সোনু সুদকে শ্রদ্ধার্ঘ্য, সহায় সম্বল দিয়ে অভিনেতার নামে দোকান খুললেন পরিযায়ী শ্রমিক

ঈশ্বরের দূতের মতো এই করোনা আবহে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়েছিলেন সোনু সুদ। আর অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতেই নিজের সম্বলটুকু দিয়ে সোনু সুদের (Sonu Sood) নামে একটি দোকান খুলে ফেললেন পরিযায়ী শ্রমিক।কঠিন সময়ে যখন দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন, তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সোনু সুদ। করোনা আবহে একরাশ দুশ্চিন্তা মাথায় ভিন রাজ্যে বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছিলেন ওড়িশার যুবক প্রশান্ত কুমার প্রধান। পেটের দায়েই পরিবার ছেড়ে কাজ করতে যেতে হয়েছিল অন্যত্র। কিন্তু লকডাউনে আটকে অথৈ জলে পড়েছিলেন তিনি। কাজ নেই, পকেটে টাকা নেই, দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জুটতেও প্রায় বেগ পেতে হচ্ছিল। এমনই এক কঠিন সময়ে প্রায় ঈশ্বরের দূতের মতো অবতরণ ঘটল সোনু সুদের। বলিউড অভিনেতার আয়োজিত বিশেষ বিমানে তিনি ফিরতে পারলেন। এমন পরিস্থিতিতে যিনি নিঃস্বার্থে হাজারো শ্রমিককে বাড়ি ফিরিয়েছেন, সেই অভিনেতাকেই অভিনব শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন ওড়িশার পরিযায়ী শ্রমিক প্রশান্ত।বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংসারের যতই অভাব থাক, করোনা পরিস্থিতি কাটলেও এবার আর ভিন রাজ্যে পাড়ি দেবেন না কাজের জন্য। কারণ, আপদে-বিপদে পরিবারের থেকে দূরে থাকা যে কতটা কষ্টের আর চিন্তার, তা তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন এই লকডাউনে। তাই যা করার নিজের সম্বলটুকু দিয়ে সস্থানেই করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই সোনু সুদের নামে ওয়েল্ডিং শপ খুলে ফেললেন ওই শ্রমিক। কোচি বিমানবন্দরের কাছাকাছি এক সংস্থায় তিনি ওয়েল্ডিংয়ের কাজই করতেন। পারিশ্রমিক ছিল দিনে ৭০০ টাকা। বলিউড অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাধ করে দোকানের নাম রাখলেন ‘সোনু সুদ ওয়েল্ডিং শপ’। দোকানের সাইনবোর্ডে নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে সোনুর ছবি।মে মাসের ২৯ তারিখে সোনুর আয়োজিত বিশেষ বিমানে ১৬৮জন কোচি থেকে ওড়িশায় ফিরেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রশান্ত কুমার প্রধানও। বাড়ি ফিরে বলিউড অভিনেতার অবদান ভোলেননি। কারণ, তিনি যা উপকার করেছেন তা ভোলার নয়! তাই সোনু সুদকে শ্রদ্ধা জানাতে ভুবনেশ্বর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে হাতিনায় নিজের বাড়ির সামনেই একটি দোকান খুলে ফেললেন অভিনেতার নামে। Developed Reporter Samrat Ghosh

‘রাজ্যের চাপে পিছু হটল CESC’, টুইটে উপভোক্তাদের অভিনন্দন জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

ক্রমাগত চাপে কিছুটা পিছু হটেছে CESC। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, গত দু’মাসের বকেয়া বিদ্যুতের ইউনিটের টাকা আপাতত মেটাতে হবে না উপভোক্তাদের। বদলে শুধুমাত্র জুন মাসে ব্যবহার করা বিদ্যুতের বিল মেটালেই চলবে। CESC’র এই ঘোষণার পরই বিদ্যুৎমন্ত্রী টুইটে বললেন, ক্ষোভ-আন্দোলন ও রাজ্যের কড়া অবস্থানের কারণেই নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে ওই বিদ্যুৎ সংস্থা।ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। জুলাই মাসে CESC’র পাঠানো বিল দেখে মাথায় হাত পড়েছিল মধ্যবিত্তদের। কারও বিল এসেছিল ১০ হাজার তো কারও ২০ হাজার। কিন্তু লকডাউনে এই বিদ্যুতের বিলের বহর দেখে মাথায় হাত পড়েছিল কলকাতা ও তৎ সংলগ্ন এলাকার আমজনতার। এই বিভ্রাট থেকে রেহাই পাননি খোদ বিদ্যুৎমন্ত্রীও। এ নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন CESC’র আধিকারিকদের সঙ্গে। সেই সময় ওই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ থেকে লকডাউন (Lockdown) জারি করা হয়। তার ফলে বেশ কয়েকমাস বন্ধ ছিল মিটার রিডিং নেওয়া। এপ্রিল ও মে মাসে বাৎসরিক গড় বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিরিখে বিল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এত বিল কীভাবে মেটাবেন তা ভেবেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল সাধারণ মানুষের। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শামিল হয়েছিল বিক্ষোভে।লাগাতার বিক্ষোভে রবিবার পিছু হটতে বাধ্য হয় CESC। জানানো হয়, গত দু’মাসের বকেয়া বিদ্যুতের ইউনিটের টাকা আপাতত মেটাতে হবে না তাঁদের। এরপরই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় টুইটে বলেন, “আমি CESC’র উপর চাপ সৃষ্টি করি। ওদের কোনও যুক্তিতেই আমি খুশি হইনি। মিটিংও ডেকেছিলাম। রাজ্য ও রাজ্যবাসীর চাপের কাছে নতিস্বীকার করল CESC। যা নিশ্চিতভাবে এটা মানুষের পক্ষে আনন্দায়ক খবর। Developed Reporter Samrat Ghosh

কোথায় আর্থিক সংকট? ৪০ কেজি রুপোর পাত দিয়ে তৈরি হবে রাম মন্দিরের ভিত

করোনা আবহেই হবে রাম মন্দিরের (Ram Mandir) ভূমিপুজো। আগস্ট মাসের সেই অনুষ্ঠানে অযোধ্যায় (Ayodhya) হাজির থাকতে পারেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এবার সেই ভূমিপুজোয় ৪০ কেজি ওজনের রুপোর পাত দেওয়া হবে বলে খবর। যা নিয়ে ফের বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আগেই দেশজুড়ে রাম মন্দিরের (Ram Mandir) মডেলটিকে দেশজুড়ে ঘোরানো হয়েছে এবং পুজোও করা হয়েছে। এমনকী কুম্ভ মেলায় সাধু-সন্তদের মতামতও নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে গগনচুম্বী রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।  এবার আগস্ট মাসের ৩ তারিখ থেকে ভূমিপুজোর রীতি-রেওয়াজ শুরু হবে। ৫ আগস্ট দুপুর ১২.১৩ মিনিটে হবে ভূমি পুজো। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে হাজির থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও তিনি হাজির থাকবেন কি না, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এখনও কিছু জানায়নি।ভূমিপুজোর দায়িত্বে থাকবেন বারানসীর এক পুরোহিত। যিনি মার্চ মাসে রামের মূর্তি স্থাপনের দেখভাল করেছিলেন। প্রসঙ্গত, মন্দির তৈরির জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইঁট পাঠিয়েছিলেন ভক্তরা। এবার ভূমি পুজোয় দেওয়া হবে রুপোর পাত, তাতেই তৈরি হবে ভিত। পাঁচটি গম্বুজে আরও জমকালো হবে রাম মন্দির।  জানা গিয়েছে, মন্দিরের পাশে একটা বিশ্বমানের মিউজিয়াম তৈরি করা হবে। যেখানে মন্দির গঠনের ইতিহাস, গঠন শৈলীর বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকবে। প্রথমত, করোনা আবহে (Corona Virus) এই ভূমিপুজো ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। কীভাবে এর অনুমতি দিল যোগী প্রশাসন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। উপরন্ত, গোটা দেশের মানুষ যখন না খেতে পেয়ে মরতে বসেছে, এমন পরিস্থিতিতে ৪০ কেজি রুপোর পাত দানের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না নেটিজেনরা। Developed Reporter Samrat Ghosh

স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় লুট, দিনে দুপুরে প্রকাশ্যেই চলল দুষ্কৃতীদের গুলি

অর্থলগ্নি সংস্থাতে লুট করে পালানোর সময়ই গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তাতেই গুরুতর জখম হন এক ব্যক্তি। বর্ধমানে দিনে দুপুরে এই লুটের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থানা থেকে কিছুটা দূরেই এমন লুটের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান,দুষ্কৃতীদের হদিশ পেতে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শহর থেকে বাইরে বেরোনোর রাস্তা সিল করে দেওয়া হয়েছে। জেলার সীমানা এলাকাগুলোতে নাকা চেকিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। সেই সব ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হবে।

বর্ধমান থানার কিছুটা দূরেই বিসি রোড কালীতলা এলাকায় রাস্তার ওপরেই এই অর্থলগ্নি সংস্থা। সোনার বদলে অর্থলগ্নি করে তারা। জানা গিয়েছে, এদিন একটা নাগাদ দুষ্কৃতী ওই অর্থলগ্নি সংস্থায় ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে খুন করার ভয় দেখিয়ে লুটপাট চালায়। এরপরই তারা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় গুলি চালায়। তাতেই হীরামন মন্ডল নামে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। ওই সংস্থার এক কর্মী জানান, দুষ্কৃতীরা দলে ছ সাত জন ছিল। প্রত্যেকের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। মারধর করে তারা। প্রাণের ভয়ে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি। সবাইকে এক জায়গায় আটকে রেখে আধঘন্টা ধরে লুটপাট চালায় তারা। অনেক সোনাই তারা লুট করে নিয়ে গিয়েছে। পালানোর সময় সিঁড়িতে গুলি চালায় তারা.

হীরামন মন্ডলের পিঠে পাঁজরের উপর গুলি লাগে। সেই সঙ্গে তাঁর মাথাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি আহত অবস্থায় রাস্তার ধারে বসে পড়েন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে জখম হীরামন বলেন, তিনি বর্ধমানের সরাইটিকর এলাকার বাসিন্দা। কিছুদিন আগে তিনি এই অর্থলগ্নি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি টোটো চালান। তাঁর এক বন্ধুর সোনা ফেরতের বিষয় ছিল। তিনি সেই কাজে এই সংস্থায় ঢুকছিলেন।

তিনি বলেন, সিড়ি দিয়ে উঠছিলাম। হঠাৎই দেখি দু জন খুব দ্রুতগতিতে নেমে আসছে। আমাকে দেখেই তারা গুলি চালায়। আমার মাথাতেও বন্দুক দিয়ে আঘাত করে। তারা হিন্দিতে কথা বলছিল।তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার বলেন, দুষ্কৃতীরা হয়তো বেশ কিছুদিন ধরেই এই অর্থলগ্নি সংস্থার ওপর নজর রেখেছিল। ,জখম ব্যক্তিকে সিকিউরিটি গার্ড ভেবেই তারা গুলি চালিয়ে থাকতে পারে। এরপর তারা মোটর সাইকেলে দ্রুত এলাকা ছাড়ে। তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন তো নয়-মহাসাগর, পথকুকুরকে নিজের থালা থেকেই খাবার খাওয়াচ্ছেন ভিক্ষুক!

পথকুকুরদের যখন দিকেদিকে অত্যাচারের ছবি সামনে আসে প্রতিদিন, সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এল একটি ভিডিয়ো। পথকুকুরদের নিজের থালা থেকেই খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন এক ভিক্ষুক। নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে ভিডিয়োটি।

সংবাদপত্রের পাতা হোক বা নিউজ চ্যানেল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই পশুপাখিদের উপর মানুষের হিংস্র আক্রমণের খবর এক জলভাত। কেরালার গর্ভবতী হাতি হত্যাই হোক বা মধ্যপ্রদেশে গোরুকে ধর্ষণ, মানুষ নৃশংসতায় হার মানায় সবাইকে। কিন্তু সেই মানুষের মধ্যেই এমন কয়েকজনও আছেন, যাঁদের দেখলে বলতেই হবে, ‘এই তো দিব্যি বেঁচে আছে মানবিকতা’! এমনই এক মানুষের দেখা মিলল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সম্প্রতি ট্যুইটারে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন আইএফএস অফিসার সুশান্ত নন্দা। সেই ভিডিয়োতেই দেখা গিয়েছে মনজয়ী দৃশ্য। কী তা? ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তাতে থাকা একজন চালচুলোহীন বয়স্ক মানুষ নিজের খাবারের থালা থেকেই পথকুকুরদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। তিনি যখন খেতে বসছেন, তখনই তার পাশে ঘুরঘুর করছিল পথকুকুরদের দল। নিজের খাবারটা ঠিক মতো না খেয়েই তিনি বাকি খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন পথকুকুরদের। বোঝা যাচ্ছে, বৃদ্ধ একজন ভিক্ষুক। তবু, তাঁর মন রয়েছে আশ্চর্য ঐশ্বর্যে ভরা।

সুশান্ত নন্দা নিজেও ভিডিয়োটি শেয়ার করে নিজেও লিখেছেন, ‘গরিব পূর্ণ ঐশ্বর্যে। হৃদয়ে যিনি সবথেকে ধনী।’ ভিডিয়োটি শেয়ার হতেই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ২০ হাজার ছুঁয়ে চলেছে ভিউয়ের সংখ্যা, পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ করেছেন শেয়ার। ভিডিয়োটি দেখে দলে-দলে নেটিজেনরা তারিফ করেছেন মানুষটির। কেউ বলেছেন, ‘ওনার থেকে ধনী আর এই পৃথিবীতে কে আছে?’ কেউ বলেছেন, ‘শুধু ক্ষমতা থাকলেই হয় না, মনটাই যে আসল এই মানুষটা তা প্রমাণ করে দিয়েছেন।’ কেউ আবার লিখেছেন, ‘অমানুষের সমাজে একজন সত্যিকারের মানুষ।’

অবশ্য এমন মনজয়ী নজির আছে এই বাংলাতেও। বয়স ৮৭ বছর। সেই ছোট্টবেলা থেকে পথের কুকুর-বিড়ালরাই হয়ে উঠেছিল তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ওদের সুখ-দুঃখকেই নিজের সুখ-দুঃখ বলে ভাবতে শুরু করেন বর্ধমানের তৃপ্তি চক্রবর্তী। গোটা এলাকার লোকে একডাকে চেনে তাঁকে। পশুপাখিদের তিনিই যে অভিভাবক, তিনিই যে রক্ষাকর্তা। সেই তিনিই এখন শয্যাশায়ী। পথকুকুর-বিড়ালদের দেখভাল করা তো দূর, হাঁটাচলাও করতে পারেন না তিনি। কিন্তু তাতেও নিজের কাছের ‘বন্ধু’দের সবসময় দেখভাল করে চলেছেন তিনি। হাত পেতেছেন সাহায্যের জন্যেও।

আবার লকডাউনের মাঝে কলকাতাতেই দেখা মিলেছিল ললিতা নস্করের। বালীগঞ্জের জগন্নাথ ঘোষ রোডে বাড়ি। গত ৪০ বছর ধরে দক্ষিণ কলকাতার দীর্ঘ পথের কুকুর-বিড়ালদের তিনিই রক্ষাকর্তা, অন্নদাতা। বাড়িতে শয্যাশায়ী অসুস্থ স্বামী। পথকুকুরদের প্রতি ললিতা দেবীর ভালোবাসা তাঁকে নিজের সন্তানের থেকেও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। মা’কে ছেড়ে চলে গিয়েছেন ছেলে-বউমা-নাতি। কিন্তু পথকুকুর-বিড়ালদের ছেড়ে যেতে পারেননি তিনি। Developed Reporter Samrat Ghosh

সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতে আক্রান্ত ৩৫ লক্ষ, মৃত্যু ১.৪ লক্ষের! ভয়াবহ তথ্য রিপোর্টে

করোনার হাত থেকে রেহাই কবে? আশার কোনও খবর না থাকলেও আশঙ্কার খবর শোনাল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। তাঁদের সমীক্ষা বলছে, সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের মধ্যে দেশের ৩৫ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন মারণ ভাইরাসে। মৃত্যুও হতে পারে ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের।

কোনওভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় রেকর্ড গড়াটা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে মারণ ভাইরাস। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তর সংখ্যা ৩২ হাজারেরও গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু কবে মিলবে করোনার হাত থেকে রেহাই? সে বিষয়ে কোনও আশার তথ্য না মিললেও আশঙ্কার তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে। দেশীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের (IISc) সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের মধ্যে ভারতে করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন ৩৫ লক্ষ মানুষ!

শুধু তাই নয়, করোনার সংক্রমণের সঙ্গে-সঙ্গে মৃত্যুমিছিলও শুরু হবে আগের থেকে গতি বাড়িয়ে। সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, সেপ্টেম্বরের শুরুর মধ্যেই দেশে মৃত্যু হতে পারে ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের। তবে, দেশে যদি করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে বাঁধ দেওয়া যায়, তাহলে হয়ত কিছুটা কমানো যেতে পারে সংখ্যা। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের রিপোর্ট মোতাবেক, খুব ভালোভাবে সংক্রমণ রোখার চেষ্টা হলেও দেশে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আক্রান্ত হতে পারেন ২০ লক্ষ মানুষ! কিন্তু সে সময়ও দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা থাকবে প্রায় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার। খুব কম করে হলেও মৃত্যু হবে দেশের ৮৮ হাজার বাসিন্দার।

শুধু দেশ নয়, আলাদা-আলাদা রাজ্যের ক্ষেত্রেই রিপোর্ট তৈরি করেছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে করোনার সবচেয়ে বেশি প্রকোপ থাকা মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হতে পারেন ৬ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ। দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে দেশের রাজধানী দিল্লি। সেখানে আক্রান্ত হতে পারেন ২ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ। তৃতীয় স্থানে থাকবে গুজরাত। মোদীর রাজ্যের ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন মারণ ভাইরাসে। তামিলনাড়ুতে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ১ লক্ষ ৬০ হাজার আর কর্নাটকেও যা পরিস্থিতি, তাতে ২ লক্ষ ছুঁয়ে ফেলতে পারে আক্রান্তের সংখ্যা।

এই পরিস্থিিততে কেন্দ্রীয় সরকার ফের তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে লকডাউনের কথা চিন্তাভাবনা করছে। যদিও ইতোমধ্যে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও কর্নাটকে সামগ্রিক বা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দেশের সব থেকে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এই সপ্তাহের শেষ থেকেই লকডাউন করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি লকডাউনের পরিবর্তে অন্তত দু সপ্তাহ লাগাতার কড়া লকডাউন জারি করলে সংক্রমণ রোধে অনেক ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে, এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরেই গ্রহণ করা হবে লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত।

শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আরও বেশি পরিমাণে করোনা পরীক্ষার নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে কেন্দ্র৷ ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরির মাধ্যমে করোনা স্যাম্পেল পরীক্ষার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে৷ Developed Reporter Samrat Ghosh

পালঘর পিটিয়ে মারার মামলায় মোট ১১,০০০ পাতার পৃথক চার্জশিট পেশ

পালঘরে দুই সাধু ও তাঁদের গাড়ির চালককে পিটিয়ে মারার মামলায় (Palghar Lynching Case) অভিযুক্ত ১২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দু’টি চার্জশিট পেশ করল মহারাষ্ট্র পুলিশের সিআইডি। তিন মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ঘটনার ভাইরাল ভিডিয়ো দেখে শিউরে উঠেছিলেন নেটিজেনরা।

সিআইডি জানিয়েছে, এই পালঘর গণপিটুনির মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অকাঠ্য প্রমাণ জোগাড় করতে ১১৮ সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ৮০৮ জনকে জেরা করে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ১৫৪ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া, আরও ১১ নাবালককেও এই মামলায় আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের একজনকেও এখনও পর্যন্ত জামিনে ছাড়া হয়নি।

তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্র সিআইডির ডেপুটি সুপার বিজয় পাওয়ার এই মামলার তদন্তকারী অফিসার। বুধবার তিনি নিজে দহানুর JMFC আদালতে ১২৬ জনের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক চার্জশিট পেশ করেছেন।

করোনা লকডাউনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটায় আইপিসি ছাড়াও একাধিক আইনের সংশ্লিষ্ট নানা ধারায় ওই ১২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে মহামারী আইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, মহারাষ্ট্র পুলিশ আইন ও মহারাষ্ট্র জনসম্পত্তি সুরক্ষা আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধারার মধ্যে রয়েছে খুন, অস্ত্র হাতে দাঙ্গা, দুষ্কৃতীদের কাজে লাগিয়ে সরকারিকর্মীদের কাজে বাধা দান।

সিআইডি জানিয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ হাতে রয়েছে। তারা নাবালক হওয়ায় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে তাদের পেশ করতে হবে। সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সিআইডির এক কর্তা জানিয়েছেন, আদালত দস্তাবেজগুলি যাচাই-বাছাই করছে। তা শেষ হলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করবে আদালত।

১৬ এপ্রিল রাতে মুম্বই থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের পালঘরে দাদরা ও নগর হাভেলি সীমানার গাঢ়চিনচালে গ্রামে চোর ঢোকার গুজব ছড়ায়। এমনকী, চোরেরা শিশুদের (child-lifters) কিডনি কেটে নিয়ে পাচার করে দিতে পারে বলেও রটে যায় পুরো গ্রামে। আরও রটে যায় যে, চোরেরা গ্রামের মধ্যেই রয়েছে। এই অবস্থায় গ্রামবাসীরা সামনে পেয়ে যান দুই সাধু (monks) এবং তাঁদের গাড়ির চালককে। তাঁদেরই চোর ভেবে নৃশংস ভাবে মারধর শুরু করেন গ্রামবাসীরা। পুলিশ ওই তিন জনকে উদ্ধার করতে গেলে, তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের সামনেই বাঁশ-লাঠি দিয়ে পেটানো হয় ওই তিন জনকে। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃতদের পরিচয় চিকনে মহারাজ (৭০), সুশীলগিরি মহারাজ (৩৫) ও চালক নিলেশ তেলগাড়ে (৩০)। জানা যায়, লকডাউনের কারণে তাঁরা গাড়ি করে সুরাটে যাচ্ছিলেন। পরিচিত জনের শেষকৃত্যে যোগ দিতে।ওই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। সেই সব ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে চাপে পড়ে যায় উদ্ধব ঠাকরের সরকার। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রং চড়ানোরও চেষ্টা হয়। সকলের প্রতি আর্জি জানিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন, ‘গ্রামে গুজব ছড়িয়েছিল চোর ঢুকেছে। গ্রামবাসীরা ভেবেছিলেন, চোর গ্রামেই রয়েছে। তাই ওই তিন জনকেই চোর ভেবেছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা খুঁজতে যাবেন না। ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার কোনও দৃষ্টিকোণ নেই।’এই ঘটনার জেরে সাসপেন্ড করা হয় সংশ্লিষ্ট কষা থানার অফিসার আনন্দরাও কালেকে। শাস্তির মুখে পড়েন একাধিক পুলিশকর্মী ও সাব-ইনস্পেক্টর। নানা পদমর্যাদার ৩৫ জন পুলিশকর্মী-অফিসারকে বদলি করে দেওয়া হয়। জোর করে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পালঘর জেলা পুলিশের প্রধান গৌরব সিংকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় দত্তাত্রেয় শিন্ডেকে। Developed Reporter Samrat Ghosh

অগ্নিকাণ্ডে ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন রণতরি ডুবতে বসেছে সান দিয়েগোয়

অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ দিন পরেও ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো বন্দরের মার্কিন নৌঘাঁটিতে নোঙর করে রাখা মার্কিন রণতরির আগুন এখনও নিভল না! দমকল কর্মীরা এখনও হাল ছাড়েননি। আগুন নেভানোর সবরকম চেষ্টা চলছে। কিন্তু, ক্ষতি ঠেকানো যায়নি।

মার্কিন নৌবাহিনী (US Navy) বৃহস্পতিবার ঘোষণা করে, অগ্নিকাণ্ডে ৪৪ হাজার টন ওজনের অ্যাসল্ট যুদ্ধজাহাজ বনহোম রিচার্ডের (Bonhomme Richard) ভয়ানক ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে নৌ-অফিসার, নাবিকদের ওই যুদ্ধ জাহাজ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে, নতুন করে আর কেউ জখম হয়নি। সান দিয়েগো বন্দরে এখন ডুবতে বসার উপক্রম এই মার্কিন রণতরির। জেটি থেকেই জাহাজে নজর রাখছেন নৌসেনা অফিসাররা।

রিয়ার অ্যাডমিরাল ফিলিপ সোবেক দু-দিন আগেই জানিয়েছেন, ওই রণতরিতে থাকা ৬১ জন জখম হয়েছেন। নতুন করে আর কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ৬১ জনের চোট সামান্যই। জানা গিয়েছে, ৬১ জনের মধ্যে ৪০ জন মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিক। বাকি ২৩ জন সাধারণ নাগরিক। এই ৬১ জনের মধ্যে কয়েক জনের অল্প আঘাত লেগেছে। বাকিরা ধোঁয়ায়, আগুনের উত্তাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে, কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি।

১৯৯৮ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরে যুক্ত হয় ইউএসএস বনহোম রিচার্ড। মার্কিন মেরিন কোরের সমর হেলিকপ্টার ও স্থল সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই জাহাজটি তৈরি করা হয়।

নেভি নিউজ সার্ভিস (NNS) সূত্রে খবর, ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত মার্কিন এই রণতরির আগুন নেভেনি। দমকলকর্মীরা বনহোম রিচার্ডেই রয়েছেন। আগুন নেভাতে বিগত কয়েক দিন ধরে আপ্রাণ তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

NNS জানাচ্ছে, হেলিকপ্টার সি কমব্যাট স্কোয়াড্রন (HSC) -থ্রি ক্রমাগত হেলিকপ্টার থেকে জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। আগুনের তাপে ফ্লাইট ডেক ও জাহাজের কাঠামোর যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করছে HSC। আগুনে উত্তাপ খুব বেড়ে গেলে, দমকলকর্মীরা সেক্ষেত্রে জাহাজে থেকে কাজ করতে পারবেন না। তাই ওই রণতরিকে ঠান্ডা রাখতে হচ্ছে।

রক্ষণাবেক্ষণের জন্যই সান দিয়েগোর শিপইয়ার্ডে ছিল ওই রণতরিটি। রক্ষণাবেক্ষণে শেষে সেখান থেকে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান নিয়ে ওই রণতরির দক্ষিণ চিন সাগরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনা।

জানা গিয়েছে, ইউএসএস বনহোম রিচার্ডে মার্কিন নৌবাহিনীর এক হাজার সদস্য থাকার কথা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শিপইয়ার্ডে থাকায়, জাহাজটিতে দুর্ঘটনার সময় ১৬০ জন ক্রু ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের ৪০০-র বেশি কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

সূত্রের খবর, ১২ জুলাই শিপইয়ার্ডে মার্কিন বাহিনীর একটি ছোট জাহাজে বিস্ফোরণ থেকে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন বাহিনীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস বনহোম রিচার্ডে। কিন্তু, আদতে ছোট জাহাজ থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কি না, সেসম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত করে দেখছে মার্কিন নৌসেনা।

জাহাজে আগুন লাগার পরপরই অবশ্য সেখান থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।Developed Reporter Samrat Ghosh

ওঁরাই যোদ্ধা! করোনা যুদ্ধ জয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে বাইক অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি দিচ্ছে ‘Hero’

বিশেষ ধরনের এই বাইকে রয়েছে স্ট্রেচার। তার উপরে একটি ফোল্ডেবল হুডও রয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে ফার্স্ট এইড কিট– স্বাস্থ্যকর্মীদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় সবই থাকছে এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্সে।

করোনার কালবেলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল দেশের নামজাদা মোটরবাইক প্রস্তুতকারক সংস্থা Hero MotoCrop। দেশের কল্যাণস্বার্থে নিবেদিত প্রাণ যাঁরা, সেই সব স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা মাথায় রেখেই রাজস্থানের নিমরানা ও মুন্দেভারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংস্থার তরফে Hero Xtreme 200R ফার্স্ট রেসপন্ডার বা বাইক অ্যাম্বুল্যান্স তুলে দেওয়া হল। সংস্থার কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) প্রোগ্রাম অনুযায়ী এই বাইক কেবলমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছে Hero MotoCrop-এর তরফে।Hero Xtreme 200R বাইক অ্যাম্বুল্যান্সটি তৈরি করা হয়েছে জয়পুরের Hero মডেল অফ ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি এবং গুরুগ্রামের নিউ মডেল সেন্টারের ইঞ্জিনিয়ারদের যৌথ উদ্যোগে। বিশেষ ধরনের এই বাইকে রয়েছে স্ট্রেচার। তার উপরে একটি ফোল্ডেবল হুডও রয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে ফার্স্ট এইড কিট– স্বাস্থ্যকর্মীদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় সবই থাকছে এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্সে।এছাড়াও Hero Xtreme 200R বাইকে এলইডি ফ্ল্যাশার আলো, বেকন লাইট, আপৎকালীন ওয়্যারলেস সিস্টেম-সহ সাইরেনও থাকছে। প্রত্যন্ত গ্রাম যেখানে ত্রিসীমানায় কোনও হাসপাতাল বা ডাক্তার কিছুই নেই, সেখান থেকে রোগীদের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্স। আপাতত রাজস্থানের কয়েকটি কেন্দ্রে এই বাইক পৌঁছে দেওয়া হলেও, Hero MotoCrop-এর তরফে নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, পরবর্তীতে দেশের আরও দূর-দূরান্তের স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্স।Hero Xtreme 200R বাইকটি দৈর্ঘ্যে ২০৬২ মিলিমিটার এবং প্রস্থে ৭৭৮ মিলিমিটার। ১৬৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স রয়েছে দুর্দান্ত এই বাইকে। এ ছাড়াও এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্সের সামনে রয়েছে ৩৭ মিলিমিটারের টেলিস্কোপিক সাসপেনশন এবং অ্যান্টিফ্রিকশন বুশও। পিছনে থাকছে অ্যাডজাস্টেবল মনো সাসপেনশন। এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্সের ইঞ্জিনও বেশ ভালো এবং টেকসইও হবে বহুদিনের জন্য। ৪ স্ট্রোক, ২ ভালভ সিঙ্গেল সিলিন্ডার, এয়ারকুলড ১৯৯.৬ সিসির ইঞ্জিন রয়েছে Hero Xtreme 200R বাইকে।এই অ্যাম্বুল্যান্স বাইকের ৮০০০ আরপিএম যা সর্বোচ্চ ১৮.৪ পিএস পাওয়ার ও ৬৫০০ আরপিএম-এ সর্বোচ্চ ১৭.২ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। ৫ স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন গিয়ার বক্সও রয়েছে দুর্ধর্ষ এই বাইকে। সিকিওরিটির জন্য এখানে সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস ফিচার থাকছে। পাশাপাশিই ব্রেকিং মজবুত করার জন্য সামনে ২৭৬ মিমি ও পিছনে ২২০ মিমির ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। বাইকের তেল ট্যাংক ১২.৫ লিটারের।Developed Reporter Samrat Ghosh

তিন মাসে বাড়ল ১৩২ স্টল, সস্তা ও টাটকা সবজি-ফলে লকডাউনে হিট সুফল বাংলা

লকডাউনে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে সস্তায় টাটকা শাক-সব্জি এবং ফল পৌঁছে দিয়ে নজির গড়ছে সুফল বাংলা। সরাসরি গ্রামের কৃষকের থেকে সব্জি এনে শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ। বাজারদরের থেকে অনেক কমে সে-সব পাচ্ছেন মানুষ। করোনা আর লকডাউনের জাঁতাকলে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা এই প্রকল্প।

নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, করোনা-আতঙ্ক দূরে সরিয়ে গত তিন মাসে রেকর্ড ব্যবসা করেছে সুফল। লকডাউন ঘোষণার আগে রাজ্যের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা স্টল থেকে রোজ গড়ে ৬-৭ লক্ষ টাকার সব্জি বিক্রি হত। সেটাই এখন হয়েছে ২০-২১ লক্ষ টাকা। লকডাউনের মধ্যে মোট প্রায় ২৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সুফল বাংলার স্টলের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। মার্চে ১৩৪টি জায়গায় স্টল ছিল। তার মধ্যে কিছু স্থায়ী, বাকিটা ভ্রাম্যমাণ। জুলাইয়ে স্টল বেড়ে হয়েছে ২৬৬টি। কলকাতা, হাওড়া, সল্টলেক এবং নিউ টাউনেই রয়েছে ২৩০টি স্টল। ২২টি স্থায়ী। আনুমানিক প্রতিদিন দেড় থেকে দু’লক্ষ মানুষের কাছে কম দামে সব্জি পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকারের অধীন এই কৃষি বিপণন সংস্থা।

বিভাগীয় মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত জানান, লকডাউনে সুফল বাংলার স্টলে ক্রেতাদের ভিড় উত্তরোত্তর বেড়েছে। আগের চেয়ে বিক্রি তিন গুন গিয়েছে। সুফল বাংলার স্টল দেওয়ার জন্য অনেকে আবেদন করছেন। কাউন্সিলর, বিধায়ক এবং আবাসনের বাসিন্দারা সুফল বাংলার গাড়ি পাঠানোর অনুরোধ করছেন। স্টলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় শাক-সব্জির পাশাপাশি মাছও বিক্রি হচ্ছে। কম দামে ইলিশ মাছ বিক্রি করা যায় কি না, সে ভাবনাচিন্তাও চলছে।

সুফল বাংলার প্রকল্প অধিকর্তা গৌতম মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, শহরের বিভিন্ন বাজারে সব্জির যা দাম, সুফল বাংলায় তা মেলে অন্তত ১৫-২০ শতাংশ কম দামে। আলু-পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে সরকার থেকে বিশেষ ভর্তুকিতে সে-সবও বিক্রি করা হয়। কয়েক মাস আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা কিলো হয়েছিল। তখন সুফল বাংলায় দর ছিল ৪৯ টাকা। এই সব স্টল চালায় মূলত ফারমার্স প্রডিউসার কোম্পানিগুলি। তারা সরাসরি মাঠ থেকে সব্জি কিনে এনে বিক্রি করে। সে জন্যেই দামও কম। জিনিসপত্রের দাম রোজ ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। প্রতিটি স্টলেও তালিকা থাকে। স্বয়ংক্রিয় মেশিনে মালপত্র ওজনের পর ক্রেতাদের স্লিপ দেওয়া হয়। তাই ঠকবারও ভয় নেই। দামে কম, মানে ভালোর ব্যাপারটা আকর্ষণ করছে অনেককেই। শ্রীবৃদ্ধিও ঘটছে সুফল বাংলার।Developed Reporter Samrat Ghosh