকট কাটিয়ে ওঠার পরে আগামী কয়েক বছরেও যা বিশ্বের প্রয়োজনে লাগবে। সেই কারণে এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী, আমরা কোটিপতিরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যে, আমাদের থেকে বেশি কর নেওয়া হোক। অবিলম্বে, সামগ্রিকভাবে এবং স্থায়ী ব্যবস্থায় তা নেওয়া হোক।’ এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন অ্যাবিগেইল ডিজনি (Abigail Disney), টিম ডিজনি ও মেরি ফোর্ড।ধনকুবেরদের চিঠিটিতে বলা হয়েছে, ‘এই অতিমারীর (COVID-19) প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে বহাল থাকবে। এর জেরে লক্ষ লক্ষ পরিবার রোজগার হারিয়ে দারিদ্রসীমার নীচে চলে যাবেন। ইতিমধ্যেই প্রায় এককোটি শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অনেকের কাছে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম সামর্থ্যটুকু নেই। তাছাড়া হাসপাতালে শয্যার অভাব, মাস্ক ও ভেন্টিলেটরের অপ্রতুলতাজনিত যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের অভাব সুস্পষ্ট করে চলেছে। কিন্তু আমরা প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে সংকটের বিরুদ্ধে লড়ছি না, এবং তার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও আমাদের কম। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো আমাদের রোজগার হারানোর ভয় নেই। বাসস্থান, পরিবারের জন্য গ্রাচ্ছাদনের চিন্তা আমাদের করতে হয় না।’ সেকারণেই সরকারের কাছে তাঁদের আর্জি, ‘দয়া করে আমাদের থেকে কর নিন। কর নিন। কর নিন। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। এটাই একমাত্র সিদ্ধান্ত হতে পারে। আমাদের অর্থের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনুষ্যত্ব।’
আমেরিকায় কর্মরত চিনা কূটনীতিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। পালটা মার্কিন কূটনীতিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বদলা নিল চিনও। এই কূটনৈতিক যুদ্ধের জেরে চিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের খুব সাবধানে থাকতে পরামর্শ দিল ট্রাম্প প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং দক্ষিণ চিন সাগরের সমুদ্রসীমা নিয়ে চিন–মার্কিন বিবাদ দিনকে দিন অন্য মাত্রা নিচ্ছে।লাদাখে ভারত-চিন সংঘাতের ঘটনা চিন-মার্কিন সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ ভারত আমেরিকার ঘোষিত সামরিক জোটসঙ্গী। গত কয়েক মাস ধরেই করোনা ভাইরাস, বাণিজ্য যুদ্ধ, হংকং, দক্ষিণ চিন সাগর ইস্যুতে চিন–মার্কিন সংঘাত ক্রমশ যুদ্ধের উসকানি দিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা চিনের কমিউনিস্ট পার্টির তিন কর্মকর্তার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করল। ফলে এঁরা আমেরিকা ও আমেরিকার মিত্র দেশগুলিতে পা রাখতে পারবেন না। যাতায়াতও করতে পারবেন না। পালটা জবাবি পদক্ষেপ করল চিনও।চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চানিয়াং বলেছেন, আমরা আমেরিকাকে তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি। চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং চিনের স্বার্থের ক্ষতি হতে পারে এমন মন্তব্য ও কাজ থেকে তাদের বিরত থাকতে বলেছি। কিন্তু আমেরিকা আমাদের অনুরোধ না রাখায় কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক (American diplomat) -এর উপরে চিনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল। এদের মধ্যে রয়েছেন দুই রিপাবলিক সেনেটর মার্কো রুবিও এবং টেড ক্রাজ। এঁরা দু’জনেই চিনের কড়া সমালোচক। তিব্বত, উইঘুর, জিনজিয়াং, হংকং ইস্যুতে এঁরা দু’জন দুনিয়াজুড়ে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছিলেন। তাই চিন ও হংকংয়ে এঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল বেজিং (Beijing)।এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন চিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাঁরা যেন সাবধানে থাকেন। কারণ চিনের পুলিশ তাঁদের যে কোনও সময়ে বিনা কারণে গ্রেপ্তার বা হেনস্থা করতে পারে। গুপ্তচরবৃত্তির মিথ্যে অভিযোগে মার্কিন নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁরা কনস্যুলার অ্যাকসেস পাবেন না। তাঁদের বেজিংয়ের মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন নাগরিকরা পাবেন না কূটনৈতিক রক্ষাকবচ। চিন ও হংকংয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জীবনও বিপন্ন করতে পারে চিনের প্রশাসন। তাই মার্কিন নাগরিকরা যেন চিন ও হংকংয়ে খুব সাবধানে চলাফেরা করেন।
Web Desk: পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর লেকের জলে ভেসে উঠলো হলিউডের অভিনেত্রী নায়া রিভেরার মৃতদেহ। এক আন্তর্জাতিক সংবাদ পত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে, ছেলেকে নিয়ে সুইমিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। খোঁজ তল্লাশি করেও কোন হদিস মেলেনি, অবশেষে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ক্যালিফর্নিয়ার পিরু লেকে। চার বছরের ছোট ছেলে জোসে-কে নিয়ে বোটিং ও সুইমিং করতে গিয়েছিলেন হলিউড অভিনেত্রী নায়া রিভেরা। সেখান থেকেই আচমকা গায়েব হয়ে যান ৩৩ বছরের অভিনেত্রী। জানা গিয়েছে, বুধবার ছেলেকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা কান্ট্রির লস প্যাডরেস জাতীয় উদ্যানের লেক পুরুতে বোটিং করতে গিয়েছিলেন। দুপুর একটা নাগাদ একটি বোট ভাড়া করেছিলেন তাঁরা। প্রায় তিন ঘণ্টা পরও সেই বোট ফিরে না আসায় সন্দেহ প্রকাশ করেন কর্তৃপক্ষ। তার পরে ভাড়া নেওয়া বোট ফিরে এলেও নায়িকার বোট ফেরেনি। তার পরেই খোঁজ খবর শুরু হয়।
জানা গিয়েছিল, বোটে ছেলেকে বসিয়ে সাঁতার কাটতে জলে নেমেছিলেন নায়িকা। কিন্তু সেখান থেকেই তাঁর কিছু হয়ে গিয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত ভাবে শুরুতে জানাতে পারেনি পুলিশ। হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে তাঁর দেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হয়েছে গত পাঁচ দিন ধরে। তবে পুলিশের অনুমান ছিল লেকের জলে ডুবে যাওয়ার আগে হয়তো কোনও চোট খেয়েছিলেন তিনি। ফলে জলে পড়ে গিয়ে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। জলে ডুবেই সম্ভবত মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এরপরেই দেহ খুঁজে পাওয়ার পরই নায়া রিভেরার পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছেন মৃত্যুর পিছনে তাঁরা কোনও সন্দেহজনক কিছু পাননি। Reporter Aniruddha Benerjee