Web Desk: করোনা ভাইরাস মহামারিরতে বদলে গিয়েছে গোটা বিশ্বের মানবজীবনের মানচিত্র। এমন পরিস্থিতিতে খেলাধুলা থেকে শুরু করে, পড়াশোনা, অফিস কাছারি সব কিছুই আমূল পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফাঁকা মাঠেই গোল দেওয়া মতো অবস্থা দেখা গিয়েছে ফুলবলের মাঠে। দর্শক ছাড়াই খেলা হয়েছে। এবার চলতি বছরের অক্টোবর–নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় হতে চলা T-20 বিশ্বকাপের ভাগ্য আজই নির্ধারিত হবে।
জানা গেছে, আজ সোমবার ICC-র প্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করবেন। এরপরেই নির্ধারণ হবে বিশ্বকাপের ভবিষ্যত। এবছর T-20 বিশ্বকাপ হবে কি হবে না। নাকি বিশ্বকাপ স্থগিত করার করা হবে। কারণ, অস্ট্রেলিয়াতে যে হারে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে শঙ্কা বেড়েই চলেছে। Reporter Aniruddha Benerjee
Web Desk: মারণ ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা রাজ্যে দিন দিন বেড়েই চলেছে। সুস্থের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ্যে কনটেনমেন্ট জোন ভিত্তিক লকডাউন চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত, রবিবার রাতে অ্যাডভাইসারি জারি করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
পাশাপাশি এবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী শহর ভিত্তিক বা জোন ভিত্তিক লকডাউন বৃদ্ধি করতে পারবেন জেলাশাসকেরা। পাঁচ-সাত দিনের জন্য। এই মুহূর্তে রাজ্যে বিভিন্ন এলাকার কনটেনমেন্ট ও বাফার জোনে লকডাউন চলছে। কিন্তু অনেক জায়গায় মানুষ নিয়ম মানছেন না। সেখানে স্থানীয় স্তরে অনেক পুরসভা ও পঞ্চায়েত লকডাউন করে রাখছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৪ শো ৮৭ জন। মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১১২ জন। Reporter Aniruddha Benerjee
Web Desk: বঙ্গ রাজনীতি টলমল করছে। দিন দিন একপর্যায়ে কোনাঠাসা অবস্থায় তৈরি হচ্ছে শাসকদল তৃনমূলের কর্মী সমর্থকদের। কখনও দলের অন্দরেই আবার কখনও প্রকাশ্যে। আর সেই সুযোগে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে বিজেপি। ব্যতিক্রম নয় বীরভূমও। অনুব্রত গড়েও পদ্ম শিবিরের জয়জয়কার। পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা লক্ষ্য করছেন কেষ্টদা তথা অনুব্রত মণ্ডল।
রবিবার সাঁইথিয়ায় এক কর্মিসভায় গিয়ে জেলা সভাপতি অনুব্রত বলেন, ‘কেউ দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন মমতা ব্যানার্জি খারাপ কাজ করেছে? আমার দলের কোনও কর্মী যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। এটা পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপলিটির ভোট নয়। এটা মা মাটি মানুষের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট।’ অনুব্রতর দাবি, মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় না থাকলে বাংলায় আবার অন্ধকার নেমে আসবে। আবার অশান্তি হবে। এত কাজ করে মমতা ব্যানার্জি যদি ভোট না পায়, তাহলে দুর্ভাগ্য। তবে রাজ্যে যে শাসকদলের উপর ভরসা উঠে যাচ্ছে তা এক প্রকার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিজেপি যত শক্তিশালী হয়েছে ততই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কমেছে তৃণমূল নেতাদের দাপট। আর তা টের পেয়েছেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ কেষ্টদাও। তাই খোলা মাঠে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে তাঁকে। Reporter Aniruddha Benerjee
Web Desk: প্রথম যাত্রায় বিঘ্ন দেখা যায়। এরপরে আজ অবশেষে সফল ভাবে যাত্রা শুরু করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মঙ্গল মহাকাশযান। সোমবার সকালে জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল আমিরশাহির মহাকাশযান ৷
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এর আগে দু’বার প্রস্তুতির পরেও মহাকাশযানের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল। এদিন অবশ্য প্রকৃতির রোষানলে পড়তে হয়নি। ফলে সুস্থ ভাবে মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করলেন। ২০০ মিলিয়ন ডলারের এই যানটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলগ্রহে পৌছাবে৷ Reporter Aniruddha Benerjee
Web Desk: অল্পের জন্য বড়সড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ট্রেনের লাইনে এসে ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা মারলেন মালবাহী লড়ি। এই ঘটনায় ট্রাক চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এর জেরে দূরপাল্লা বা লোকাল ট্রেনের যাতায়াতে কোনও প্রভাব পড়েনি বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার দুপুরে, মুম্বইয়ের কান্দিভালি স্টেশনের সামনে। দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ এই ঘটনা হয়। পশ্চিম রেলওয়ের পিআরও সুমিত ঠাকুর জানিয়েছেন যে কোনও এক ফাঁক দিয়ে গলে ট্রেনের ট্র্যাকে এসে গিয়েছিল ট্রাকটি। তখন সবে কান্দিভালি স্টেশন থেকে ছেড়েছে অমৃতসরগামী ট্রেন। সেটির ইঞ্জিনে গিয়ে ধাক্কা মারে এই ট্রাক। ট্রাক চালককে গ্রেফতার করেছে রেল পুলিশ। ট্রাকের ধাক্কায় ইঞ্জিনের একটা অংশ দুমড়ে গিয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। Reporter Aniruddha Benerjee
নতুন বিল না এলে পেমেন্ট নয়’, আশ্বাস বিদ্যুত্মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। ‘গড় বা গত বছরের জুনের ভিত্তিতে তৈরি করতে হবে বিল। কীভাবে হবে তার জন্যই সময় চেয়েছে সিইএসসি। বিলে এক পয়সা বেশি নেওয়া হয়নি, জানিয়েছে সিইএসসি। যাঁরা বিল দিয়েছেন, তাঁদের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সমাধান না মেলা পর্যন্ত বিল দিতে দেরি হলেও মিলবে ছাড়। লকডাউনে মানুষ ঘরে ছিল, বেশি বিদ্যুত্ খরচ হয়েছে। তিন মাসের বিল দেওয়াতে অঙ্ক অনেকটা বেড়েছে। লকডাউনে মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ। আর্থিক যন্ত্রণার উপর বিলের অঙ্ক বাড়ায় অসুবিধা। সরকারের পক্ষ থেকে সিইএসসি-কে যথেষ্ট চাপ দিয়েছি’, জানালেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই বিল পেমেন্ট করে ফেলেছেন, তাঁরা কি টাকা ফেরত পাবেন? যদিও এই সমস্ত প্রশ্নের এখনও কোনও জবাব নেই সিইএসসি’র কাছে।কলকাতা:এপ্রিল-মে মাসের CESC-র বিদ্যুতের বিল দিতে হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থা। তবে তা কি পাকাপাকিভাবে দিতে হবে না, নাকি আপাতত দিতে হবে না। এই প্রশ্নে সকাল থেকেই সরগরম। ইতিমধ্যেই সিইএসসি টোল ফ্রি নম্বরে একাধিক ফোন যেতে শুরু করেছে। একই সাথে প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই বিল পেমেন্ট করে ফেলেছেন, তাঁরা কি টাকা ফেরত পাবেন? যদিও এই সমস্ত প্রশ্নের এখনও কোনও জবাব নেই সিইএসসি’র কাছে।কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছে সিইএসসি। তা বলে শহর কলকাতা ও শহরতলির যে সব অংশে সিইএসসি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাদের ক্ষোভের আঁচ প্রশমিত হয়নি। রবিবার গোটা দিন জুড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ট্যুইটারে সিইএসসি নিয়ে নানা বার্তায় ছয়লাপ হয়ে গেছে। বাদ নেই সেলিব্রিটিরাও। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে যশ, প্রত্যেকেই নিজেদের বিদ্যুতের বিলের কপি দিয়ে ট্যুইট করেছেন।বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “ওই বিজ্ঞাপন দেখে কিছু বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।” এরই মধ্যে কলকাতার পাশাপাশি এবার হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগণার যে সমস্ত অংশে সিইএসসি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সেখানকার বাসিন্দারাও সিইএসসি অফিসে গিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছে। যেমন চিত্র পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমরা তিনজন। অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন আমাদের। বিশেষ করে এরকম অনিশ্চিত সময়ে আরও খরচ সামলে চলেছি সবাই। খুব গরম দুপুরে একটি ও রাতে শোবার সময় দুটি এসি চলে। কোনওদিন একসাথে তিনটি এসি চলে না আমাদের। সবই এলইডি আলো। তাও বারবার এরকম বিল! বিকল্প নেই!অসহায়!”একই সঙ্গে তিনি জানান, “মাননীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দ্বিগুণ বিল আমার! ৫ স্টার এসি কিনেছিলাম দাম দিয়ে বিদ্যুৎ বাঁচাতে! বলাই বাহুল্য এ মাসে ২০ হাজার বিল।” একই ধরণের অভিযোগ আঁখি চক্রবর্তীর। তাঁর অভিযোগ বিল আসে প্রতি মাসে ৩০০০ করে। সেটা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার টাকা। এটা কিভাবে সম্ভব ? সিইএসসি অবশ্য এখনও দাবি করে চলেছে তাদের হিসেবে কোনও বিল নেই। সংস্থার এম ডি দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়ের দাবি, গ্রাহকরা এখন ৫০% টাকা দিক। পরে আগামী দু’মাসে ২৫% করে টাকা দিয়ে বিল মিটিয়ে দেবেন। তবে গ্রাহকদের বক্তব্য, যে ভাবে বিলের অঙ্ক বোঝানো হচ্ছে তা অত্যন্ত জটিল। আর যে ভাবে বিল সিইএসসি তৈরি করেছে তাতে ত্রুটি আছে। ফলে সব মিলিয়ে বিদ্যুতের বিল নিয়ে জল্পনা জিইয়ে থাকল। Developed Reporter Samrat Ghosh
দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আনলকের দ্বিতীয় পর্বে একটু একটু করে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরা শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন রাজ্য৷ কিন্তু তার মধ্যেই প্রতি দিন আক্রান্তের নিরিখে রেকর্ড গড়ছে দেশ। পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। আর সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় জাঁকিয়ে বসছে ভারতের বুকে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪০,৪২৫ জন। এই বৃদ্ধির জেরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৩ জন। বিশ্ব সংক্রমণের নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৮১ জনের। মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭,৪৯৭। এখনও পর্যন্ত করোনায় সুস্থ হয়েছেন ৭ লক্ষ ৮৬ জন। এশিয়ার মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত
দেশের মধ্যে সব থেকে উদ্বেগজনক স্থানে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, তামিলনাডু ও দিল্লি ৷ সরকারি হিসেবে মহারাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ১০ হাজার ৪৫৫ আর মৃত্যু হয়েছে ১১,৮৫৪ জনের৷ গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯,৫১৮ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৬৯৩ আর মৃত্যু হয়েছে ২,৪৮১ জনের। এর পরেই রয়েছে দিল্লি, এ রাজ্যে আক্রান্ত ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৯৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩,৬২৮ জনের। কর্ণাটকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩,৭৭২ আর মৃত্যু হয়েছে ১,৩৩১ জনের।
গুজরাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮,৩৫৫ আর মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১৪২ জনের। উত্তরপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত ৪৯,২৪৭ জন । মৃত্যু হয়েছে ১,১৪৬ জনের। তেলেঙ্গানায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫,০৭৬ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৪১৫ জনের। অন্ধ্র প্রদেশে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৯,৬৫০ জন। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬৪২ জনের। পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৪৮৭, আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১১২। রাজস্থানে সংক্রমিত হয়েছেন ২৯,৪৩৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫৫৯ জনের।Developed Reporter Samrat Ghosh
এক মাস আগেই ট্রাকটি হয়তো তিরুঅনন্তপুরমে পৌঁছে যেত৷ কিন্তু লকডাউনের জন্য প্রায় একমাস ধরে ট্রাকটি অন্ধ্রপ্রদেশে আটকে ছিল৷এমনিতে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে কেরলের তিরুঅনন্তপুরম ট্রাকে পৌঁছতে ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগে৷ কিন্তু তাই বলে এক বছর? হ্যাঁ, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে রওনা দেওয়া ৭৪ চাকার একটি দৈত্যাকৃতি ট্রাক ঠিক এক বছর পর কমবেশি ১৭০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শনিবার তিরুঅনন্তপুরমে পৌঁছেছে৷ ওই ট্রাকটিতে বিক্রম সারাভাই স্পেস স্টেশনের জন্য ৭৮ টন ওজনের একটি যন্ত্র ছিল৷ সংবাদসংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে রওনা দিয়েছিল ট্রাকটি৷চারটি রাজ্য পেরিয়ে অবশেষে শনিবার ট্রাকটি তিরুঅনন্তপুরমে পৌঁছয়৷ অত্যন্ত ধীর গতিতে সতর্কতার সঙ্গে ট্রাকটিকে আনতে হয়েছে৷ যাতে যন্ত্রটির কোনও ক্ষতি না হয়৷ যে রাজ্য দিয়ে ট্রাকটি এসেছে, সেখানকার প্রশাসনের তরফে সেটির পথ করে দেওয়ার জন্য পুলিশ এসকর্টের পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থা করে দিতে হয়৷ অন্যান্য যানবাহন আটকে রাখার পাশাপাশি কোথাও খারাপ রাস্তা সারাই করতে হয়েছে, কোথাও আবার গাছের ডাল কেটে, বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে বিশাল এই ট্রাকটিকে পথ করে দিতে হয়েছে৷এমনিতে এক মাস আগেই ট্রাকটি হয়তো তিরুঅনন্তপুরমে পৌঁছে যেত৷ কিন্তু লকডাউনের জন্য প্রায় একমাস ধরে ট্রাকটি অন্ধ্রপ্রদেশে আটকে ছিল৷ওই ট্রাকটির সঙ্গেই তিরিশ জন ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীদের একটি দল ছিল৷ গোটা যাত্রাপথে যাতে যন্ত্রটি ঠিক থাকে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিলেন তাঁরা৷ যে যন্ত্রটি ট্রাকে ছিল, সেটির উচ্চতা ৭.৫ মিটার এবং চওড়ায় ৭ মিটার৷ এই বিপুল ওজন এবং আয়তনের যন্ত্রটি বহনে সক্ষম ট্রাকটির চেসিস বা পিছনের অংশও ছিল বিশালাকৃতির৷ কোথাও কোথাও গোটা রাস্তা জুড়েই এসেছে ট্রাকটি, অনেক জায়গায় গাছ কেটে রাস্তা চওড়া করতে হয়েছে৷ আবার দু’ জায়গায় সেতুর শক্তিবৃদ্ধি করতে লোহার বিশেষ গার্ডার ব্যবহার করতে হয়েছে প্রশাসনকে৷বিক্রম সারাভাই মহাকাশ কেন্দ্রের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যে যন্ত্রটি ট্রাকে করে আনা হয়েছে, সেটি বিভিন্ন মহাকাশ যান এবং মহাকাশ গবেষণার সরঞ্জাম তৈরির কাজে লাগবে৷ এক মাস পর থেকেই এই যন্ত্রটির ব্যবহার শুরু হওয়ার কথা৷Developed Reporter Samrat Ghosh
তমলুক: লকডাউন এর মাঝে বেঁচে থাকার অসম লড়াই। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং সেই সঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার ‘মারেঙ্গা স্টিক’কেই হাতিয়ার করতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। সহজ বাংলায় এই ‘মারেঙ্গা স্টিক’ আসলে আমাদের অতিপরিচিত সজনে ডাটা। করোনা যুদ্ধে তার ফলন বাড়াতে চান জেলার কৃষকরা।বৈজ্ঞানিক নাম মারেঙ্গা হলেও, ড্রামস্টিক কিংবা একেবারে গ্রামবাংলায় সজনে গাছ হিসেবেই পরিচিত একটি ধন্বন্তরি উদ্ভিদ। মূলত দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে এই গাছটি প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয়ে থাকে বৈজ্ঞানিকভাবে। খাদ্যগুণ অপরিসীম হওয়ায় দিনদিন বাড়ছে এর কদর। এই গাছের ছাল থেকে আয়ুর্বেদ ওষুধ তৈরি হয়ে থাকে। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত ভঙ্গুর এই গাছের পাতা ও ডাঁটায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম। যা মানবদেহের হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও বিভিন্ন রকম ভিটামিনের ভাণ্ডার হওয়ায় মানবদেহের শারীরিক গঠনে অত্যন্ত সহায়ক। শুধু তাই নয়, প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ক্যানসার প্রতিরোধ করে। একেবারে ধন্বন্তরীর মতই এই গাছের পাতা সেবন উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে। ভালো রাখে লিভারও। আন্তর্জাতিক বাজারে এই গাছটির অমূল্য ডাঁটা ও গুঁড়ো পাতা কেজি প্রতি প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় দেদার বিক্রি হয়।গ্রাম বাংলার এমন উপকারী উদ্ভিদ, কিন্তু দেশীয় বাজারে এর তেমন কোনও গুরুত্বই ছিল না এতদিন। চিকিৎসকরা অবশ্য বারবার এই গাছের পাতা ও ফলের সেবনের উপর জোর দিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেভাবে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। এমন পরিস্থিতিতে এবার পড়ে থাকা কিংবা ফেলে দেওয়া, ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা এই গাছটির পাতা ও ডাঁটা সংগ্রহ করে তার বিশ্বায়নের উপর জোর দেয় জেলা প্রশাসন। মূলত সিএডিসি’র তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই এই গাছের জেলা জুড়ে বিজ্ঞানসম্মতভাবে চাষ শুরু হয়েছে। সিএডিসি’র তত্ত্বাবধানে গত বছরই প্রায় দু’লক্ষ সজনে চারা নার্সারিতে প্রতিপালন শুরু করে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই প্রচুর পরিমাণ এ ফলন শুরু হয়েছে। আর তা থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি বছর প্রায় ৫ লক্ষ সজনের চারা প্রতিপালন শুরু হয়েছে খেজুরির ইরিঞ্চি এবং তমলুকের নিমতৌড়ি সেন্ট্রাল নার্সারিতে। বেঙ্গালুরু থেকে এই উন্নত মানের সজনে বীজ নিয়ে আসা হয়।তবে আচমকাই করোনা আবহে দীর্ঘ লকডাউনের জেরে ভেঙে পড়ে প্রায় গ্রামীণ অর্থনীতি। ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন গ্রামের মহিলারা। এই মহিলাদের কর্ম সংস্থানের সুযোগ এবং সেই সঙ্গে করোনা আতঙ্ক উড়িয়ে নতুন করে আলোর দিশা দেখাতে উদ্যোগী হয় জেলা প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে সিএডিসি’র তত্ত্বাবধানে এই সজনে ডাঁটা ও পাতা শুকিয়ে ড্রামস্টিক পাউডার মরিঙ্গা, লিভ পাউডার সংরক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তমলুকের রনসিনহাতে সিএডিসি’র দপ্তরে সোলার হাইড্রেটর মেশিনের সাহায্যে ফেলে দেওয়া এই সজনে পাতা ও বাড়তি ডাঁটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেই শুরু হয়েছে শুকিয়ে গুড়ো করে ডাস্ট পাউডার তৈরির প্রক্রিয়া।সিএডিসি’র তমলুক প্রকল্প আধিকারিক উত্তম কুমার সাহা বলেন, ”প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অভিনব এই প্রকল্পে জেলার প্রায় দু’শোটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলার স্বপ্ন রয়েছে। MGNREGS প্রকল্পে ১০ কেজি ডাঁটা ও পাতা শুকিয়ে প্রায় এক কেজি ওজনের পাউডার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে যেমন একদিকে কর্মদিবস বৃদ্ধি ঘটেছে, তেমনি করোনা আবহে বাজারে বিপুল পরিমাণ চাহিদাও পূরণ সম্ভব হবে।” Developed Reporter Samrat Ghosh